দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, কলকাতা, ১৭ এপ্রিল: পঞ্চম দফার নির্বাচনে, আগ্নেয়াস্ত্র সমেত পাকড়াও নদীয়ার চাকদহের নির্দল প্রার্থী কৌশিক ভৌমিক। তাঁর পাঞ্জাবির পকেটে আগ্নেয়াস্ত্র (বন্দুক) দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘিরে ধরেন নির্দল প্রার্থী কৌশিক ভৌমিককে। পাঞ্জাবির পকেটে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিছুক্ষণ পর পুলিশ আগ্নেয়াস্ত্রটি বাজেয়াপ্ত করে। এদিকে নির্দল প্রার্থীর দাবি, “আমাকে লক্ষ্য করে এক দুষ্কৃতী বন্দুক বের করেছিল। তারপর এগিয়ে গেলে, বন্দুক ছুঁড়ে পালায় দুষ্কৃতী। আগ্নেয়াস্ত্রটি পুলিশের কাছে নিয়ে যাচ্ছিলাম।” এমনটাই দাবি করলেন ওই নির্দল প্রার্থীর। গোটা ঘটনার খবর পেয়েই বিস্তারিত রিপোর্ট চায় নির্বাচন কমিশন। প্রসঙ্গত, শনিবার পঞ্চম দফায় রাজ্যের ৬ জেলার মোট ৪৫ আসনে ভোট গ্রহণ চলছে। যার মধ্যে চাকদহের সঙ্গে রয়েছে নদিয়ায় ৮টি বিধানসভা কেন্দ্র। ভোটপঞ্চমীর সকাল থেকেই নদিয়ার একের পর এক জায়গা থেকে দফায় দফায় অশান্তির খবর আসে। কল্যাণীতে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে বোমাবাজি, শান্তিপুরে ভোটারদের ভয় দেখিয়ে ভোটদানে বাধা সহ একাধিক দাবি সামনে উঠে আসতে থাকে। কল্যাণী-গয়েশপুর এক্সপ্রেসওয়েতে ভোট দিতে না পেরে অবরোধ করেন ভোটাররা। শান্তিপুরে একসময় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভও দেখান স্থানীয়রা। পরে অবশ্য স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় বাহিনী বিভিন্ন জায়গার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।


Whatsapp Group এ
অপরদিকে, ভোট পঞ্চমীর সকালে, উত্তর ২৪ পরগনার কামারহাটি বিধানসভার একটি ভোট কেন্দ্রের মধ্যেই আচমকা অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হল এক পোলিং এজেন্টের। ১০৭ নম্বর বুথে মৃত ওই ব্যক্তি নির্দল অভিজিৎ সামন্তের পোলিং এজেন্ট ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় বুথের দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি আধিকারিকদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে বিজেপি। তাদের দাবি, ভোট শুরুর পরে বুথের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে সহযোগিতা মেলেনি বলে অভিযোগ বিজেপি-র। প্রাথমিক ভাবে হৃদরোগ মৃত্যুর কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। ওই যুবকের নাম অভিজিৎ সামন্ত। উত্তর ২৪ পরগনার কামারহাটির ১০৭ নম্বর বুথে বিজেপির পোলিং এজেন্টের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। শনিবার সকালে নির্ধারিত সময়ে পৌঁছে যান বুথে। এরপর কিছুক্ষণ পর থেকে হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। শুরু হয় বমি। অভিযোগ, সেখানে উপস্থিত ভোট কর্মীরা অর্থাৎ অন্যদলের পোলিং এজেন্ট, প্রিসাইডিং অফিসাররা বিষয়টি দেখলেও প্রথমে গুরুত্ব দেননি। বেশ কিছুক্ষণ পর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা অভিজিৎকে মৃত বলে ঘোষণা করে। এদিকে ভোটের দিন কামারহাটিতে প্রচুর বহিরাগত ঢুকিয়েছে বিজেপি। এমন বিস্ফোরক অভিযোগও তুলেছেন তৃণমূল প্রার্থী মদন মিত্র। অন্যদিকে, বিধাননগর (সল্টলেক) বিধানসভা আজ সকাল থেকেই উত্তপ্ত তৃণমূল বিজেপির সংঘর্ষে। এই মুহূর্তে পরিস্থিতি সেখানে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। চলছে টহল।


একঝলকে পঞ্চম দফার ভোট :
উত্তর ২৪ পরগনা (১৬), পূর্ব বর্ধমান (৮), নদিয়া (৮), জলপাইগুড়ি (৭), দার্জিলিং (৫) ও কালিম্পং (১) মোট ৬ জেলার ৪৫টি আসনে ভোট গ্রহন।
জেলাভিত্তিক যে যে বিধানসভা আসনে ভোট :
উত্তর ২৪ পরগনা (১৬)- পানিহাটি, কামারহাটি, বরানগর, দমদম, রাজারহাট নিউটাউন, বিধাননগর, রাজারহাট গোপালপুর, মধ্যমগ্রাম, বারাসত, দেগঙ্গা, হাড়োয়া, মিনাখাঁ, সন্দেশখালি, বসিরহাট দক্ষিণ, বসিরহাট উত্তর, হিঙ্গলগঞ্জ।
পূর্ব বর্ধমান (৮)-খণ্ডঘোষ, বর্ধমান দক্ষিণ, রায়না, জামালপুর , মন্তেশ্বর, কালনা, মেমারি, বর্ধমান উত্তর।
নদীয়া (৮)- শান্তিপুর, রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম, কৃষ্ণগঞ্জ, রানাঘাট উত্তর-পূর্ব, রানাঘাট দক্ষিণ, চাকদহ, কল্যাণী, হরিণঘাটা।
জলপাইগুড়ি (৭)- ধূপগুড়ি, ময়নাগুড়ি, জলপাইগুড়ি, রাজগঞ্জ, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি, মাল, নাগরাকাটা।
দার্জিলিং (৫)- দার্জিলিং, কার্শিয়াং, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি , শিলিগুড়ি, ফাঁসিদেওয়া।
কালিম্পং (১)- কালিম্পং।









