রাজ্য বিজেপিতে ফের কোন্দল প্রকাশ্যে! যুব কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর দিনই ইস্তফা দিলেন সৌমিত্র খাঁ

.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, কলকাতা, ২৪ অক্টোবর: ফের রাজ্য বিজেপি’তে কোন্দল প্রকাশ্যে এল! ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। আজ সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা’র অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তিনি জানিয়ে দেন, “শুভ মহা অষ্টমী। সকলে ভালো থাকবেন। আপনাদের খুবই সহযোগিতা পেয়েছি। আমি চাই বিজেপিকে সরকারে আনতেই হবে। তাই হয়তো আমার অনেক ভুল ছিল, যা দলের ক্ষতি করেছে। তাই আমি ইস্তফা দেব, সকলে ভাল থাকবেন। যুব মোর্চা জিন্দাবাদ, বিজেপি জিন্দাবাদ, মোদী জি জিন্দাবাদ।” এই বক্তব্য জানানোর পরই গ্রুপ ছেড়ে বেরিয়ে যান (Group থেকে Left হয়ে যান) সৌমিত্র। তবে তাঁর ইস্তফাপত্র গৃহীত হয়েছে কিনা এখনো জানা যায়নি।

thebengalpost.in
সৌমিত্র খাঁ :

.
.
thebengalpost.in
নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন সৌমিত্র খাঁ :

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মাত্র ছ’মাসও হয়নি, ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি করা হয়েছিল সৌমিত্র খাঁ কে। ‌ মুকুল ঘনিষ্ঠ হলেও তাঁর উপর আস্থা রেখেছিলেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ তথা বিজেপি নেতৃত্ব। কিন্তু, সেই আস্থার প্রতি সুবিচার করতে পারেননি সৌমিত্র, এমনটাই ওয়াকিবহাল মহলের মত। পদে আসার পরই, সম্পূর্ণ নিজের মত করে বা একক সিদ্ধান্তে জেলার যুব সভাপতিদের পরিবর্তন করেন সৌমিত্র। যা নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ ছিলেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সহ অন্যান্য নেতৃত্বরা। অবশেষে, গতকাল (২৩ অক্টোবর), সেই সমস্ত কমিটি ভেঙে দেওয়া হয় এবং যুব সভাপতি দের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানিয়ে দেন, “যতদিন না পর্যন্ত নতুন কমিটি তৈরি হচ্ছে, বা জেলা সভাপতি নির্বাচিত হচ্ছেন, জেলা সভাপতিরাই যুব সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।” রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের এই সিদ্ধান্তে অপমানিত হয়েই হয়তো সৌমিত্র খাঁ মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে, রাজ্য সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন! তবে এই বিষয়ে তাঁর আরও সহনশীল হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করছেন, তাঁর ঘনিষ্ঠ অনুগামী থেকে শুরু করে প্রায় সকল নেতৃত্বই। যেহেতু যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতির পদ থেকে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়নি, তাই রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা মিটিয়ে নেওয়া বা নতুন কমিটি করার বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া উচিত ছিল বলে মনে করছেন, মুকুল ঘনিষ্ঠ অনেক নেতাই। কারণ, নিজের মনোমত জেলা যুব সভাপতিদের নির্বাচন করে, প্রথম হঠকারিতা দেখিয়েছিলেন সৌমিত্র খাঁ’ই। বিজেপি’র মত সর্বভারতীয় দলে যা কখনোই শোভা পায় না! এই বিষয়ে মুকুল ঘনিষ্ঠ আরেক নেতা যুব মোর্চার রাজ্য সহ-সভাপতি শঙ্কুদেব পণ্ডা সংবাদমাধ্যমকে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, সৌমিত্র খাঁ’র অরো ধৈর্য্য ধরা উচিত ছিল। এই মুহূর্তে দলের যা ক্ষতি করবে, সে রকম কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করতে হবে।

thebengalpost.in
গতকাল (২৩ অক্টোবর, ২০২০) নেওয়া রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সিদ্ধান্ত :

.
.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে