“আমরা রক্ত নিতে চাই না, রক্ত দিতে চাই”, তৃণমূলের সভার একদিন পরেই কেশপুরে ভারতী ঘোষের হুঙ্কার, দু’দিনই স্বাস্থ্যবিধি ভেঙে চুরমার

.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, কেশপুর, ২২ সেপ্টেম্বর : কেশপুর ব্লকের আনন্দপুরে, রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল জনসমাগম নিয়ে সভা করেছিল। উপস্থিত ছিলেন, বিধায়ক শিউলি সাহা, মহম্মদ রফিক, উত্তম ত্রিপাঠী’রা। স্বাস্থ্যবিধি ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়া, সেই সভা থেকে তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক মহঃ রফিক হুঙ্কার দিয়েছিলেন, “সাম্প্রদায়িক বিজেপি’র জন্যই এত অশান্তি! সিপিএমের হার্মাদরা বিজেপি’তে গিয়ে অশান্তি-মারামারি করছে। তৃণমূল মনে করলে, ৩০ মিনিটে কেশপুর থেকে বিজেপির সব অস্তিত্ব মুছে দিতে পারে। তাই বেশি নাচানাচি করে লাভ নেই। কেশপুরের মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ভরসা রেখেছিল, ভবিষ্যতেও তাই রাখবে।” সভায় সমাগম নিয়ে প্রশ্ন না উঠলেও, প্রশ্ন উঠেছে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা নিয়ে! সভায় উপস্থিত তৃণমূল সমর্থকদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মুখে ছিল না মাস্ক! শুধু সংবাদমাধ্যম নয়, সমাজ মাধ্যমে শেয়ার করা তৃণমূল নেতাদের প্রতিটি ছবিতেই সেই চিত্র ধরা পড়েছে। অপরদিকে, আজ (২২ সেপ্টেম্বর), বিজেপি’র রাজ্য সহ-সভাপতি ভারতী ঘোষ কেশপুর ব্লকের আনন্দপুর থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে, ধামসাই এলাকায়, রক্তদান শিবিরে যোগদান করতে উপস্থিত হয়েছিলেন। ‌সেখানেও, প্রাক্তন আইপিএস বিজেপি নেত্রী’কে ঘিরে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের মধ্যে, নিমেষে স্বাস্থ্যবিধি ভেঙে চুরমার হয়ে গেল! সমালোচকেরা তাই বলছেন, “কেশপুর’কে হয়তো করোনাও ভয় পায়!”

thebengalpost.in
কেশপুরের আনন্দপুরে তৃণমূলের সভা (২০ সেপ্টেম্বর) :

.

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একদা স্নেহধন্যা ভারতী ঘোষ আনন্দপুর থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল’কে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করলেন। রক্তদান শিবিরের প্রাসঙ্গিকতা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কেশপুরে বোমা বিস্ফোরণ ও মৃত্যুর প্রসঙ্গ’কে টেনে আনেন এবং কড়া বাক্যবাণে বিঁধলেন এভাবে, “কেশপুরের এতো মানুষ মারা যাচ্ছে, তৃণমূল যখন এতো মানুষ মারছে, তখন ভারতীয় জনতা পার্টি একটু তো রক্তের ব্যবস্থা করতে পারে! সেজন্যই আজকে এই রক্তদান শিবির। এটা মানুষের প্রতি বার্তা, যে আমরা রক্ত নিতে চাই না, রক্ত দিতে চাই। বিজেপি এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এও বুঝিয়ে দিল যে যে, আপনারা যত মানুষ মারবেন, আমরা আমাদের রক্ত দিয়ে মানুষকে বাঁচাবো।” কেশপুর থেকে বোমা উদ্ধারের ঘটনাটিকেও টেনে এনে ভারতী বলেন, “আপনাদের নেতা-নেত্রীদের বাড়ি থেকে হাঁড়ি হাঁড়ি বোমা উদ্ধার হচ্ছে। ভাঙ্গড় থেকে জলপাইগুড়ি সর্বত্র বোমা তৈরীর কারখানা করেছেন!”

thebengalpost.in
আনন্দপুরের ধামসাইতে ভারতী ঘোষ (২২ সেপ্টেম্বর) :

.
.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে