কোভিড মোকাবিলায় এবার ঘাটাল-খড়্গপুরে অত্যাধুনিক HDU ইউনিট, খুলবে আয়ুশ, মেদিনীপুর মেডিক্যালে অক্সিজেন প্ল্যান্ট

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৮ এপ্রিল: অপ্রতিরোধ্য ‘কোভিড’ মোকাবিলায় একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। গত এক সপ্তাহে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় সংক্রমিত প্রায় ২০০০ (১৯৪৪) জন। গত চব্বিশ ঘণ্টায় আক্রান্ত প্রায় ৬০০ (৫৭৮) জন! সংক্রমণ শীর্ষে মেদিনীপুর, খড়্গপুর ও ঘাটাল-দাসপুর। এই পরিস্থিতিতে, জেলা শহর মেদিনীপুরে অবস্থিত মেডিক্যাল কলেজে অত্যাধুনিক HDU-SARI ইউনিট এবং শহর থেকে ২০ কিলোমিটারের মধ্যে শালবনী করোনা হাসপাতালে HDU বিভাগ থাকলেও, ঘাটাল ও খড়্গপুরে করোনা’র উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা নেই। দুই মহকুমা হাসপাতালেই একটি করে ‘সেফ হোম’ অবশ্য আছে। রেলশহর খড়্গপুর আর ঘাটালে ভয়াবহ করোনা দাপটের মধ্যেই তাই বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠতে শুরু করেছিল, ৮০ শয্যা বিশিষ্ট ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি (মহকুমা হাসপাতাল) হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে এবং ৫০ শয্যা বিশিষ্ট খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে সেন্ট্রাল অক্সিজেন পাইপ লাইন ছাড়াও উন্নত HDU (High Dependency Unit) পরিকাঠামো গড়ে তোলা হোক। সম্প্রতি, ঘাটাল সুপার স্পেশালিটির জন্য সেন্ট্রাল অক্সিজেন পাইপ লাইনের দাবি রাজ্য স্বাস্থ্য ভবনেও পাঠানো হয়েছিল। তা অনুমোদন করা হয়েছে। সঙ্গে, খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালের ‘সেফ হোম’ টিকেও HDU ইউনিটে রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে। একইসঙ্গে, সংক্রমণের তীব্র দাপটের মধ্যে জেলার মেডিক্যাল কলেজগুলিতে লিক্যুইড অক্সিজেন প্ল্যান্ট (ট্যাঙ্ক) তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এই তালিকায় আছে, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে ও হাসপাতালও।

thebengalpost.in
ঘাটাল আর খড়্গপুর হাসপাতালেও এবার উন্নত কোভিড পরিষেবা দেওয়া হবে :

মোবাইলে খবর পেতে জয়েন করুন
Whatsapp Group এ

সোমবার (২৬ এপ্রিল), রাজ্য মেডিক্যাল সার্ভিস কমিশনের আধিকারিকেরা মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ পরিদর্শনে এসে লিক্যুইড অক্সিজেন প্ল্যান্টের জন্য জায়গা নির্বাচন করে গেছেন। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ পঞ্চানন কুন্ডু জানিয়েছেন, “নতুন ভবন বা আই.সি বিল্ডিংয়ের পূর্ব দিকে অক্সিজেন প্ল্যান্ট তৈরি হবে।” ৫ হাজার লিটারের ট্যাঙ্ক বসবে বলে জানা গেছে। সেখান থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে প্রতিটি ওয়ার্ডের বেডে বেডে মেডিক্যাল অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া হবে। আর, সিলিন্ডারের উপর নির্ভর করতে হবেনা। দ্রুততার সঙ্গে এই কাজ সম্পূর্ণ করা হবে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, ঘাটাল ও খড়্গপুর থেকেও দাবি উঠছিল, ভয়াবহ কোভিড পরিস্থিতিতে সঙ্কটজনক রোগীকে মেদিনীপুর বা শালবনী নিয়ে যেতে যেতেই রাস্তাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করছেন; তাই এখানেও উন্নত পরিষেবা তথা এইচডিইউ বা সিসিইউ পরিষেবা দেওয়া হোক। এবার, সেই দাবিকে মান্যতা দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসন ও রাজ্য সরকারের তরফে। মঙ্গলবার জেলায় কোভিড সংক্রান্ত যে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে, সেখানে এই সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী মানছেন, “দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। ঘাটালে সেন্ট্রাল পাইপ লাইনের বিষয়টি রাজ্যে জানানো হয়েছিল। তা অনুমোদনও পেয়ে গিয়েছিল। এবার, ওই দুটি সেফ হোম’কে HDU হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে। ফলে উপকৃত হবেন দুই মহকুমার বাসিন্দারা।” অন্যদিকে, আয়ুশ সেফ হোম (খাসজঙ্গল) এবং আয়ুশ স্যাটেলাইট (তাঁতিগেড়িয়া) খুব শীঘ্রই চালু হয়ে যাবে বলে জানা গেছে। দুটিতেই ১০০ টি করে শয্যা আছে। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রথমে আয়ুশ সেফ হোম খোলা হবে। এরপর, প্রয়োজন পড়লে খোলা হবে শহরের তাঁতিগেড়িয়ায় অবস্থিত আয়ুশ স্যাটেলাইট। ডেবরা সেফ হোমের ৪০ টি শয্যাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিমাই চন্দ্র মন্ডল জানিয়েছেন, “পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবরকমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলায় অক্সিজেনেরও পর্যাপ্ত যোগান আছে। আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি। শুধু সচেতন থাকুন, কোভিড বিধি মেনে চলুন আর যতটা সম্ভব বাড়িতেই থাকার চেষ্টা করুন।”

thebengalpost.in
ফের চালু হতে চলেছে আয়ুশ হাসপাতাল :

আরও পড়ুন -   "মৃত্যুর হার আরো কমবে জেলায়", মেদিনীপুর মেডিক্যালে ২৬ শয্যার এইচডিইউ ইউনিট উদ্বোধন করে বললেন জেলাশাসক