তরুণ অধ্যাপকের ‘রহস্য মৃত্যু’র ঘটনায় গ্রেপ্তার স্ত্রী ও শ্বশুর, জেল হেফাজতের নির্দেশ দিল মেদিনীপুর আদালত

বিজ্ঞাপন

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৩ ফেব্রুয়ারি: ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইটের মাধ্যমে যোগাযোগ করে, দুই বাড়ির সম্মতিতেই গত ১৮ ই জানুয়ারি (২০২১) বিয়ে হয়েছিল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুর ব্লকের আঁধিচক গ্রামের প্রতিম মাইতি এবং ডেবরার শালকাঠি ব্রততী দে’র। বিয়ের মাত্র ১৫ দিনের মাথায়, সোমবার গভীর রাতে (১ ফেব্রুয়ারি) নাড়াজোল রাজ কলেজের এডুকেশন বিভাগের তরুণ অধ্যাপক প্রতিমের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে সারা জেলায়! শোকস্তব্ধ প্রতিমের বাবা-মা সহ গোটা গ্রাম ও কলেজের সহকর্মীরা। মঙ্গলবার প্রতিমের দেহের ময়নাতদন্ত হয় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। সেই রিপোর্ট হাতে না এলেও, প্রতিমের বাবা মানিক মাইতি ও পারুল মাইতি অভিযোগ করেছিলেন, উচ্চশিক্ষিতা (এম টেক ইঞ্জিনিয়ার) ‘নববধূ’ই তাঁদের ছেলেকে খুন করেছে। এরপর, গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে কেশপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন মৃত অধ্যাপকের মা পারুল মাইতি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কেশপুর থানার পুলিশ মৃতের স্ত্রী ব্রততী দেবী এবং তাঁর বাবা সুভাষচন্দ্র দে’কে প্রথমে আটক করে এবং তারপর গ্রেফতার করে আজ (৩ রা ফেব্রুয়ারি), মেদিনীপুর জেলা আদালতে (জর্জ কোর্টে) তোলে। তাঁদের কথায় অসঙ্গতি ধরা পড়ায় বিচারপতি দু’জনেরই ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

thebengalpost.in
প্রতিম ও ব্রততী :

বিজ্ঞাপন

[ আরও পড়ুন -   আধার কার্ড তৈরি ও আধার কার্ড সংশোধনের জন্য ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা! বে-আইনি ব্যবসা চালানোর অপরাধে পশ্চিম মেদিনীপুরে পাকড়াও ৪ জন ]

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সোমবার যথারীতি খাওয়া-দাওয়ার পর প্রতিম ও ব্রততী ঘরের দরজা লাগিয়ে শুয়ে পড়েন। এরপর, মাঝরাতে হঠাৎ গোঁঙানি শুরু হয় প্রতিমের, পরে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। ভোররাতে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে, তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। প্রতিমের পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের ছেলেকে খুন করেছে ব্রততী। কারণ, ঐ সময়ে ঘরে ‘নববধূ’ ছাড়া কেউ ছিলনা এবং ঘরের দরজাও ভেতর থেকে লাগানো ছিল। অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উচ্চশিক্ষিতা নববধূ ব্রততী। তাঁর বক্তব্য, প্রতিমের কোনো শারীরিক অসুস্থতা ছিলনা, তবে ঘুমের মধ্যে হঠাৎ করেই গোঙানি শুরু হয়, তারপরই সংজ্ঞা হারায় সে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিম ২০১৯ সালে দাসপুর থানার নাড়াজোল রাজ কলেজে এডুকেশন বিভাগে অধ্যাপনার কাজে যোগ দিয়েছিলেন। গত, ১৮ ই জানুয়ারি (২০২১), প্রতিমের বিয়ে হয় ডেবরা থানার শালকাঠি গ্রামের সুভাষ চন্দ্র দে’র কন্যা ব্রততীর সঙ্গে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক আপাতদৃষ্টিতে ঠিক থাকলেও, বিয়ের পর থেকেই নতুন বউয়ের সঙ্গে শ্বশুর বাড়ির বিভিন্ন বিষয়ে মনোমালিন্য ছিল বলে দুই পরিবারই স্বীকার করেছে এবং একে-অপরকে দোষারোপও করে চলেছে। তবে, এতবড় ঘটনা যে ঘটে যাবে, তা বিশ্বাস করতে পারছেন না কেউই! ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে রহস্যমৃত্যুর জাল উদঘাটনে পুলিশের সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে!
*** বিয়ের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় ‘অস্বাভাবিক মৃত্যু’ তরুণ অধ্যাপকের….

[ আরও পড়ুন -   প্রায় সত্তর হাজার পরিযায়ী শ্রমিক জেলায় ফিরে এলেও করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে, জানালেন পশ্চিম মেদিনীপুরের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ ]