টেটে বসতে পারবেন শুধু মামলাকারীরা, বাকি ডিএলএড প্রার্থীরা আগামীকাল ফের হাইকোর্টে

thebengalpost.in
কলকাতা হাইকোর্টের দিকে তাকিয়ে কয়েক হাজার চাকরিপ্রার্থী :

বিজ্ঞাপন

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, কলকাতা, ২৮ জানুয়ারি: আগামী ৩১ শে জানুয়ারি, রবিবার প্রাইমারি টেট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ২০১৭ সালের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে, তাই এই টেট পরীক্ষা ‘প্রাথমিক টেট ২০১৭’ (Primary Tet 2017) নামে নির্ধারিত হয়েছে। আবেদনকারীরাও ২০১৭ সালের, অর্থাৎ ২০১৭ সাল পর্যন্ত ডিএলএড (বিএড নয়, কারণ সেই সময় প্রাথমিকের জন্য বি.এড দের ছাড়পত্র দেয়নি NCTE) সম্পন্ন করা কিংবা চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষায় বসতে চলা প্রার্থীরাই আবেদন করতে পেরেছিলেন। কিন্তু, ২০১৭ সালের পরীক্ষা বিভিন্ন কারণে ২০২১ এ অনুষ্ঠিত হচ্ছে! আর এতেই আপত্তি ছিল, ২০১৭ র পর ট্রেনিং কমপ্লিট করা D.EL.ED প্রার্থীদের। বিশেষত, ২০০১৭-‘১৯ ও ২০১৮-‘২০ সালের প্রশিক্ষণ প্রাপ্তদের, যারা ইতিমধ্যেই মার্কশিট হাতে পেয়ে গেছেন। ইমানা চৌধুরী সহ তাদের মধ্যেই বেশ কিছুজন (সংখ্যাটা ২০০০ বা তার আশেপাশে বলে জানা গেছে) কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের এজলাসে মামলা দায়ের করেছিলেন। আজ (২৮ জানুয়ারি) সেই মামলার রায়, মামলাকারীদের পক্ষেই গেছে। বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ মামলাকারীদের জন্য আগামীকাল (২৯ জানুয়ারি) বিকেল ৫ টা পর্যন্ত অফলাইনে আবেদন করার সুযোগ দিতে বলেছেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ’কে। এই রায়দানে বিচারপতি ২০০১৭-‘১৯ কিংবা ২০১৮-‘২০ সালের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দের নয়, শুধুমাত্র মামলাকারীদের বিষয়ে উল্লেখ করেছেন বলে জানিয়েছেন হাইকোর্টের আইনজীবীরা। ফলে, ওই দুই ব্যাচের অবশিষ্ট কয়েক হাজার প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করা প্রার্থী এবং ইতিমধ্যে বি.এড সম্পূর্ণ করা প্রার্থীরাও (২০১৮ সালের পর NCTE বি.এড দেরও প্রাইমারির জন্য ছাড়পত্র দিয়েছে) এই মুহূর্তে প্রবল দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন। তাদের মধ্যেই বেশ কয়েক হাজার চাকরিপ্রার্থী আগামীকাল কলকাতা হাইকোর্টের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। যদিও আইনজীবীরা তাদের কাওকেই নিশ্চয়তা দিতে পারেননি, কারণ আগামী রবিবারই পরীক্ষা। তার আগে হাইকোর্টে মামলা ওঠার সুযোগ প্রায় নেই! বিচারপতিও নতুন করে মামলা গ্রহণ না করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

thebengalpost.in
কলকাতা হাইকোর্টের দিকে তাকিয়ে কয়েক হাজার চাকরিপ্রার্থী :

বিজ্ঞাপন

[ আরও পড়ুন -   কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে বিনামূল্যে মুসুর ডাল দেওয়া শুরু হল জঙ্গলমহলে ]

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রবিবারের (৩১ শে জানুয়ারি) এই টেট- ২০১৭ পরীক্ষায় বসতে চলেছেন প্রায় আড়াই লক্ষ পরীক্ষার্থী। কোভিড বিধি মেনে নেওয়া হবে পরীক্ষা। প্রায় ১০০০ হাজারটি ভেনু বা সেন্টারে ২০০-২৫০ জন করে পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেবেন। রাজ্যে এর আগে প্রাইমারি টেট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৫ সালে। সেটি ছিল ‘টেট ২০১৪’,‌ অর্থাৎ বিজ্ঞপ্তি ছিল ২০১৪ র। সেই টেটের প্রথম দফার নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে ২০১৭ এর ফেব্রুয়ারিতে। পরের দফার নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০২০ র নিয়োগবিধি মেনে। মাঝখানে, ২০১৬ থেকে ২০২০ র মধ্যে প্রশিক্ষণ শেষ করা এবং ২০১৪ র প্রাইমারি টেটে অসফল (টেট ফেল বা টেটে না বসা) ডি.এল.এড প্রার্থীরা চরম হতাশার মধ্যে ছিলেন। আন্দোলনও চালিয়ে যাচ্ছিলেন। স্বয়ং, পর্ষদ সভাপতির একটি অডিও ভাইরালও (যাচাই করেনি thebengalpost.in) হয়েছিল। তিনি জানিয়েছিলেন, ইচ্ছে থাকলেও উপায় নেই! এদিকে, মামলা করেছিলেন হাজারখানেক (সংখ্যাটা ২০০০ এর আশপাশে বলে জানা গেছে) পরীক্ষার্থী। মামলাকারীদের আইনজীবীরা তুলে ধরেছিলেন, “NCTE র নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্য প্রতিবছর টেট নেওয়া হচ্ছে না। এর ফল ভুগতে হচ্ছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীদের। তাই, ২০১৭ র পর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা পরীক্ষার্থীদের এই টেটে বসতে দেওয়া হোক। কারণ, এরপর রাজ্যে আবার কবে টেস্ট পরীক্ষা হবে, তার কোন নিশ্চয়তা নেই। ততদিনে শূণ্যপদও পূরণ হয়ে যাবে।” মামলাকারীদের এই যুক্তিতে সায় দেন বিচারপতি ভরদ্বাজ। তিনি, শুধুমাত্র মামলাকারীদের অফলাইনে আবেদন করার সুযোগ দিতে বলেন পর্ষদ কে এবং প্রতিবছর রাজ্যে টেট নেওয়ার কথাও বলেন। তবে, বিচারপতির এই রায়দানে বা নির্দেশে খুশি নন, ২০১৮-‘২০ ব্যাচের অবশিষ্ট কয়েক হাজার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তাদের দাবি, এই ব্যাচের সকলকেই পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হোক। যাদের মামলা করার সুযোগ বা অর্থ নেই, তারা কেন বঞ্চিত হবে? আগামীকাল এই সমস্ত প্রার্থীদের অনেকেই, কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছেন বলে সূত্রের খবর। এদিকে এখনও পর্যন্ত পর্ষদের তরফে কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। তবে, আগামীকাল যে পর্ষদ চত্বরকে কড়া নিরাপত্তার বেড়াজালে বেঁধে ফেলা হবে, তা বলাই বাহুল্য!

[ আরও পড়ুন -   বিধানসভার আগেই মাস্টার স্ট্রোক মমতা'র! প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি, বি.এড পাসরাও যোগ্য ]