পথ দেখাল পশ্চিম মেদিনীপুর! চিকিৎসক ও কোভিড ভলান্টিয়ারদের প্রচেষ্টায় পথ চলা শুরু অক্সিজেন পরিষেবা যুক্ত সেফ হোমের

মণিরাজ ঘোষ, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১২ মে: মহামারীর সময়ে নতুন ভাবে পথ দেখাল পশ্চিম মেদিনীপুর! বেসরকারি উদ্যোগে জেলার প্রথম এবং একমাত্র নিদর্শন স্বরূপ আজ থেকেই পথ চলা শুরু করল অক্সিজেন পরিষেবা যুক্ত ৪০ শয্যা বিশিষ্ট “সেফ হোম”। অনুমতি প্রদান করা হয়েছে জেলা প্রশাসন এবং জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়্গপুরে (ইন্দা এলাকায়) অবস্থিত, খড়্গপুর কলেজের অব্যবহৃত ছাত্রী নিবাস (Girl’s Hostel) টিকেই ৪০ শয্যার সেফ হোম হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। বুধবার এই সেফ হোমের উদ্বোধন করা হল।

thebengalpost.in
বেসরকারি সেফ হোম স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে :

মোবাইলে খবর পেতে জয়েন করুন
Whatsapp Group এ

শুধু জেলা নয় সারা রাজ্যে এই নিদর্শন অত্যন্ত বিরল! মেদিনীপুর শহরের কয়েকজন সহৃদয় চিকিৎসকদের আবেদনে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসে খড়্গপুর শহরের ১২ টি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এই ১২ টি সংস্থার মধ্যে হিন্দু-মুসলিম-শিখ-খ্রিস্টান প্রভৃতি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও যুক্ত হয়ে আছে। এককথায় সর্ব ধর্ম-বর্ণের মেলবন্ধনেই যে গড়ে উঠেছে এই সেফ হোম, তা বলাই বাহুল্য! আর, চিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গুলির আহ্বানে সাড়া দিয়ে যিনি জেলার বুকে এই স্বতন্ত্র নজির গড়ে উঠতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলেন তিনি খড়্গপুরের মহাকুমাশাসক আজমল হোসেন। তাঁর সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত করেছেন অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বা ACMOH (খড়্গপুর মহকুমা) ডাঃ মধুমিতা বিশ্বাস। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে খড়্গপুরের ১২ টি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, সহৃদয় চিকিৎসক বৃন্দ এবং খড়্গপুরের প্রশাসনিক আধিকারিকদের ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। এই উদ্যোগের প্রশংসা করে জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী জানিয়েছেন, “অতিমারীর সময়ে এই বিরল মানবিক উদ্যোগের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকেই আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয় ওনাদের জন্য। খড়্গপুরের মহাকুমাশাসক এবং অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক’এর উদ্যোগ যথেষ্ট প্রশংসনীয়।”

thebengalpost.in
খড়্গপুরে নতুন সেফ হোম :

এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত মেদিনীপুর শহরের প্রসিদ্ধ চিকিৎসক (গাইনোকোলজিস্ট) ডাঃ মঙ্গল প্রসাদ মল্লিক জানালেন, “আজ আমাদের সকলের প্রচেষ্টা সার্থক হল। আমি এবং ডাঃ অরূপ মণ্ডল প্রথম এই উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করি খড়্গপুরের সেন্ট জোনস অ্যাম্বুলেন্স সংস্থার সঙ্গে। এই উদ্যোগ নিয়ে আন্তরিক উৎসাহ প্রকাশ করেন মহকুমাশাসক (SDO) আজমল হোসেন। তারপর একে একে এগিয়ে আসে আরও ১১ টি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং একাধিক সহৃদয় চিকিৎসক। বিনামূল্যে অক্সিজেন পরিষেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়, নিমপুরায় অবস্থিত সুপার গ্যাস অ্যান্ড অ্যাপলায়েন্স অক্সিজেন প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষ। অবশেষে, জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের অনুমতি নিয়ে এই সেফ হোম পথ চলা শুরু করল। আপাতত ২০ টি শয্যা রাখা হয়েছে। আগামীদিনে ৪০ টি করার ইচ্ছে আছে।” ১২ টি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং ৯ জন চিকিৎসক সম্মিলিতভাবে গড়ে তুলেছেন “খড়্গপুর কোভিড ভলান্টিয়ার” সংস্থা। তাঁরা সকলে মিলেই দেখবেন চিকিৎসা পরিষেবা, অক্সিজেন, রোগীদের খাওয়ার-দাওয়ার প্রভৃতি। ১২ টি সংস্থার মধ্যে অন্যতম, গরীব নওয়াজ ফাউন্ডেশন, বালাজী মন্দির কমিটি, সিদ্ধি বিনায়ক সেবা মণ্ডল, সিধু কানু ফাউন্ডেশন,‌ খড়্গপুর প্রয়াস, লাইফ ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল প্রভৃতি। এই মহামারীর সময়ে মন্দির-মসজিদ, ঈশ্বর-আল্লাহ ‘র উর্ধ্বে উঠে “মানবসেবা” এক স্বতন্ত্র নজির গড়লেন তাঁরা। সহৃদয় চিকিৎসকদের মধ্যে ডাঃ মল্লিক ও ডাঃ মণ্ডল ছাড়াও আছেন, ডাঃ নির্মাল্য মঙ্গল, ডাঃ শুভম চন্দ, ডাঃ নীলাঞ্জনা চন্দ, ডাঃ বর্ষা মুখার্জি, ডাঃ সৌভিক মাইতি, ডাঃ যিষ্ণু মুখোপাধ্যায়, ডাঃ রেশমী সিনহা প্রমুখ। সকলে মিলেই এই মহামারীর মধ্যে, মেদিনীপুরের বুকে মানবপ্রেমের জয়গান গাইলেন!

thebengalpost.in
খড়্গপুর কোভিড ভলান্টিয়ার দের অনন্য উদ্যোগ :

আরও পড়ুন -   উৎসবের মাঝেই বিষাদের সুর পশ্চিম মেদিনীপুরে! ত্রিকোণ প্রেমের জেরে আত্মহত্যা করলেন বিবাহিত এক যুবক