সঙ্কীর্ণ রাস্তা, দোকানের সামনে টোটো আর বাইকের মিছিল, করোনা আবহেও মেদিনীপুর বড়বাজার যেন ‘কুরুক্ষেত্র’, অভাব অনুভূত হচ্ছে নাজিম আহমেদের

.

সম্রাট পন্ডিত, মেদিনীপুর, ১৭ অক্টোবর: করোনা আবহের মধ্যে করোনা আতঙ্ককে দূরে সরিয়েই বাঙালি তথা মেদিনীপুর বাসী পুজোর বাজারে মেতে উঠেছে। বাঙালির এই চিরন্তন আবেগে আঘাত দিতে না চেয়ে, প্রশাসন কিংবা বিশেষজ্ঞরা বার বার সতর্ক করে বলছেন, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে এবং মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে। শেষের দুটো নাহয় হল, কিন্তু প্রথমটির (নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার) তো উপায় নেই! পুজোর বাজার বলে কথা, করোনা-ফরোনা ছাড়ুন তো বাপু! যদিও, সচেতন নাগরিকরা কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখতেই সচেষ্ট। আর, বাকিদেরও দূরত্ব বজায় রাখার জন্য একে অপরকে সাহায্য করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকেই। সেসব নাহয় হল, কিন্তু, মেদিনীপুর শহরের পুজোর বাজারের প্রাণকেন্দ্র রূপে পরিগণিত বড়বাজারে যে সবথেকে বড় সমস্যা ‘যানজট‘! আর এতেই, একদিকে করোনা-ভীতি, অন্যদিকে যানজট-যন্ত্রণাতে নাভিশ্বাস উঠছে শহরবাসীর। কিন্তু, এজন্যও পরোক্ষে দায়ী মানুষ নিজেই। পায়ে হেঁটে যে কাজটা করা যায় বা শরীরটাকেও সুস্থ রাখা যায়, সেটার জন্যই একেবারে দোকানের দরজা পর্যন্ত টোটোয় চেপে পৌঁছে যাচ্ছেন!

thebengalpost.in
মেদিনীপুর বড়বাজারে যানজট :

.

মেদিনীপুর শহরে পুজোর কেনাকাটার অন্যতম প্রধান প্রাণকেন্দ্র বড়বাজার অঞ্চলে, শুধু আজ নয়, দীর্ঘদিন ধরে যানজটের সমস্যা চলে আসছে। বিভিন্ন ছোট-বড় দোকানের সমাহার ঘটেছে বড়বাজারের প্রধান রাস্তার দুই ধারে বা দুই পাশে। অপরদিকে, সেই রাস্তাটি এতটাই সংকীর্ণ যে একটু ভিড়ভাট্টা আর তার সঙ্গে সাইকেল-বাইক হয়ে গেলেই রাস্তা পারাপার করতে রীতিমতো সমস্যা হয়। এর সঙ্গে আগে ছিল রিক্সা’র দাপট, আর এখন হয়েছে টোটোর আধিপত্য! ফলে, করোনা কালেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলা দুস্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে, উৎসবের মরসুমে পরিস্থিতি আরো খারাপ! প্রতিটি দোকানের সামনে মোটর সাইকেল, টোটো দাঁড়িয়ে থাকার ফলে এক অস্বাস্থ্যকর ও ভয়ঙ্কর অবস্থা তৈরি হচ্ছে। এর সাথে, দোকান গুলির মাল নিয়ে আসা হচ্ছে অটো, টোটো, টলিতে করে। ফলে, পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে!

thebengalpost.in
মেদিনীপুর বড়বাজারের ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে টোটো, তৈরি হচ্ছে যানজট :

.

কিন্তু, প্রশাসনের তরফ থেকে আজও কোনো সুষ্ঠু সমাধানের পথ বের করা হয়নি! তবে, পুজোর এই সময়টাতে রিক্সা বা টোটো ঢোকা বন্ধ করে দেওয়া হয়, পৌরসভার পক্ষ থেকে। কিন্তু, আশ্চর্যজনকভাবে এই বছর তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি এখনো পর্যন্ত। করোনা পরিস্থিতি বলেই হয়তো এবছর সবকিছুতেই ছাড় দেওয়া হয়েছে! কিন্তু, তাতে মানুষের সমস্যা বাড়ছে বই কমছেনা! পুজোর এই সময়টাতে, মেদিনীপুরের দীর্ঘদিনের বাসিন্দারা হয়তো, প্রয়াত (২০১৪) প্রাক্তন পৌরপ্রধান নাজিম আহমেদের অভাব বোধ করবেন প্রচন্ডভাবে। পুজোর বাজারের ভরা সময়টাতে, তিনি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বড়বাজারের ভেতরে রিক্সা ঢোকা বন্ধ করতেন। তবে, বিগত বছরগুলোতেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যতিক্রম শুধু এই বছর! নিয়ম মেনে ব্যবসা-বাণিজ্য করা কিংবা পুজোর কেনাকাটা করা, দুটো বিষয়’কেই সমর্থন জানিয়েও বলতে হয়, বড়বাজার’কে যানজট মুক্ত করতে উদ্যোগী হতে হবে, একযোগে প্রশাসন, ব্যবসায়ী এবং মানুষ’কে। মানুষ চাইছেন বলেই, টোটো ঢুকে যাচ্ছে একেবারে দোকানের সামনে পর্যন্ত! দোকানীদেরও একজোট হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। তবে, খদ্দের এবং দোকানীদের উদ্যোগের সাথে সাথে, প্রশাসনকেও কঠোর হাতে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে এবং পার্কিং এর জন্য নির্দিষ্ট জায়গার ব্যবস্থা করতে হবে।

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে