নিয়ন্ত্রিত সংক্রমণ! এবার বন্ধ হচ্ছে ডেবরা সেফ হোম, ধাপে ধাপে অন্যগুলিও, শেষ সাতদিনে সংক্রমিত মাত্র ৩৭১ জন

thebengalpost.in
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের HDU UNIT পরিদর্শনে (ফাইল ছবি, ১০ নভেম্বর) :
বিজ্ঞাপন

মণিরাজ ঘোষ, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৬ নভেম্বর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার করোনা পরিস্থিতি এই মুহূর্তে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। বিশেষত, গত দু’-তিন সপ্তাহে দৈনিক গড় সংক্রমণ মাত্র ৫২-৫৩। গ্রামীণ এলাকাগুলিতে সংক্রমণ প্রায় নেই বললেই চলে। তবে, খড়্গপুর ও মেদিনীপুর এখনও পর্যন্ত ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে! যদিও, সেই হার ক্রমশ নিম্নমুখী। উল্লেখযোগ্য ভাবে জেলায় বৃদ্ধি পেয়েছে সুস্থতার হারও (প্রায় ৯৬ শতাংশ)। অন্যদিকে, চিকিৎসাধীন করোনা সংক্রমিতদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষই বাড়িতে (হোম আইশোলেশন বা গৃহ নিভৃতবাসে) থাকার পক্ষে। উপসর্গহীন বা স্বল্প উপসর্গযুক্ত এই সংক্রমিতরা বাড়িতে থেকেই স্বাস্থ্য দপ্তরের পরামর্শ মেনে, ওষুধপত্র সেবন বা সপ্তাহখানেক বিশ্রাম নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তাই, করোনা হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসাধীন আছেন মাত্র ১০-১২ শতাংশ মানুষ। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের সর্বশেষ রিপোর্ট (২৫ শে নভেম্বর রাতের রিপোর্ট) অনুযায়ী, এই মুহূর্তে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের এইচডিইউ (১১ জন) সহ ৬ টি করোনা হাসপাতাল ও সেফ হোমে মোট চিকিৎসাধীনের সংখ্যা মাত্র ৬২। এই পরিস্থিতিতে, গত ২১ শে নভেম্বর থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, জেলার একটি সেফ হোম। মেদিনীপুর শহরের তাঁতিগেড়িয়ায় অবস্থিত ‘আয়ুশ স্যাটেলাইট’ বা আয়ুশ সেফ হোম দীর্ঘদিন ধরেই রোগী-শূণ্য ছিল, তাই গত সপ্তাহে (১৮ নভেম্বর), জেলাশাসকের নেতৃত্বাধীন জেলার কোভিড টাস্ক ফোর্স ওই ‘সেফ হোম’ টি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। একইরকম ভাবে ডেবরা সেফ হোম টিতেও বিগত প্রায় সাতদিন ধরে কোনো করোনা আক্রান্ত চিকিৎসাধীন ছিলেন না, তাই জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে আভাস পাওয়া গিয়েছিল যে, এভাবে আর দিন সাতেক চললেই, বন্ধ হবে ডেবরা সেফ হোম টিও। আপাতত, সেই ভাবনাতেই সিলমোহর পড়তে চলেছে। গতকাল (২৫ নভেম্বর), জেলার এই সপ্তাহের কোভিড টাস্ক ফোর্সের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আগামী সপ্তাহ থেকেই বন্ধ হচ্ছে, ডেবরা গ্রামীণ হাসপাতালে চালু হওয়া সেফ হোম টি।

thebengalpost.in
ডেবরা গ্রামীণ হাসপাতাল :

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, জুলাই মাস থেকে ভয়াবহ হারে বেড়ে চলা সংক্রমণের মোকাবিলায়, রাজ্য সরকারের নির্দেশ মেনে প্রতিটি জেলায় গড়ে তোলা হয়েছিল, একাধিক সেফ হোম বা নিরাপদ নিলয়। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার প্রথম সেফ হোম হিসেবে, গত ২৪ জুলাই পথ চলা শুরু করেছিল, ডেবরা সেফ হোম। ৪০ শয্যার এই ‘সেফ হোম’ প্রথম তিন মাস চরম ব্যস্ততা ও তৎপরতার সঙ্গে পরিষেবা প্রদান করেছে। কিন্তু, গত ১ মাস ধরে জেলার করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার সাথে সাথে ডেবরা সেফ হোম সহ জেলার প্রতিটি সেফ হোমেই আর রোগীর দেখা নেই। এই পরিস্থিতিতে, শুধু ডেবরা নয়, আগামীদিনে (ধাপে ধাপে) পরিস্থিতি অনুযায়ী, প্রতিটি ‘সেফ হোম’ ই বন্ধ করে দেওয়ার হবে বলে জেলা কোভিড টাস্ক ফোর্সের বৈঠকে স্থির হয়েছে। জেলাশাসক ডঃ রশ্মি কমল, জেলা পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিমাই চন্দ্র মন্ডল, উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী ছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলার জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক কর্মাধ্যক্ষ শ্যামপদ পাত্র। তিনি জানালেন, “প্রয়োজনের উপর ভিত্তি করে, রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশিকা মেনে সেফ হোম গুলি গড়ে তোলা হয়েছিল। এই মুহূর্তে প্রয়োজন নেই, তাই আয়ুশ স্যাটেলাইট আপাতত বন্ধ করা হয়েছে এবং ডেবরা সেফ হোম টিও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেলাশাসক এই বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করবেন। এভাবেই যদি সংক্রমণ কমতে থাকে এবং সুস্থতার হার বাড়তে থাকে তবে, অন্যান্য গুলিও ধাপে ধাপে বন্ধ করা হবে। লেভেল ফোর শালবনী ছাড়া, এখন মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজেও উন্নত মানের কোভিড ওয়ার্ডে বা এইচডিইউ ইউনিটে (২৬ শয্যা) চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সেখানে আরো কিছু শয্যা বাড়াতে সক্ষম কর্তৃপক্ষ। কাজেই ধাপে ধাপে অন্যান্যগুলি বন্ধ করলেও অসুবিধা হবেনা। তবে, সবটাই হবে পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে।” সেফ হোমের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁদের পুরানো কর্মস্থলে, অর্থাৎ সাধারণ চিকিৎসা পরিষেবা র সঙ্গেই আবার যুক্ত হয়ে যাবেন বলেও জানান তিনি।

thebengalpost.in
মেদিনীপুর শহরের আয়ুশ স্যাটেলাইট (১৫ ই আগস্ট, ২০২০) পরিদর্শনে জেলাশাসক, বিধায়ক, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ও উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক :

বিজ্ঞাপন

এদিকে, গত সাতদিনে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, ৩৭১ জন। ১৯ থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত সংক্রমিত হয়েছেন যথাক্রমে- ৫৫, ৬৭, ৫৭, ২৬, ৫৫, ৫২ ও ৫৯। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, এই ৩৭১ জনের মধ্যে অধিকাংশ জনই মেদিনীপুর ও খড়্গপুরের বাসিন্দা। বাকি কিছুটা ঘাটাল, দাসপুর, চন্দ্রকোনা, বেলদা ও দাঁতনের। এই মুহূর্তে প্রতিদিন গড়ে ৮৫০ থেকে ১০০০ টি টেস্ট হচ্ছে। এই টেস্টের সংখ্যা আগামীদিনে আরও বাড়ানো হবে বলেই জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। এই মুহূর্তে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৫,৭৪৯। সক্রিয় বা চিকিৎসাধীন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র ৪৮৮ (হাসপাতালে ৬২, বাড়িতে ৪২৬)। প্রায় ৯৬ শতাংশ হারে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৫,০৩১ জন। মৃত্যু হয়েছে ২৩০ জনের!

thebengalpost.in
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের HDU UNIT পরিদর্শনে (ফাইল ছবি, ১০ নভেম্বর) :

বিজ্ঞাপন

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে