মণিরাজ ঘোষ, মেদিনীপুর ও খড়্গপুর, ২৮ এপ্রিল: সংক্রমণ আছে, সচেতনতা নেই শহরবাসীর মধ্যে! ইতিমধ্যে, জেলা শহর মেদিনীপুর ও রেলশহর খড়্গপুর সংক্রমণের ‘সেঞ্চুরি’ করে ফেলেছে। সেটাও আবার মাত্র চব্বিশ ঘণ্টা আগেই! আর, গত এক সপ্তাহের পরিসংখ্যান ধরলে মেদিনীপুর ও খড়্গপুরে সংক্রমিত যথাক্রমে- ৩৫০ ও ৪০০! তা সত্ত্বেও অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী (Over Confident) শহরবাসী’র ভ্রুক্ষেপ নেই। মাস্ক না পরেই বাজারে বেরিয়ে পড়ছেন। আর, পরলেও তা মুখে নয়, থুতনিতে। আর বাজারে গিয়ে দেখা গেল, ক্রেতাদের থেকেও বিক্রেতারা আরও বেশি ‘আত্মবিশ্বাসী’ (বা, অসচেতন)! কারুর মাস্ক গলায়, কারুর থুতনিতে, কারুর আবার পকেটে বা সবজির ঝুড়িতে। ভাবখানা “কে এই করোনা? তাঁদের ছুঁতেও পারবেনা!” কিন্তু, তিনি হয়তো জানেন না, ভারতে প্রতি এক সেকেন্ডে ৪ জনের বেশি মানুষ করোনা সংক্রমিত হচ্ছেন। আর, মেদিনীপুর-খড়্গপুরে প্রতি ১০০ টি নমুনাতে অন্তত ৩০-৪০ জন করোনা সংক্রমিত হচ্ছেন!


Whatsapp Group এ
এদিকে, জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভিড় ক্রমশ বাড়ছে। বুধবার সকালের রিপোর্ট অনুযায়ী, জেলার চারটি করোনা হাসপাতালে (মেদিনীপুর মেডিক্যাল, শালবনী, খড়্গপুর ও ঘাটাল) রোগী ভর্তি আছেন ১৮০ জন। আয়ুশ, ডেবরা বাদ দিয়ে শয্যা মোটামুটি ৩১০ টি। অন্যদিকে, বুধবার সকালে শহরের বিভিন্ন নার্সিংহোম বা বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ফোন করে জানা গেল, শয্যা প্রায় পূর্ণ! অর্থাৎ বেড নেই, ‘হাউসফুল’। এই তথ্য, হাসপাতাল মালিকদের জন্য সুখকর হলেও, সাধারণ মানুষের কাছে যে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা! আর, এসব কিছু উপেক্ষা করেই মেদিনীপুর আর খড়্গপুরের বাজারগুলিতে মাস্ক-হীনদের দাপাদাপি দেখলে সহজেই অনুমান করা যায়, কেন এপ্রিলের শুরুতে জেলার দৈনিক সংক্রমণ ২০-২২ থাকলেও, এপ্রিলের শেষে তা ৫০০-৬০০ তে পৌঁছে গেছে!


বুধবার, মেদিনীপুর শহরের প্রতিটি বাজারেই দেখা গেল, কারুর মাস্ক পকেটে, কারুর থুতনিতে। অনেকের আবার হাতে স্মার্টফোন, মুখে মাস্ক নেই। কাজেই, মাস্ক কেনার সঙ্গতি নেই, এই অজুহাত শহরের ৯০ শতাংশের ক্ষেত্রে খাটেনা! আর, খড়্গপুর শহরের বি.এন.আর ময়দানের বাজারে এই ধরনের ‘বেয়াদব ছোকরা’ বা নিয়ম ভঙ্গকারীদর এদিন কড়া “সবক” শেখালেন টাউন থানার লেডি কনস্টেবল নীলিমা। শহরবাসী আড়ালে যাঁকে ‘লেডি সিঙ্ঘম’ বলে ডাকে! অন্যায় দেখলেই তিনি যেভাবে গর্জে ওঠেন, অপরাধীদের তাড়া করেন, আর নিমেষের মধ্যে জাপটে ধরেন, তাতে তাঁর প্রতি গর্ব অনুভব করে ‘মিনি ইন্ডিয়া’র সচেতন একাংশ। ২০২০’র লকডাউনের সময় তাঁর দাপট দেখেছে রেলশহর, আর এদিনও স্ব-মেজাজ ধরলেন তিনি! মাস্ক না পরা বেয়াদব ছোকরাদের কখনও “কান ধরে উঠবস” করালেন, তো কখনও ঘাড় ধাক্কা দিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন। আর, বয়স্কদের হাত জড়ো করে অনুরোধ করলেন, “অন্যের জন্য নয়, নিজের জন্য মাস্কটা ঠিক করে পরুন!”









