বিজেপি কর্মীদের আপত্তি জিতেন্দ্র-শ্যামাপ্রসাদে! “তৃণমূল করতে গিয়ে খারাপ কাজ করতে হয়েছে”, স্বীকার পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়কের

বিজ্ঞাপন

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম বর্ধমান, ১৭ ডিসেম্বর: আসানসোল পৌরসভার প্রশাসক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরই তাঁর পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে। এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করে, দলের সমস্ত ধরনের সদস্যপদ পরিত্যাগ করেছেন পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক। আজ, শুক্রবার, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টিও এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। স্পষ্টতই নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ও গন্তব্য পরিষ্কার করে দিতে চেয়েছেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি। তবে, বৃহস্পতিবার সকালেও তিনি জানিয়েছিলেন, বিজেপিতে যাবেন না! দলনেত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। দুপুরের পরই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। প্রথমে, পৌরসভার প্রশাসক পদ থেকে ইস্তফা; তার এক ঘন্টা পরেই দল থেকেও ইস্তফা! যদিও, এজন্য তিনি কলকাতার তৃণমূল নেতাদের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। অবশ্যই তাঁর আক্রমণের মূল লক্ষ্য পুরমন্ত্রী ফিরহাদ ববি হাকিম। এরপরই জিতেন্দ্র তিওয়ারির বিজেপি’তে যাওয়া নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়ে যায়। আর এরপরই আসরে নামেন আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় এবং বিজেপি মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী অগ্নিমিত্রা পল। তাঁরা দু’জনেই জানান, দলের নীচুতলার কর্মীরা জিতেন্দ্র তিওয়ারি’কে বিজেপিতে মেনে নিতে পারবেন না! বাবুল সুপ্রিয় বলেন, “আসানসোলের অলিতে গলিতে অনেক নেতা নির্যাতিত হয়েছেন, প্রাণ দিয়েছেন, মিথ্যে মামলায় জেলবন্দী আছেন! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় যাঁরা এই কাজ করেছেন, জিতেন্দ্র তিওয়ারি তাদের মধ্যে অন্যতম। তাই বিজেপিতে এলে তাঁকে মন থেকে মেনে নিতে পারবনা! তবে, দলের শীর্ষ নেতৃত্বই শেষ কথা বলবেন, তাঁরা যা নির্দেশ দেবেন তা মানতেই হবে!”

thebengalpost.in
শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি :

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এরপরই, জিতেন্দ্র তিওয়ারি পরোক্ষে বাবুল সুপ্রিয়র অভিযোগ স্বীকার করে নিয়ে, অনুশোচনার সুরে বলেছেন, “তৃণমূল কংগ্রেস করতে গিয়ে অনেক খারাপ কাজ করতে হয়েছে। এজন্য বাবুল সুপ্রিয়র রাগ হওয়া স্বাভাবিক!” তিনি এও বলেন, “বিজেপির অনেক কর্মীই হয়তো বাবুলের কাছে আমাকে নিয়ে অভিযোগ করেছেন, বাবুল তাই এমন মন্তব্য করেছেন। তৃণমূলের উপর মানুষের ক্ষোভ আছে, পঞ্চায়েত ভোটে মনোনয়ন জমা করতে দেওয়া হয়নি! দিদিকে এসব কথা জানাতে চেয়েছিলাম! কিন্তু, তার আগেই পাণ্ডবেশ্বরে হামলা চালাল তৃণমূল কর্মীরা। তাই আর দায়িত্ব নিতে চাইনা।” স্বভাবতই, অনুশোচনার সুরে জিতেন্দ্র যে পরোক্ষে বিজেপির কাছে ‘মাফ’ চেয়ে নিয়ে, গেরুয়া আঁচলেই আশ্রয় নিতে চেয়েছেন, তা বলাই বাহুল্য! বুধবার সাংসদ সুনীল মন্ডলের বাড়িতে শুভেন্দু অধিকারী’র সঙ্গে হওয়া বৈঠকে যে ক’জন উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা প্রত্যেকেই যে বিজেপি’তে যোগদান করতে চলেছেন সে বিষয়েও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের আর কোনও সন্দেহ নেই। সাংসদ সুনীল মন্ডল নিজে এবং কর্ণেল দীপ্তাংশু চৌধুরী সম্ভবত শুভেন্দু অধিকারী’র সঙ্গেই ১৯ শে ডিসেম্বর মেদিনীপুরের সভায় অমিত শাহের হাত থেকে পদ্ম-পতাকা হাতে তুলে নেবেন! জিতেন্দ্র তিওয়ারিও হয়তো তাঁদের সঙ্গী হতে চলেছেন। তবে, কালনার বিধায়ক বিশ্বজিৎ কুন্ডু হয়তো আরও কয়েকদিন পর সিদ্ধান্ত নেবেন। অপরদিকে, বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী এবং বিষ্ণুপুর পৌরসভার প্রাক্তন পৌর প্রশাসক শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিও ইতিমধ্যে দলত্যাগ করেছেন। বাঁকুড়া জেলা তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা (জেলা সহ-সভাপতি) বৃহস্পতিবার দলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক পরিত্যাগ করে, শুভেন্দু অধিকারী’র সঙ্গে বিজেপি’তে যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। তবে, তাঁর বিরুদ্ধেও স্থানীয় বিজেপি নেতা-কর্মীদের ক্ষোভ চরমে! ইতিমধ্যে, বিষ্ণুপুর শহরে মিছিল করে তাঁরা জানিয়েছেন, দুর্নীতিগ্রস্ত শ্যামাপ্রসাদকে দলে নেওয়া চলবেনা। সবমিলিয়ে, দল ছেড়েও স্বস্তিতে নেই শ্যামাপ্রসাদ!

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে