‘চিকিৎসক নিগ্রহ’ কান্ডের মধ্যেই ঝাড়গ্রামে গত সাতদিনে সরকারিভাবে আক্রান্ত ১৭০ জন, সুস্থ ৮৫ জন, ৪ জনের মৃত্যু হলেও ‘সংখ্যা’ বাড়েনি

.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট বিশেষ প্রতিবেদন, ঝাড়গ্রাম, ২১ সেপ্টেম্বর : ঝাড়গ্রাম জেলা হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ অর্ণাশিস হোতা’কে গত ১৯ শে সেপ্টেম্বর মৃত (করোনা রিপোর্ট পজিটিভ) এক রোগীর পরিজনদের তরফে নিগ্রহ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। রোগীর পরিজনদের এই নিগ্রহের প্রতিবাদ জানানোর সাথে সাথে, জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের অসহযোগিতার অভিযোগ জানিয়ে, জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ওই দিন রাত পর্যন্ত ধর্না ও কর্মবিরতি পালন করেন। তৃণমূলের জেলা মুখপাত্র তথা প্রাক্তন সাংসদ ডাঃ উমা সরেনের আবেদনে সাড়া দিয়ে, ধর্না ও কর্মবিরতি তুলে নিলেও, ‘বিতর্ক’ এখনো থামেনি! বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পরস্পরকে দোষারোপ করতে ব্যস্ত। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকেও নতুন কোন সিদ্ধান্ত বা ক্ষোভ প্রশমনের উদ্যোগ সম্পর্কে জানা যায়নি। এদিকে, চিকিৎসক নিগ্রহ কাণ্ডে, মৃত সত্যনারায়ণ দাসের তিন পরিজনকে (ভবেশ দাস, রঞ্জিত ভুঁই, বাবুল নামহাতা) গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলা হলেও, মূল অভিযুক্ত’কে (মৃত সত্যনারায়ণের নিকটাত্নীয়া) গ্রেফতার করা হয়নি বলে, ধৃতদের আইনজীবী ও ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য। অপরদিকে, ধৃতদের ১৪ দিনের জেলহাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। আর এসবের মধ্যেই ঝাড়গ্রাম জেলার করোনা সংক্রমণ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। গত সাতদিনে (১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২১ সেপ্টেম্বর), প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৪ জন করে ঝাড়গ্রামে মোট করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ১৭০ জন। তুলনায়, সুস্থতার সংখ্যা অর্ধেক! গড়ে ১২ জন করে সাতদিনে সুস্থ হয়েছেন ৮৫ জন। এই তথ্য অবশ্য ঝাড়্গ্রাম জেলা প্রশাসন বা জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর কিংবা কোনো বিশেষ সূত্রে’র নয়। রাজ্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের করোনা বুলেটিন অনুযায়ী এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, দ্য বেঙ্গল পোস্টের (The Bengal Post) তরফে। তবে, অত্যন্ত অবাক করা বিষয় হল, গত সাতদিনে সরকারিভাবে ১ জন পুলিশকর্মী সহ মোট ৪ জনের মৃত্যু হলেও, রাজ্যের ‘করোনা বুলেটিনে’ এখনো জ্বলজ্বল করছে ‘২’ ! গত প্রায় একমাসেরও বেশি সময় ধরে (১২ আগস্ট থেকে) মৃতের সংখ্যা দুই’ই (২) থেকে গেছে, ঝাড়গ্রাম জেলার ‘করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু’র তালিকায়!

thebengalpost.in
ধর্নায় চিকিৎসকেরা (১৯ সেপ্টেম্বর, ফাইল ছবি) :

.

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ১৬ সেপ্টেম্বর (বুধবার রাতে), করোনা সংক্রমিত হয়ে মৃত্যু হয়েছে পুলিশকর্মী মনোজ কুমার মন্ডলের (৪৮)। গত ১৭ সেপ্টেম্বর মৃত্যু হয়, গোপীবল্লভপুরের হুমটিয়া গ্রামের বাসিন্দা যুগল সাহু (৬৫)’র। সূত্রের খবর অনুযায়ী, দু’জনেরই মৃত্যু হয়েছে জেলা হাসপাতালে। এছাড়াও, শুক্রবার রাতে (১৮ সেপ্টেম্বর) মৃত্যু হয়েছে সত্যনারায়ণ দাসের, যাঁর মৃত্যু নিয়ে এত বিতর্ক এবং শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) মৃত্যু হয়েছে, বাছুরডোবা হরিতকীতলার বাসিন্দা ভবেশ কুমার গিরি (৮৪)’র। এই দু’জনের মৃত্যুও হয়েছে জেলা হাসপাতালে। তা সত্বেও ২১ শে সেপ্টেম্বরের করোনা বুলেটিন (রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের) অনুযায়ী, ঝাড়গ্রামে ‘করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু’র ঘরে সেই ২ (দুই)! ঝাড়গ্রামের সচেতন নাগরিকদের মতে, সংখ্যাটা বাড়লে বা সঠিক তথ্য জানলে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়বেন, আর নাহলে মানুষ নিশ্চিন্তে ঘরে বসে ‘সুরক্ষিত’ থাকবেন, বিষয়টা একেবারেই তা নয়; বরং সত্যিটা জানলে, মানুষ একটু হলেও সচেতন হতে পারবে। আর, ডিজিটাল মিডিয়ার যুগে মানুষের কাছে কোনো কিছুই অজানা নয়! তা সত্ত্বেও, তথ্যের এই গরমিল, মেনে নেওয়া যায় না। এদিকে, রাজ্যের করোনা বুলেটিন অনুযায়ী গত সাতদিনে (১৫-২১ সেপ্টেম্বর) ঝাড়গ্রামে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন যথাক্রমে- ২৬, ২৫, ২৫, ২৫, ১৯, ২৭ ও ২৩ (আজ, সোমবার)। সুস্থ হয়েছেন যথাক্রমে- ১, ১৬, ১৩, ১১, ১, ১১, ৩২ (আজ, সোমবার)। সাতদিনে মোট সংক্রমিত ১৭০ জন, সুস্থ ৮৫ জন। এখনো পর্যন্ত ঝাড়গ্রাম জেলায়, করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ৫৫৮ জন, সুস্থ ৩৯৩ জন, চিকিৎসাধীন ১৬৩ জন (রাজ্যের ২১ শে সেপ্টেম্বরের বুলেটিন)। সুস্থতার হার ৭০ শতাংশের সামান্য বেশি।

.
.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে