“এত লাল ঝান্ডা কোথায় ছিল?”, মেদিনীপুর শহরের পথচারী থেকে চা-পান দোকানে একটাই প্রশ্ন! সফল বাম-কংগ্রেসের ঐতিহাসিক মিছিল

.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, মেদিনীপুর, ১৪ অক্টোবর: নাম দেওয়া হয়েছিল কৃষি বিলের বিরুদ্ধে বাম-কংগ্রেসের ঐতিহাসিক মিছিল! আপাতত, সেই নাম সার্থক হল কংগ্রেসের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছাড়াই। গতকাল (১৩ অক্টোবর)ই দায়িত্ব নিয়েছেন কংগ্রেসের নবনিযুক্ত জেলা সভাপতি সমীর রায়। তাই, একদিনের মধ্যে হয়তো সার্বিক প্রস্তুতি নিতে পারেননি! তবে, জনা পঞ্চাশেক কর্মী-সমর্থককে নিয়ে তিনি পৌঁছেছিলেন মেদিনীপুর কলেজ-কলেজিয়েট ময়দানে। সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র এবং বাম জেলা নেতৃত্বের সাথে এক মঞ্চে উঠে, মিনিট কুড়ি’র বক্তব্যে একযোগে আক্রমণ করলেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে। তবে, সমর্থক কম ছিল বলেই হয়তো এদিনের ঐতিহাসিক মিছিলের শুরুতে উপস্থিত থেকেই তাঁরা বিদায় নিয়েছিলেন! তাতে, অবশ্য বামেদের উৎসাহে ভাটা পড়েনি। প্রায় এক দশক পরে লাল ঝান্ডার এমন দৃপ্ত মিছিল দেখল মেদিনীপুর! যা দেখে, রাস্তায় বেরোনো সাধারণ পথচারী থেকে শুরু করে চা দোকান, পান দোকানে একটাই প্রশ্ন, এত মানুষ কোথায় ছিল? তবে, কি বিজেপি-তৃণমূলে অরুচি ধরে গেল মানুষের!

thebengalpost.in
“এত লাল ঝান্ডা কোথায় ছিল?”, মেদিনীপুর শহরের পথচারী থেকে চা-পান দোকানে একটাই প্রশ্ন! সফল বাম-কংগ্রেসের ঐতিহাসিক মিছিল :

.

প্রায় এক দশকের ব্যবধানে, মেদিনীপুর শহরের প্রধান রাস্তা বা ‘রিংরোড’ জুড়ে আছড়ে পড়লো লাল ঝান্ডার ঢেউ। কর্পোরেট তোষনকারী কৃষি আইন বাতিল, তৃণমূল-বিজেপির জনস্বার্থ বিরোধী নীতি ও খুন-সন্ত্রাস-ধর্ষনের রাজনীতির বিরুদ্ধে, গণতন্ত্র,ধর্মনিরপেক্ষতা ও সংবিধান বাঁচানোর লড়াইকে জোরদার করার লক্ষ্যে, করোনা আয়করের বাইরে থাকা মানুষের মাসিক সাড়ে সাত হাজার ভাতার দাবিতে, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে, শ্রমিক শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষার দাবি সহ নানা দাবিকে সামনে রেখে মেদিনীপুর শহরে মহামিছিল অনুষ্ঠিত হলো জেলা বামফ্রন্টের আহ্বানে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে, এই মহামিছিল শুরুর আগে মেদিনীপুর কলেজ কলেজিয়েট ময়দানে এক সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিআইএমের রাজ‍্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র, জেলা সম্পাদক তরুণ রায়, সিপিআইএম নেতা তাপস সিনহা, প্রাক্তন বিধায়ক তথা সিপিআই নেতা সন্তোষ রানা, কংগ্রেসের জেলা সভাপতি সমীর রায়, আর এস পির শক্তি ভট্টাচার্য, ফরোয়ার্ড ব্লকের সুকুমার সিং, সিপিআইএম এল এর শৈলেন মাইতি সহ অন্যান্যরা​। জেলার বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় হাজার দশেক মানুষ এদিনের মিছিলে অংশ নেন। গোটা মিছিলে হেঁটে সামনের সারি থেকে মিছিলে নেতৃত্ব দেন সূর্যকান্ত মিশ্র, তরুণ রায়, তাপস সিনহা, কীর্তি দে বক্সী সহ অন্যান্য বাম নেতৃত্ব। মিছিলে কৃষি আইন বাতিল সহ কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও রাজ‍্যের তৃণমূল সরকারের বিভিন্ন জনস্বার্থ বিরোধী কাজের বিরুদ্ধে মুহুর্মুহু স্লোগান উঠতে থাকে। মিছিল কলেজ মাঠ থেকে শুরু হয়ে গোলকুঁয়ারচক,বটতলা, নান্নুর চক,কেরানীটোলা, ক্ষুদিরাম মোড়, গান্ধী মোড়, পোস্ট অফিস রোড হয়ে পুনরায় কলেজ মাঠে শেষ হয়। মাঝে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি এলেও মিছিল এগিয়েছে স্বাভাবিক ছন্দে। আর এই বড় আকারের মিছিলে স্বভাবতই খুশি বাম নেতৃত্ব ও সমর্থকরা!

thebengalpost.in
সূর্যকান্ত মিশ্র :

.

মিছিল শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক ডাঃ সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, “দেশ ও রাজ্য এক সংকটের মধ্য দিয়ে হাঁটছে। স্বাধীনতার পর এমন সংকট তৈরি হয়নি! দেশে স্বৈরাচারী সরকার, রাজ্যে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার।” মাওবাদী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জ্ঞানেশ্বরী-কান্ডের নায়ক আজ তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক! সেই সময়ই অবশ্য উনি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর মাথায় ছাতা ধরতেন, ওনার বাইকে চেপে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ঘুরে বেড়াতেন। সেই সব জায়গায় আমরা যেতে পারিনি, উনি অবাধে ঢুকে যেতেন। এরপর ক্ষমতায় এসে কিছুজনকে প্ল্যান করে মেরে ফেলা হয়েছে, কিছুজনকে উপযুক্ত পদ দেওয়া হয়েছে!” বাম-কংগ্রেস জোট এবং করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, “হঠাৎ করেই প্রদেশ সভাপতি সোমেন মিত্রের দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যু হয়েছে! তবে, অধীর বাবু দায়িত্ব নেওয়ার পর আমার সঙ্গে ও বিমান দা’র সঙ্গে কথা হয়েছে। উনি আগেও দায়িত্ব পালন করেছেন, তাই পরিস্থিতি সামলে নেবেন। এবার অনেক আগে থেকেই ঘোষিতভাবে জোট হয়েছে। তাই, মানুষের মনে বাম-কংগ্রেস জোট নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা থাকবেনা। করোনা পরিস্থিতিতে সকলকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। বামেরা দূরত্ব বজায় রেখে, শৃঙ্খলা বদ্ধ ভাবে মিছিলের আয়োজন করে। বিজেপি-তৃণমূলের পক্ষে সম্ভব নয়!”

thebengalpost.in
বাম-কংগ্রসের ঐতিহাসিক মিছিল মেদিনীপুর শহরে :

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে