একুশের যু্দ্ধে ইশতেহার-হাতিয়ার! একনজরে বিজেপি, তৃণমূল ও বাম সংযুক্ত মোর্চার ‘ইশতেহার’ দেখে নিন

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, কলকাতা, ২১ মার্চ : সময় বদলেছে। বদলাচ্ছে মানুষের মন, চাহিদা। তাই, এখন আর শুধু মৌখিক প্রতিশ্রুতি নয়, জনগণ চায় লিখিত অঙ্গীকার-পত্র। নির্বাচনী লড়াইতে তাই ‘ইশতেহার’ নিয়েই মাঠে নামতে হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলিকে। একুশের যু্দ্ধে ‘ইশতেহার’ (ইস্তেহার) বা ম্যানিফেস্টো এখন প্রচারের অন্যতম হাতিয়ারও বটে। আজকেই প্রকাশিত হল, বিজেপির ইশতেহার। এর আগে প্রকাশিত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের ইশতেহার। সবার আগে ইশতেহার প্রকাশ করেছে বামেরা। একনজরে দেখে নেওয়া যাক, তিন প্রধান রাজনৈতিক দলের সংক্ষিপ্ত ইশতেহার।

thebengalpost.in
বিজেপির ইশতেহার প্রকাশ (ছবি সংগৃহীত) :

মোবাইলে খবর পেতে জয়েন করুন
Whatsapp Group এ

••• বিজেপির ইশতেহার : ইশতেহারের প্রধান বিষয় হল, নারীর ক্ষমতায়ন। যেহেতু, শাসকদলের মহিলা মুখ্যমন্ত্রী’র মহিলা অনুরাগী অগণিত, তাই মহিলা-মন পেতে দরাজ প্রতিশ্রুতি পদ্মশিবিরের।
১. ১৮ বছর হলেই মিলবে এককালীন ২ লাখ টাকা।
২. সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ করা হবে।
৩. পিএম কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্পে কৃষকদের ৩ বছরে প্রাপ্য ১৮ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
৪.কেজি থেকে পিজি (স্নাতকোত্তর) পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা বিনামূল্যে।
৫.পরিবহণেও মহিলাদের সম্পূর্ণ ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে বিজেপি। সরকারি বাসে বিনামূল্যে ভ্রমণ।
৬.তফসিলি ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি ও আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে থাকা পরিবারে কন্যা সন্তান জন্ম নিলেই ৫০ হাজার টাকার বন্ড।
৭.১৮ বছর বয়সের পরে বিয়ে হলেই ওই শ্রেণির পরিবারের মহিলাদের জন্য ১ লাখ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট।
৮.রাজ্য পুলিশে ৯টি মহিলা ব্যাটেলিয়ন তৈরির আশ্বাস।
৯.রাজ্য রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীতে ৩টি মহিলা ব্যাটালিয়ন।
১০.প্রতিটি থানায় মহিলাদের জন্য আলাদা হেল্প ডেস্ক, দায়িত্বে মহিলারাই।
১১. ‘আত্মনির্ভর মহিলা’ প্রকল্পের আওতায় মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর জন্য ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ।
১২. মহিলাদের এককালীন ২০ হাজার টাকা করে ঋণ দেবে সরকার।
১৩. বিধবা ভাতা মাসিক ১ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার টাকা করা হবে।
১৪.প্রসূতিদের অনুদান ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৯ হাজার টাকা করা হবে।
১৫. স্কুল, কলেজে, বাজারে ৫০ হাজার সেনেটারি ন্যাপকিনের ভেন্ডিং মেশিন।
১৬. ১ টাকাতেই মিলবে সেনেটারি ন্যাপকিন।
১৭.শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতে প্রথম মন্ত্রিসভাতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
১৮.মাহিষ্য, তিলি-সহ কয়েকটি সম্প্রদায়কে ওবিসি আওতাভুক্ত করা।
১৯. মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের আওতায় দুর্নীতি বিরোধী সেল তৈরি করা হবে।
২০.রাজ্যের সর্বত্র অন্নপূর্ণা ক্যান্টিনে ৫ টাকায় খাবার মিলবে।
২১. রেশনে ১ টাকা কেজি গম, ৩০ টাকা কেজি ডাল, ৩ টাকা কেজি নুন এবং ৫ টাকা কেজি দরে চিনি বিক্রি হবে।
২২. ১০০ দিনের কাজ বে়ড়ে ২০০ দিন হবে।
২৩.প্রতিটি ব্লকে একলব্য মডেল আবাসিক (আদিবাসী) স্কুল।
২৪.মাহিষ্য, তিলি জনগোষ্ঠীকে অন্যান্য অনগ্রসর গোষ্ঠীতে নিয়ে আসা
২৫. প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই সরকারি বেতনভূকদের জন্য সপ্তন বেতন কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত
২৬. পার্শ্ব শিক্ষকদের বেতন প্রাথমিকে ১৫,০০০ এবং মাধ্যমিকে ২০,০০০ টাকা।
২৭. কলকাতায় সোনার বাংলা মিউজিয়াম।
২৮. ৫ লাখ কৃষককে বছরে ১০,০০০ টাকা।
২৯. কৃষক সম্মান নিধি প্রকল্পের না পাওয়া ১৮,০০০ টাকা এককালীন।
৩০.মৎস্যজীবীদের বছরে ৬,০০০ টাকা করে অনুদান।
৩১. উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল ও সুন্দরবনে এইমস-এর ধাঁচে হাসপাতাল।
৩২. মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক এবং নার্সের আসন দ্বিগুণ করা।
৩৩. প্রতি পরিবারের এক জনের কর্মসংস্থান।
৩৪. শৈলেন মান্নার নামে রাজ্যে ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয়
৩৫.পুরোহিতদের মাসে ৩,০০০ টাকা অনুদান
৩৬. ৬০ বছরের উপর বয়স্ক কীর্তন গায়কদের মাসে ৩,০০০ টাকা অনুদান।
৩৭.রাজ্যে ৯টি পর্যটন সার্কিট গঠন।
৩৮.কলকাতাকে ‘ফিউচার সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে
৩৯. মেট্রো রেল চলবে শ্রীরামপুর, ধূলাগড় ও কল্যাণী পর্যন্ত।
৪০. ১১ হাজার কোটি টাকায় সোনার বাংলা ফান্ড
৪১. বালিকা আলো প্রকল্পে পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের জন্য শিক্ষার জন্য প্রকল্প।
৪২. রাজ্যের সব চাকরির জন্য কমন এলিজিবিলিটি টেস্ট।
৪৩. রাজ্যের জন্য হুইসল ব্লোয়ার আইন।
৪৩. ক্ষুদ্র এবং কুটির শিল্পের জন্য বিদ্যুৎ ছাড়।
৪৪. পুরুলিয়ায় বিমানবন্দর তৈরি হবে।
৪৫. সরকারি ভাষা হিসাবে বাংলা ব্যবহারের জন্য অধ্যাদেশ জারি করা হবে।
৪৬. ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেডিক্যাল কোর্স পড়ানো হবে বাংলায়।
৪৭.নয়া পর্যটন নীতি তৈরি করা হবে, ১ হাজার কোটি টাকার প্রাথমিক ফান্ড।
৪৮. রাজ্যে আলাদা করে ৯টি পর্যটন সার্কিট তৈরি করা হবে
৪৯. সাঁওতাল, ভুমিজ-সহ অন্যান্য উপজাতিদের নিয়ে পৃথক ডেভেলপমেন্ট বোর্ড।
৫০.চা শ্রমিকদের দৈনিক ৩৫০ টাকা মজুরি।

thebengalpost.in
তৃণমূলের ইশতেহার প্রকাশ (১৭ মার্চ, ছবি সংগৃহীত) :

তৃণমূলের ইস্তেহার : ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পই প্রধান অস্ত্র। তবে, এবারের ইশতেহারে, দুয়ারে রেশন আর মহিলাদের হাতে সরাসরি অনুদান পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি আছে। আছে, উচ্চ শিক্ষার জন্য স্বল্প সুদে, বিনা গ্যারেন্টারে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোন দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও।
১. মে মাস থেকে সমস্ত বিধবাদের (১৮ বছরের উর্ধ্বে) জন্য হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।
২. যোগ্য পড়ুয়াদের জন্য ১০ লাখ টাকার স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড আনা হবে। মাত্র চার শতাংশ সুদ দিতে হবে।
৩. কৃষকদের একর পিছু ১০ হাজার টাকা।
৪. বাংলা আবাস যোজনায় আরও ২৫ লাখ বাড়ি তৈরি করা হবে।
৫. প্রতি ব্লকে একটি করে আবাসিক স্কুল।
৬. দুয়ারে রেশন।
৭. বার্ষিক ৫ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা।
৮. বছরে চার মাস দুয়ারে সরকার।
৯. তফশিলি পরিবারের মহিলাকে মাসে ১ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।
১০.জেনারেল কাস্ট বা সাধারণ জাতিভুক্ত পরিবারের মহিলাকে মাসে ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে।
১১. দু’হাজার বড় শিল্প ইউনিট। বার্ষিক ১০ লক্ষ মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্প (MSME)।
১২. প্রতিঘরে বিদ্যুৎ, সড়ক ও জল।

thebengalpost.in
বামেদের ইশতেহার প্রকাশ (১২ মার্চ, ছবি সংগৃহীত) :

বামেদের ইস্তেহার :
১. গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার ও সমস্ত বিরোধীদের মত প্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত করা হবে। সমস্ত রাজনৈতিক বন্দীদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হবে। ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি কঠোরভাবে অনুসৃত হবে। প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িকতা নয়, শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থায়িত্বের অঙ্গীকার।
২. এক বছরের মধ্যে সরকারি-আধা সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীনিয়োগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে সমস্ত শূন্যপদ পূরণ। সমস্ত নিয়োগ হবে নিয়মানুযায়ী, মেধার ভিত্তিতে।
৩. বেকার যুবক-যুবতীদের স্বনির্ভর করার ওপর জোর দেওয়া হবে। স্বনির্ভর কর্মসংস্থান প্রকল্প পুনরায় শক্তিশালী করা হবে।
৪. কর্মসংস্থানের মূল তিনটিক্ষেত্র— কৃষি, শিল্প ও পরিষেবায় কাজের সুযোগ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি।
৫. অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের পুনরুজ্জীবন। সহজ ঋণের ব্যবস্থা করা।
৬. চাষের খরচ কমিয়ে, কৃষকের কাছে উৎপাদিত ফসলের দাম বাড়ানো। চাষ’কে লাভজনক করতে সরকারের তরফে মিনিকিট, সার ও সেচের জলের প্রসার। কৃষিপণ্যের কেনাবেচার জন্য সমবায় সংস্থাগুলির পুনরুজ্জীবন। কৃষকের জন্য কেবল এককালীন ঋণ মকুব নয়, ফসলের দেড়গুণ দামের ‍‌নিশ্চয়তা, ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও মাঝারি কৃষকের কাছ থেকে সরকারের প্রয়োজন মতো ফসল ক্রয় করা হবে।
৭. রাজ্যের এপিএমসি অ্যাক্ট বাতিল। কারণ সেগুলিও কৃষককে কেন্দ্রের কৃষি আইনের মতো একইরকম বিপদের দিকে ঠেলে দিয়েছে। কেন্দ্রের তিন‍‌টি কৃষি আইন রাজ্যেকার্যকর হবে না।
৮. ভূমিসংস্কারে জমি পাওয়া গরীব কৃষক যাঁরা উচ্ছেদ হয়েছেন, তাঁদের পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
৯. রেগা—একশো দিন নয়, ১৫০ দিন। একে শহরাঞ্চলেও প্রসারিত করা হবে।
১০. ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনা ও পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় গ্রামীণ জনগণ বিশেষত গরিবদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করা।
১১. শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি দিনে ৪০০ নয়। ৭০০ টাকা। মাসে ২১,০০০ টাকা।
প্রবাসী বা পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য আলাদা দপ্তর। বিশেষ সুরক্ষা প্রকল্প। বন্ধ কারখানার শ্রমিকদের মাসে ২,৫০০ টাকা ভাতা ও সস্তায় রেশন—বন্ধ চটকল, চাবাগান ও অন্যান্য বন্ধ শিল্পের শ্রমিকদের জন্যও এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সমস্ত ধরনের অসংগঠিত শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা সুনিশ্চিত ও সম্প্রসারিত করা হবে। সরকারি প্রকল্পে কর্মরত অস্থায়ী শ্রমিকদের নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো ও সামাজিক সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা হবে।
১২. খাদ্য সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব ও সর্বজনীন রেশন — গরিবদের জন্য ২টাকা কেজি চাল বা আটা প্রতি মাসে। ৩৫ কেজি করে প্রতি পরিবারে সরবরাহ — নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বাজার থেকে কম দামে সরবরাহ — সকলের জন্য বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা করা।
১৩. ছোট ও মাঝারি শিল্পের ওপর গুরুত্ব — বৃহৎ শিল্প গড়ার উদ্যোগ — তথ্য, জৈবপ্রযুক্তি এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পের সম্ভাবনাগুলির সদ্ব্যবহার-কৃষিভিত্তিক শিল্প, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পসহ ইস্পাত, অটোমোবাইল, পেট্রোকেম, বিদ্যুৎ, সিমেন্ট, চামড়া, বস্ত্রশিল্প স্থাপনের উদ্যোগ।
১৪. সরকারি স্বাস্থ্যক্ষেত্রের সবই বিনামূল্যে। জনস্বাস্থ্যে সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকারের। মহামারী ও রোগ প্রতিরোধে অগ্রাধিকার। ওষুধের দাম যথাসম্ভব নিয়ন্ত্রণ করা।
১৫. বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি — গরিব অংশের মানুষের জন্য বিদ্যুতের দামে ভরতুকি। ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিলে সরকারি ভরতুকি।
১৬. শিক্ষাক্ষত্রে বাজেটের অন্তত ২০ শতাংশ বরাদ্দ — নিরক্ষরতা নির্মূল করা — শিক্ষায়তনে গণতন্ত্র — শিক্ষায় বেসরকারিকরণ, বাণিজ্যিকীকরণ ও সাম্প্রদায়িকীকরণ বন্ধ করা — ভর্তির পদ্ধতি স্বচ্ছ করা — শিক্ষকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ — স্বচ্ছতা
বজায় রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে শূন্যপদ পূরণ (প্রাইমারি, আপার প্রাইমারি, এসএলটিএমটি, ওয়ার্ক এডুকেশন, ফিজিক্যাল এডুকেশন সহ) — মাদ্রাসা শিক্ষাকেআরো সুসংহত, উন্নত ও প্রসারিত করা— বৃত্তিমূলক, কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষার ওপর
জোর, বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে গবেষণার উপর গুরুত্ব—সমস্ত অস্থায়ী শিক্ষকদের প্রতিসদর্থক দৃষ্টিভঙ্গি—ছাত্র সংসদগুলির নিয়মিতভাবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন।
১৭. সুস্থ সংস্কৃতির প্রসারে সর্বতো উদ্যোগ গৃহীত হবে। সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনাকেউৎসাহিত করা হবে।
১৮. ক্রীড়ার প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে নজর দেওয়া। ক্রীড়ার সাথে সাথে স্বাস্থ্যচর্চার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
১৯. সমকাজে সমমজুরি। নারী নির্যাতন, গার্হস্থ্য হিংসা প্রতিরোধে শহরে ওয়ার্ড বা বরোতে এবং গ্রামবাংলায় ব্লক স্তরে বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। তৃতীয়লিঙ্গের মানুষদের (LGBTQIA+) জন্য প্রয়োজনীয় যথোপযুক্ত ব্যবস্থা করা হবে।
২০. শারীরিক প্রতিবন্ধকতাযুক্ত ব্যক্তিদের স্বার্থে আরপিডি অ্যাক্ট-১৬ ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন-১৭ কার্যকর করা হবে। প্রতিবন্ধকতাযুক্ত মানুষদের শিক্ষার আওতায়আনা হবে, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সকলকে এক বছরের মধ্যে শংসাপত্র দেওয়া হবে। মাসিক ভাতা এক হাজার টাকার পরিবর্তে মাসে দু’হাজার টাকা দেওয়া হবে।
২১. সম্পদের বণ্টনের জন্য যে স্টেট ফিনান্স কমিশন ছিল, তার পুনরুজ্জীবন। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে নিজস্ব ব্যাঙ্ক। সম্পদের বিকেন্দ্রীকরণ। রাজ্য সরকার পরিচালিতরুগণ্ সংস্থাগুলির পুনরুজ্জীবনের জন্য বিশেষ উদ্যোগ।
২২. সমবায়ের প্রসার। সমবায়ের পণ্য বিক্রিতে অন-লাইন বিপণন। স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে উৎসাহিত করা হবে।
২৩. পরিকল্পনা পর্ষদকে আরো কার্যকর করা। বাংলা ভাষাকে প্রশাসনের সর্বক্ষেত্রে উৎসাহিত করার পাশাপাশি হিন্দি, নেপালি, উর্দু, সাঁওতালি ভাষার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা, রাজবংশী-কুরুক-কুর্মিসহ পশ্চাদপদ অংশের ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে। উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহল ও রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বিষয়টি বিশেষ করে গুরুত্ব পাবে। রাজ্যের বস্তিগুলির উন্নয়নের বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে।
২৪. বেআইনি চিটফান্ডগুলির দাপট রোখা, চিটফান্ডের কর্মকর্তা ও তাদের সহযোগীদের দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা করা, জনগণের গচ্ছিত টাকা ফেরত দেওয়া।

thebengalpost.in
বিজ্ঞাপন (Advertisement) :

আরও পড়ুন -   সংক্রমণে কাবু রেলশহর থেকে রাজধানী, রাজ্য থেকে দেশ, খড়্গপুরে নতুন করে ৪, মাস্ক পরেই ফিরলেন শেখ হানিফ