দ্য বেঙ্গল পোস্ট বিশেষ প্রতিবেদন, মণিরাজ ঘোষ, ২২ মার্চ: ‘জনতা কার্ফু’র একবছর অতিক্রান্ত হল! গত বছর (২০২০), ঠিক আজকের দিনে (২২ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘জনতা কার্ফু’ ঘোষণা করেছিলেন ১২ ঘন্টার জন্য। সন্ধ্যার পর, দেশের সকল করোনা যোদ্ধা (Covid Warriors) তথা স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মানিত করা হয়েছিল- তালি বাজিয়ে, থালি বাজিয়ে, শঙ্খ বাজিয়ে এবং প্রদীপ জ্বালিয়ে। অজানা এক ভাইরাস-শত্রুর বিরুদ্ধে প্রাণ বাজি রেখে লড়াই শুরু করেছিলেন, স্বাস্থ্য যোদ্ধারা। প্রায় ১০ মাস লড়াই করার পর, বছরের শেষের দিকে কিংবা নতুন বছরের শুরুর দিকে (২০২১ এর জানুয়ারি) সংক্রমণের হার স্তিমিত হয়ে গিয়েছিল, নিয়ন্ত্রণে এসেছিল পরিস্থিতি। ধীরে ধীরে সবকিছুই স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল। কিন্তু, ফের আশঙ্কার এক কালো মেঘ ঘনিয়ে আসছে যেন! মার্চ মাসের শুরু থেকে প্রতিদিনই হু হু করে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। সংক্রমণ সর্বাধিক মহারাষ্ট্রে। সেখানে একাধিক শহরে লকডাউন এবং নাইট কার্ফু চলছে। তবে, সারা দেশ জুড়েই ফের যেন লকডাউনের ভ্রুকুটি দেখা যাচ্ছে!


Whatsapp Group এ
প্রসঙ্গত, চীনের উহান (যুহান) প্রদেশ থেকে ছড়িয়েছিল করোনা সংক্রমণ। সঠিক তারিখ জানা না গেলেও, ২০১৯ এর নভেম্বর মাসে বলে জানা যায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী। চীনের বাইরে, বহির্বিশ্বে সংক্রমণ ছড়িয়েছে ২০২০’র জানুয়ারি মাসে। ভারতবর্ষে করোনা সংক্রমণের সূত্রপাত ৩০ শে জানুয়ারি (২০২০), কেরালায়। চীন থেকে কেরালায় ফিরে আসা ৩ জন পড়ুয়ার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছিল। অপরদিকে, পশ্চিমবঙ্গে প্রথম সংক্রমিতও বিদেশ ফেরত এক যুবক। রাজ্যের এক পদস্থ আমলার ওই পুত্রের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছিল ১৭ ই মার্চ। এরপর, ধাপে ধাপে রাজ্যে বেড়েছে করোনা সংক্রমণ। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় প্রথম করোনা সংক্রমিতের সন্ধান মিলেছিল, দাসপুর ১ নং ব্লকের, নন্দনপুর ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের নিজামপুরে। মহারাষ্ট্র ফেরত বছর তিরিশের এক স্বর্ণশিল্পীই (গণেশ চন্দ্র জানা) এই জেলার প্রথম করোনা আক্রান্ত। এরপর, জেলার দ্বিতীয় ও তৃতীয় করোনা সংক্রমিত হিসেবে, তাঁর বাবা ও স্ত্রী’র রিপোর্টও পজিটিভ এসেছিল। ধীরে ধীরে পুরো জেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল সংক্রমণ!


এদিকে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় (২১ মার্চ) সারা দেশে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ৪৬,৯৫১ জন। মৃত্যু হয়েছে ২১২ জনের। মাত্র ১ দিন আগে, ২০ মার্চ সংক্রমিত হয়েছিলেন ৪৩ হাজার ৮৪৬ জন। মৃত্যু হয়েছিল ১৯৭ জনের। ফলে, প্রতিদিনই বাড়ছে সংক্রমণ। ক্রমেই তা ভয়াবহ আকার নিচ্ছে! মহারাষ্ট্র এবং পাঞ্জাব এর অবস্থা রীতিমতো আশঙ্কাজনক। এছাড়াও কেরালা, দিল্লি, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ সহ একাধিক রাজ্যেই বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। গত চব্বিশ ঘণ্টায়, ৪০০ ‘ র ঘর ছাড়িয়ে গেল রাজ্যের করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। গতকাল (২১ মার্চ) সন্ধ্যার বুলেটিন অনুযায়ী রাজ্যে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন, ৪২২ জন (২০ মার্চ ছিল ৩৮৩ জন)। মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। কলকাতা (১৫৮) ও উত্তর ২৪ পরগণায় (৯৮) ভয়াবহ ভাবে বাড়ছে সংক্রমণ। দক্ষিণ ২৪ পরগণা, হাওড়া, হুগলি, পশ্চিম বর্ধমানে প্রায় ২০ জন করে সংক্রমিত। জঙ্গলমহলে এখনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, স্বাস্থ্য আধিকারিক এবং চিকিৎসকরা সতর্ক করে দিচ্ছেন বারেবারে। পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া প্রভৃতি জেলায় প্রতিদিন এখন ২-৪ জন করে সংক্রমিত হচ্ছেন। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত দু’দিন (২০ ও ২১ মার্চ) পশ্চিম মেদিনীপুরে সংক্রমিত হয়েছেন যথাক্রমে ১ জন করে, মোট ২ জন। জেলা থেকে শুরু করে রাজ্য ও দেশে করোনা ভ্যাকসিনেশন চলছে সফলভাবে। এদিকে, ভ্যাকসিন নিতে অনেকেই অনীহা প্রকাশ করছেন, এই প্রবণতা বা লক্ষণ’টিকে “মারাত্মক” বলে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।











