টিকা নেওয়ার পর প্রতি ১০ হাজার জনে সংক্রমিত মাত্র ৩-৪ জন! সামান্য এগিয়ে থাকা ‘কোভিশিল্ড’ এর সর্বোচ্চ দাম ৬০০ টাকা

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, নিউ দিল্লি, ২২ এপ্রিল: মারণ ভাইরাস ‘করোনা’র বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এক এবং অদ্বিতীয় “মৃতসঞ্জীবনী সুধা” হল ভ্যাকসিন বা টিকা! আজ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে, একটি তথ্য প্রকাশ করে ভ্যাকসিনের সেই অব্যর্থ কার্যকারিতার বিষয়টিতেই সিলমোহর দেওয়া হল। তথ্য অনুযায়ী, ১১.৬ কোটি মানুষ ‘কোভিশিল্ড’ (Covishield) ভ্যাকসিন নিয়েছেন এখনও পর্যন্ত। তার মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২২ হাজার ১৫৯ জন (প্রথম ডোজ নেওয়ার পর ১৭১৪৫, দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর ৫০১৪ জন)। ভ্যাকসিন নেওয়ার পর সংক্রমণের হার ০.০৩ শতাংশ (দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর); অর্থাৎ, প্রতি ১০ হাজারে ৩ জন! অপরদিকে, ‘কোভ্যাক্সিন’ (Covaxin) নিয়েছেন ১.১ কোটি এখনও পর্যন্ত। এর মধ্যে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ৪৯০৩ জন (প্রথম ডোজ নেওয়ার পর ৪২০৮ এবং দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর ৬৯৫)। ভ্যাকসিন নেওয়ার পর সংক্রমণের হার ০.০৪ শতাংশ; অর্থাৎ প্রতি ১০ হাজারে ৪ জন। তবে, একটি তথ্য সামান্য বিস্ময় সৃষ্টি করেছে কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন প্রথম ডোজ নেওয়ার পর সংক্রমণের হার ০.০২ শতাংশ অর্থাৎ ১০ হাজার জনে মাত্র ২ জন এবং দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর সংক্রমণের হার ০.০৩ শতাংশ অর্থাৎ প্রতি ১০ হাজার জনে ৩ জন। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের মতে হঠকারিতা বা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই দায়ী! তাঁরা বলছেন, “দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর অনেকেই ভাবছেন মাস্ক না পরলেও বা কোভিড বিধি না মানলেও করোনা তাদের ছুঁতে পারবেনা! এই ধারনা সম্পূর্ণ ভুল। ভ্যাকসিন নেওয়ার পরও, নিয়ম না মানলে সংক্রমিত হওয়ার চান্স ১০ থেকে ২০ শতাংশ! তবে, সেক্ষেত্রে শারীরিক জটিলতা বা বাড়াবাড়ি হওয়ার সুযোগ কম। এমনকি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আশঙ্কা বা মৃত্যু’র আশঙ্কা ৯৫ শতাংশ কমে যায়। তবে, কোভিড বিধি প্রত্যেকের মেনে চলা উচিত। এই সংক্রমণ রুখতে গেলে মাস্ক ও দূরত্ব বিধি সহ নিয়ম মানতেই হবে।”

thebengalpost.in
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য (C: PIB) :

মোবাইলে খবর পেতে জয়েন করুন
Whatsapp Group এ

অপরদিকে, সিরাম ইনস্টিটিউটের (SII- Serum Institute of India) পক্ষ থেকে গতকাল ভ্যাকসিনের দাম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ১ লা মে থেকে ১৮ বছরের উর্ধ্বে সকলেই ভ্যাকসিন নিতে পারবেন এবং ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে খোলা বাজারে বা বেসরকারি হাসপাতালেও। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ৪৫ উর্ধ্বদের বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রক্রিয়া যেমন চলছে তা চলবে। প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় সরকারকে সিরাম ইনস্টিটিউট কোভিশিল্ডের প্রতি ডোজ বিক্রি করছে ১৫০ টাকায়। কিন্তু, ১ লা মে থেকে প্রতিটি রাজ্য সরকার’কে সিরাম ভ্যাকসিন বিক্রি করবে ৪০০ টাকা/প্রতি ডোজ। সিরামের কাছ থেকে বেসরকারি হাসপাতালও সরাসরি ভ্যাকসিন কিনতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রতি ডোজ ভ্যাকসিনের দাম পড়বে ৬০০ টাকা। এক্ষেত্রে হয়তো কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের তরফে বেসরকারি হাসপাতালকে সর্বোচ্চ দাম বেঁধে দেওয়া হবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ভ্যাকসিন বাবদ অর্থ নেওয়ার ক্ষেত্রে। এই মুহূর্তে ৪৫ উর্ধ্বদের ভ্যাকসিন বাবদ বেসরকারি হাসপাতালগুলি প্রতি ডোজের জন্য ২৫০ টাকা করে নিচ্ছে। কেন্দ্রর তরফে এই দাম বেঁধে দেওয়া হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় ভাবেই বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে ভ্যাকসিন প্রদান করছে। যদিও গত এক সপ্তাহে বেসরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিন প্রায় নিঃশেষিত! কারণ, ভ্যাকসিনের সরবরাহ এখন কমে গেছে।

thebengalpost.in
সিরামের (SII) এর মূল্য তালিকা :

আরও পড়ুন -   আগামী বছরের গোড়াতেই ভারতে করোনা ভ্যাকসিন! মূল্য হতে চলেছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, লকডাউনের আর 'প্রয়োজন নেই' বলে জানালেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী