সচেতনতার পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ পশ্চিম মেদিনীপুর! শহর মেদিনীপুর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও কিছুটা দুঃসাহসী খড়্গপুর

.

মণিরাজ ঘোষ, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৪ অক্টোবর: সচেতনতার পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা। ষষ্ঠী থেকে অষ্টমী, জেলার মানুষ আবেগ ও উচ্ছ্বাস নিয়ন্ত্রণ করে শ্রেষ্ঠ উৎসব পালন করেছে। স্বতঃস্ফূর্তভাবে করোনা বিধি’কে মান্যতা দিয়ে পুজোয় অংশগ্রহণ করেছে। মেদিনীপুর শহরের রবীন্দ্রনগর, বিধাননগর, রাঙামাটি, বার্জটাউন সহ বিভিন্ন মণ্ডপ সংলগ্ন মাঠের চিত্রই বলে দিচ্ছে, এবারের পুজো সত্যিই ব্যতিক্রমী! করোনা’কে হারাতে মানুষ বদ্ধপরিকর। ‘আগে জীবন পরে উৎসব’ এই লড়াইতে পশ্চিম মেদিনীপুরের মানুষ সত্যিই জয়ী হয়েছে। রাস্তাঘাটে যেটুকু লোকজন দেখা যাচ্ছে বা দর্শনার্থীরা বেরিয়েছেন, তাঁরা দূর থেকেই মণ্ডপ ও দেবী দর্শন করে বিদায় নিচ্ছেন! সচেতনতার পরিচয় দিয়েছে দুর্গোৎসব কমিটিগুলিও। বিধি মেনে দূর থেকেই দেবী দর্শন করার সুযোগ করে দিয়েই নয়, একটু ভিড় বা জটলা দেখলেই সচেতন করা হয়েছে মাইকে। পুলিশ তথা করোনা যোদ্ধা’রা তো করোনা যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই ‘হিরো’। পুজোর সময়ও তাদের ভূমিকা উল্লেখ করার মতোই। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশের শারদ শুভেচ্ছা জ্ঞাপক ও বস্ত্রদান অনুষ্ঠান ‘উৎসর্গ’তে পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার চতুর্থীর দিন (২০ অক্টোবর) জেলাবাসীর উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়েছিলেন, “মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোভিড বিধি মেনে চলুক, পুলিশ’কে জোর করতে যেন না হয়!” সেই বার্তা যে পশ্চিম মেদিনীপুরের মানুষ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে, তা বলাই বাহুল্য!

thebengalpost.in
অষ্টমীর সকালে মেদিনীপুর :

.
.
thebengalpost.in
অষ্টমীর সকালে মেদিনীপুর সদর ব্লকে :

প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আরো একটি পরামর্শ এবার মেনে চলছেন জেলার মানুষ। এবারের পুজোয় সন্ধ্যার পর রাস্তাঘাটে প্রায় দেখা যায়নি পঞ্চাশোর্ধ্ব পুরুষ ও মহিলাদের; খুবই কম দেখা গেছে ৫ বছরের নীচে বাচ্চাদের। পঞ্চাশোর্ধ্ব মানুষজন এবার সকাল সকাল অথবা দুপুরের মধ্যেই মণ্ডপ দেখা বা দেবী দর্শন সম্পন্ন করে নিয়েছেন কিংবা বাড়িতে বসে টিভি ও অনলাইনে পুজো দেখাতেই তাঁরা এবার স্বচ্ছন্দ ছিলেন। ভিড় বেশি যুবক-যুবতীদের, যেটা অত্যন্ত স্বাভাবিক! তবে, তাঁরাও ডিজাইনার বা ম্যাচিং মাস্ক পরেই বেরিয়েছেন। অষ্টমীর রাত্রি পর্যন্ত এই চিত্রটাই ধরা পড়েছে আমাদের চোখে। তবে, প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে মেদিনীপুর শহর একেবারে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, খড়্গপুর শহরে তুলনামূলকভাবে ভিড়ভাট্টা দেখা গেছে মণ্ডপ’গুলির সামনে! যদিও সচেতনতার অভাব ছিল না, পুজো কমিটিগুলির পক্ষ থেকে। বারবার মাইকে অ্যানাউন্স (ঘোষণা) করেও, কিছু কিছু মণ্ডপ থেকে দর্শনার্থীদের সরানো যাচ্ছিল না! যদিও, অন্যান্যবারের তুলনায় তা যথেষ্টই কম। অষ্টমী পর্যন্ত মানুষের এই সচেতনতায় খুশি, জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। সন্ধ্যার সময় জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (১) ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী এই প্রসঙ্গে রীতিমতো খুশি হয়ে জানিয়েছেন, “সংক্রমণের হার এই ক’দিনে বেশ কম! এবারের পুজোয় মানুষের সচেতনতা দেখে, সত্যিই খুব ভালো লাগছে।”

thebengalpost.in
অষ্টমীর সন্ধ্যারতি মেদিনীপুরে :

thebengalpost.in
মেদিনীপুর রামকৃষ্ণ মিশন :

thebengalpost.in
অষ্টমীর সন্ধ্যায় খড়্গপুর :

thebengalpost.in
অষ্টমীর সন্ধ্যায় খড়্গপুর শহরের রাস্তা :

.
.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে