দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, ঝাড়গ্রাম, ৮ নভেম্বর: শাল মহুয়ার দেশে শবর পরিবারের হাতে শালপাতার থালা তৈরির মেশিন তুলে দিয়ে একমাত্র কন্যার পঞ্চম জন্মদিন স্মরণীয় করে রাখলেন, মেদিনীপুর ছাত্রসমাজের সক্রিয় সদস্য অভিজিৎ চক্রবর্তী ও শর্বরী চক্রবর্তী। অভিজিৎ ও শর্বরী’র একমাত্র কন্যা অর্চিশা চক্রবর্তী (মুনু) এর পাঁচ বছরের জন্মদিন উপলক্ষ্যে, বেলপাহাড়ির শাঁখাভাঙা গ্রামের গণেশ শবরের হাতে তুলে দেওয়া হয়, শালপাতার থালা তৈরির মেশিন। একটি শবর পরিবারকে স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যেই এই প্রচেষ্টা বলে জানিয়েছেন, অভিজিৎ বাবু ও শর্বরী দেবী।

ঝাড়গ্রাম জেলার বেলপাহাড়ির শাঁখাভাঙা গ্রামের গণেশ শবরের পরিবারে মোট ১০ জন সদস্য। অরণ্য নির্ভর জীবনে, কোনমতে পাতা কুড়িয়ে, ঝাঁটিকাঠ বিক্রি করে সংসার চলত। দু’বেলা দু’মুঠো জুটতনা পেট ভরা খাবার। তাই, অসহায় ও হতদরিদ্র এই পরিবারের সদস্যদের একটু স্বাবলম্বী করে তুলতেই এই ভাবনা বলে জানিয়েছেন, মেদিনীপুর ছাত্রসমাজের সদস্যরাও। তাঁরা বলেন, এই শালপাতা তৈরীর মেশিনের মাধ্যমে, যেটুকু আয় হবে, পরিবারের ১০ জনের অন্তত দু’বেলা দু’মুঠো খাবারের সংস্থান হয়ে যাবে। এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, অর্চিশার বাবা অভিজিৎ চক্রবর্তী, সমাজকর্মী ঝর্ণা আচার্য্য, মেদিনীপুর ছাত্রসমাজের সহ সভাপতি আগন্তুক ঘোড়াই, সহ সম্পাদক অনিমেশ প্রামানিক, কোষাধ্যক্ষ কৌশিক কঁচ, লিয়াকত আলি প্রমুখরা।

মেদিনীপুর ছাত্রসমাজ এর সহ-সভাপতি আগন্তুক ঘোড়াই জানান, “মেদিনীপুর ছাত্রসমাজ সারা বছরব্যাপী বিভিন্ন সমাজ সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়ে থাকে। আজকের এই কর্মকান্ড আসলে একটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করার ক্ষুদ্র প্রয়াস মাত্র! অর্চিশা (মুনু)কে অনেক ভালোবাসা।” সমাজকর্মী ঝর্ণা আচার্য্য বলেন, “গতমাসে গনেশ শবর ও তার পরিবারের উপর অত্যাচার হয়! তারা গ্ৰামে একঘরে হয়ে আছেন। কাজ নেই। এই প্রয়াসে শুধুমাত্র একটি শবর পরিবার নয়, পরোক্ষে অনেকগুলো পরিবারের কর্মসংস্থান হবে। আমার আবেদনে মেদিনীপুর ছাত্রসমাজ এগিয়ে এসেছে, তাই তাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আগামী দিনেও পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক জনজাতির পাশে দাঁড়িয়ে স্বনির্ভর করে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাব আমরা, এই অঙ্গীকার করছি।”







