শালবনীতে করোনা যোদ্ধাদের হাতে নতুন পোশাক তুলে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন ‘টিম ছত্রছায়া’র, বোনাস দিল প্রশাসনও, বেতন বৃদ্ধি ও স্থায়ীত্বের দাবিতে অনড় অস্থায়ী কর্মীরা

বিজ্ঞাপন

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, শালবনী, ২৪ অক্টোবর: বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা। কিন্তু, করোনা আবহে উৎসবের রঙ ফিকে অনেকটাই! তা সত্ত্বেও, উৎসব প্রিয় বাঙালি নতুন জামা কাপড় পরে, সচেতনতা বজায় রেখেই মণ্ডপ কিংবা দেবী দর্শন করছেন। কেউবা, পরিবারের সাথে বেশিরভাগ সময়টা কাটিয়ে দূর থেকেই পুজোর আনন্দ অনুভব করছেন। কেউবা স্মৃতিরোমন্থনের মধ্য দিয়ে, একটা ‘নতুন পুজো’ বা ‘নতুন অভিজ্ঞতা’ অর্জন করছেন। কিন্তু, যারা এসব থেকে অনেকটাই দূরে মহামারীর মোকাবিলা করছেন একেবারে মুখোমুখি হয়ে, তাদের কাছে পুজোর আনন্দ বা অনুভূতির থেকেও এক মহান কর্তব্য পালনের দায়বদ্ধতা অনেক বেশি! সঙ্গে আছে, সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা। পুজোর মধ্যেও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তাঁদের পরিবার-পরিজনেরাও। শালবনী করোনা হাসপাতালে শতাধিক করোনা যোদ্ধা আছেন, যাদের চাকরির নিশ্চয়তাও নেই। অ্যাজেন্সি (Agency)’র মাধ্যমে অস্থায়ীভাবে নিযুক্ত হয়েও তারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে যাচ্ছেন। বেতন যৎসামান্য! এই করোনা যোদ্ধাদের মধ্যেই অন্যতম শালবনীর বংশী মাহাতো। যৎসামান্য আয় নিয়েও, শালবনীর অন্যতম স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা “ছত্রছায়া”র এবারের বস্ত্র বিতরণে সামান্য হলেও ভূমিকা রেখেছে সে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বদা পাশে থাকার চেষ্টা করে গেছে বিগত কয়েক বছর ধরে। জঙ্গলমহলের সহস্রাধিক দুস্থ ও অসহায় কচিকাঁচার হাতে পুজোর নতুন পোশাক তুলে দেওয়ার সাথে সাথে, করোনা যোদ্ধা বংশী ও আরো চারজনের হাতে পুজোর নতুন পোশাক তুলে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করল, শালবনীর ‘ছত্রছায়া’ গ্রুপ। গ্রুপের পক্ষে নূতন ঘোষ বললেন, “গত কয়েক বছরের মতোই, এই বছরও মহামারীর চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে, আমরা আদিবাসী অধ্যুষিত জঙ্গলমহলের এক হাজারেরও বেশি কচিকাঁচার হাতে পুজোর নতুন পোশাক তুলে দিয়েছি। শেষ মুহূর্তে আমরা পাঁচজন করোনা যোদ্ধার হাতেও পুজোর নতুন পোশাক তুলে দিয়ে শুধু তাদের মুখে হাসি ফোটানোই নয়, একটু শ্রদ্ধাও জানালাম। আমাদেরই বন্ধুবান্ধব, ভাই-দাদা-বোন-দিদি হয়েও তাঁরা পূজার মধ্যেও যে মহান কর্তব্য পালন করছেন, তা নিঃসন্দেহে নজিরবিহীন! শতাধিক এরকম অস্থায়ী সাফাই কর্মী বা করোনা যোদ্ধা আছেন শালবনী করোনা হাসপাতালে। ইচ্ছে থাকলেও, তাদের সকলের হাতে তুলে দেওয়ার মতো সামর্থ্য বা সাধ্য আমাদের হলো না!”

thebengalpost.in
শালবনী করোনা হাসপাতালের ৫ জন যোদ্ধাকে পুজোর উপহার তুলে দিল ‘ছত্রছায়া’ :

বিজ্ঞাপন

অপরদিকে, শালবনী, আয়ুশ সহ জেলার বিভিন্ন করোনা হাসপাতালে কর্মরত এরকম প্রায় তিন শতাধিক অস্থায়ী করোনা যোদ্ধাদের দাবি মেনে, এবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন তাদের হাতে পুজোর বোনাস হিসেবে ১০০০ টাকা করে তুলে দিয়েছে বলে জানা গেল। তবে, স্থায়ীকরণ ও বেতন বৃদ্ধির দাবিতে এই ধরনের অস্থায়ী কর্মীরা এখনো অনড়। আজ (২৪ অক্টোবর), অষ্টমীর দিন সকালে, শালবনী করোনা হাসপাতালের অস্থায়ী কর্মীরা এই দাবি তুলে জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন। পুজোর বোনাস গ্রহণ করলেও, তারা নিজেদের দাবিগুলি আরো একবার প্রশাসনের নজরে আনলেন। মূলত, ২০০ বেডের শালবনী করোনা হাসপাতালে তাদের উপযুক্ত বেতন দেওয়া হচ্ছে না বলেই অভিযোগ এই অস্থায়ী কর্মীদের। একইসঙ্গে, নিজেদের চাকরির বিষয়ে নিশ্চয়তা বা স্থায়ীত্বের দাবিও করলেন করোনা যোদ্ধারা। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কোনরকম কর্মবিরতি পালন না করে বা নিজেদের দায়িত্বে অবহেলা না করেই, তাঁরা এই প্রতীকী আন্দোলন করেছেন। এই বিষয়ে জেলা প্রশাসন বা জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে এখনো কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিমাই চন্দ্র মন্ডল জানিয়েছিলেন, “অস্থায়ী কর্মীরা সঠিক ভাবে নিজেদের কর্তব্য পালন করুন, আমরা ওনাদের বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে নিশ্চয়ই জানাবো।”

thebengalpost.in
শালবনী করোনা হাসপাতালে অস্থায়ী কর্মীদের আন্দোলন :

বিজ্ঞাপন