করোনা মোকাবিলায় “এগিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুর”, প্রশংসা মুখ্যসচিবের, গত ৪৮ ঘন্টায় সংক্রমণ কমল জেলায়

thebengalpost.in
পশ্চিম মেদিনীপুরের করোনা পরিষেবায় স্বস্তিপ্রকাশ রাজ্য সরকারের :
.

মণিরাজ ঘোষ, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৬ অক্টোবর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়্গপুর গ্রামীণে অবস্থিত, বিদ্যাসাগর শিল্পতালুকে আয়োজিত হল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক সভা। সভার শুরুতেই রাজ্যের নবনিযুক্ত মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। প্রশংসা করেছেন জেলা প্রশাসন তথা জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের। আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “সারা দেশ এবং রাজ্যের তুলনায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় সুস্থতার হার বেশি। জেলায় সুস্থতার হার এই মুহূর্তে প্রায় ৮৮ শতাংশ। জেলায় মৃত্যুর হারও রাজ্যের তুলনায় অনেকটাই কম। রাজ্যে মৃত্যুর হার যেখানে ১.৯১ শতাংশ, জেলায় সেখানে ১.৩৮ শতাংশ!” তিনি এও বলেন, পশ্চিম মেদিনীপুরে দ্রুত মানুষ সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার হারও কম। এখনো পর্যন্ত যে পরিমাণ টেস্ট হয়েছে, তার মধ্যে মাত্র ৭ শতাংশ মানুষের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এই ফলাফল অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক বলেই জানিয়েছেন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাক্তন মুখ্যসচিব তথা বর্তমানে ওয়েস্টবেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভলপমেন্টের চেয়ারম্যান রাজীব সিনহাও জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে জেলার করোনা পরিস্থিতি এবং করোনা চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। তিনি বলেন, “শালবনীতে কিছু সমস্যা থাকলেও বর্তমানে সেখানে ভালো পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে।” রাজ্যের তরফে এই প্রশংসায় খুশি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিমাই চন্দ্র মন্ডল এবং উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী প্রমুখ আজ উপস্থিত ছিলেন, প্রশাসনিক সভায়। ডাঃ সারেঙ্গী এই বিষয়ে বললেন, “এই প্রশংসা আমাদের আরো এগিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করবে। জেলায় সুস্থতার হার অনেক বেড়েছে। মৃত্যুর হার এখানে প্রথম থেকেই কম। লেভেল ফোর শালবনীতে কিছু সমস্যা হয়েছিল ঠিকই, তবে এই মুহূর্তে সেখানে চিকিৎসা পরিষেবা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য কর্মীর সংখ্যা সবকিছুই সন্তোষজনক। সকলেই খুব ভালো কাজ করছেন।” অপরদিকে, কোভিড চিকিৎসা পরিষেবা সংক্রান্ত কিছু পরামর্শও দেওয়া হয়েছে, জেলা প্রশাসন তথা জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর’কে। গৃহ নিভৃতবাসে থাকা সংক্রমিত’দের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা, সিটি ভ্যালু বা ভাইরাল লোড অনুযায়ী আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা করা, লোধা শবর সহ অনুন্নত ও পিছিয়ে থাকা সম্প্রদায়ের মানুষজনদের পুষ্টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া, এই সমস্ত বিষয়গুলোর উপর নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন যথাক্রমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজীব সিনহা। জেলাশাসক ডঃ রশ্মি কমল এবং জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিমাই চন্দ্র মন্ডল জানিয়েছেন, আগামীদিনে এই সমস্ত বিষয়গুলির উপর গুরুত্ব দিয়েই আরো সুন্দর ও ত্রুটিমুক্ত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হবে।

thebengalpost.in
পশ্চিম মেদিনীপুরের করোনা পরিষেবায় স্বস্তিপ্রকাশ রাজ্য সরকারের :

.

এদিকে, সোমবার ও মঙ্গলবার এই দু’দিনের করোনা রিপোর্টও জেলার জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক! গতকাল (৫ অক্টোবর), জেলায় করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ১৫৩ জন এবং আজ (৬ অক্টোবর), জেলায় সংক্রমিতের সংখ্যা মাত্র ১২৯। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে প্রাপ্ত এই তথ্য অনুযায়ী, বিগত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় সংক্রমণ যে অনেকটাই কম তা বলাই বাহুল্য! সর্বোপরি, জেলার প্রবল‌ সংক্রমিত এলাকা বা প্রথম থেকেই করোনা ‘হটস্পট’ হয়ে থাকা ঘাটাল মহকুমায় এই মুহূর্তে সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। গত দু’দিনে সংক্রমণ কমেছে খড়্গপুর ও মেদিনীপুর শহরেও। খড়্গপুরে গতকাল সংক্রমিত হয়েছিলেন ২২ জন এবং আজ সংক্রমিত হয়েছেন ২৩ জন। অপরদিকে, মেদিনীপুরে (শহর ও শহরতলী মিলিয়ে) গতকাল সংক্রমিত হয়েছিলেন মাত্র, ১১ জন এবং আজ (৬ অক্টোবর) সংক্রমিত হয়েছেন ২৭ জন। গড়বেতা, শালবনী, বেলদা, দাঁতন সহ অন্যান্য এলাকাতেও সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানা গেছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে।

.
.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে