কি এই ‘ড্রাই রান’ ? মেদিনীপুর-খড়্গপুরে কোথায় ও কিভাবে হবে? জেনে নিন

বিজ্ঞাপন

দ্য বেঙ্গল পোস্ট বিশেষ প্রতিবেদন, মণিরাজ ঘোষ, ৮ জানুয়ারি: করোনা ভ্যাকসিনের ‘ড্রাই রান’ (Dry run of Corona Vaccine)। কয়েকদিন ধরে এই শব্দটাই চোখের সামনে ধরা পড়ছে অথবা কানের কাছে বাজছে। বেশ ‘আশাব্যঞ্জক’ শব্দ বলে অনুভব করছেন অনেকেই, তবে সঠিক মানেটা অনুধাবন করতে পারছেন না হয়তো! ‘ড্রাই’ শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে, বিস্তারিত বিষয়টি। করোনা ভ্যাকসিনের যখন প্রকৃত ভ্যাকসিনেশন বা টীকাকরণ শুরু হবে, তা সঠিকভাবে চালিত করা অথবা সাফল্যমণ্ডিত করার কাজটি বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অথবা স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে। সেই জন্যই, টীকা বা ভ্যাকসিন হাতে পাওয়ার ঠিক প্রাক্কালে (আগে) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী’দের ট্রেনিং ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে আইসিএমআর তথা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ দলের তরফে। মাসখানেক আগে, ভার্চুয়াল মোডে (মাধ্যমে) সেই ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিমাই চন্দ্র মন্ডল, উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী,‌ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ পঞ্চানন কুন্ডু, ক্লিনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর ডাঃ কৃপাসিন্ধু গাঁতাইত প্রমুখরাও। এবার সেই ট্রেনিং মোতাবেক শুধুমাত্র ‘ভ্যাকসিন’ টুকু বাদ দিয়ে পুরো পদ্ধতিটিই পরিচালিত বা অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রক্রিয়ায় যেহেতু সবকিছুই থাকছে, শুধু ‘ভ্যাকসিন’ বা প্রতিষেধক টি বাদ দিয়ে, তাই একে বলা হচ্ছে, করোনা ভ্যাকসিনের ‘ড্রাই রান’ বা মহড়া। ঠিক যেকোনো অনুষ্ঠান বা যাত্রাপালার মহড়ার মতো। এখানেও, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল বা ভ্যাকসিনেশন প্রক্রিয়ার পুরো টিম উপস্থিত থাকবেন। ভ্যাকসিন যে পদ্ধতিতে দেওয়া হবে, অর্থাৎ দেওয়ার আগে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা চেক আপ, ভ্যাকসিন দেওয়া এবং দেওয়ার পর পর্যবেক্ষণ করা, সবকিছুই একেবারে পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ করা হবে। শুধুমাত্র ভ্যাকসিন টুকুই প্রয়োগ করা হবে না!

thebengalpost.in
ওয়েটিং রুম :

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর ও খড়্গপুর এর, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ, কেরানীটোলায় (মেদিনীপুর) অবস্থিত পরিবার কল্যাণ দপ্তর এবং হিজলী গ্রামীণ হাসপাতাল (খড়্গপুর), এই তিনটি কেন্দ্রে আজ করোনা ভ্যাকসিনের ‘ড্রাই রান’ বা মহড়া অনুষ্ঠিত চলছে, সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ২ টো পর্যন্ত। জেলার বিশেষজ্ঞ ও ট্রেনিংপ্রাপ্ত চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীর দল এই মহড়ায় অংশগ্রহণ করবেন। জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী এবং জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ শ্যামপদ পাত্র গতকাল আমাদের জানিয়েছেন, তিনটি রুম থাকবে। প্রথম রুম- ওয়েটিং রুম, দ্বিতীয় রুম- ভ্যাকসিনেশন রুম এবং তৃতীয় রুম- অবজারভেশন রুম। প্রথম রুমে গিয়ে অপেক্ষা করতে হবে ভ্যাকসিন নেওয়ার আগে। প্রায় ১৫ মিঃ অপেক্ষা ও প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ভ্যাকসিনেশন রুমে প্রবেশ করতে হবে। এরপর ভ্যাকসিনেশন রুমে বিশেষজ্ঞরা পুনরায় কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তথ্য সংগ্রহের পর ভ্যাকসিন দেবেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। এরপর, অবজারভেশন রুমে ওই ভ্যাকসিন গ্রহীতা কে অন্তত ৩০ মিঃ পর্যবেক্ষণ করবেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। সুস্থ থাকলে বাড়ির যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। আপাদমস্তক এই পদ্ধতিই আজ অনুসরণ করা হবে, ড্রাই রানে। শুধু ভ্যাকসিন দেওয়া হবে না। ভ্যাকসিন গ্রহীতার ভূমিকায় থাকবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা এবং দাতার ভূমিকায় থাকবেন বিশেষজ্ঞ ও ট্রেনিংপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা। প্রতিটি সেন্টারের জন্য ২৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী ও ৪ জন করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকবেন। প্রকৃত ভ্যাকসিনেশন প্রক্রিয়া শুরু হলে, এই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী রাই অংশগ্রহণ করবেন। তাই, আজ সেই মহড়া বা ড্রাই রানের মধ্য দিয়ে পুরো বিষয়টি নিখুঁত ভাবে পরিচালনা করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে আইসিএমআর ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী।

thebengalpost.in
অবজারভেশন রুম :

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে