দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৫ মে: করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসার পর, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার লেভেল ফোর করোনা হাসপাতাল শালবনী ফের পূর্ণ উদ্যমে কাজ শুরু করেছে। ২০০ শয্যার এই হাসপাতালে এই মুহূর্তে ১২৬ জন রোগী ভর্তি আছেন। ৫০ টি HDU বেড ছাড়াও আইসিসিইউ (ICCU) বেডগুলিও সঙ্কটজনক রোগীতে ভর্তি আছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তার মধ্যেই যথাযথ পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যে অবিচল হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। মঙ্গলবার এই হাসপাতাল থেকে একসঙ্গে ৩৫ জন রোগীকে করোনা-মুক্ত করে বাড়ি পাঠালেন চিকিৎসকরা। হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার ডাঃ বিদেশ দে জানিয়েছেন, “এবারের নতুন স্ট্রেইন আগের বারের থেকে অনেক বেশি বিপজ্জনক বলে মনে হচ্ছে! তার উপর এবার হাসপাতালে যারা ভর্তি হচ্ছেন, তাদের মধ্যে ৭০-৮০ শতাংশই ক্রিটিক্যাল বা সঙ্কটজনক। তার সঙ্গে কো-মর্বিডিটি থাকলে তো আর কথাই নেই! তাই, এবারের লড়াই আরও বেশি কঠিন। তার মধ্যেও সঠিক পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যে আমরা অবিচল।” একই কথা জানিয়েছেন হাসপাতালের সুপার ডাঃ নন্দন ব্যানার্জি। তিনি জানিয়েছেন, “এবারের পরিস্থিতি সত্যিই আরও মারাত্নক। আগের বার উপসর্গহীন বা স্বল্প উপসর্গযুক্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেশি ছিল। এবার, উপসর্গযুক্ত ও আশঙ্কাজনক রোগীর সংখ্যা বেশি।” তাই, কো-মর্বিডিটি থাকা এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের যথাসম্ভব বাড়ির মধ্যেই থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।


Whatsapp Group এ

অন্যদিকে, গত এক মাসের মধ্যে শালবনীতে অবস্থিত ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের নোট মুদ্রন প্রেস বা টাকশালে কর্মরত কর্মী ও তাদের পরিবার মিলিয়ে কলোনীতে বসবাসকারী শতাধিক বাসিন্দা করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে টাঁকশাল কর্তৃপক্ষ প্রথম দফায় ২১ থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পরে, তা বাড়িয়ে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। লাগামছাড়া সংক্রমণের মুখে ফের তা বাড়িয়ে আগামী ৮ ই মে পর্যন্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রসঙ্গত, গত ২৭ শে এপ্রিল পর্যন্ত টাঁকশালে মোট ৬২ জন সক্রিয় করোনা আক্রান্ত ছিলেন। ২৮ শে এপ্রিল থেকে ৪ ঠা মে পর্যন্ত সংক্রমিত হয়েছেন আরও ২২ জন। সবমিলিয়ে ৮৪-৮৫ জন করোনা আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গেছে টাঁকশাল থেকে। অন্যদিকে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় শালবনীতে মোট করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ৬ জন। এর মধ্যে ২ জন বিআরবি বা টাঁকশালের। বাকি ৩ জন শালবনী এলাকার এবং একজন OCL এর কর্মী। গত ৭ দিনে শালবনী ব্লকে মোট করোনা সংক্রমিত হয়েছেন প্রায় ৭০ জন!










