প্রথম ঢেউ রুখে দিলেও ১৩০ কোটির দেশ ‘দ্বিতীয় ঢেউ’য়ে পর্যদুস্ত! আসতে চলেছে করোনার তৃতীয় ঢেউ, সতর্ক করলেন কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান উপদেষ্টা

দ্য বেঙ্গল পোস্ট বিশেষ প্রতিবেদন, ৮ মে: করোনা’র দ্বিতীয় ঢেউয়ে রীতিমতো বিধ্বস্ত তৃতীয় বিশ্বের দেশ ভারত! দৈনিক সংক্রমণ এখন ধারাবাহিকভাবে ৪ লক্ষের উপর আর দৈনিক মৃত্যু সংখ্যা এতদিন ছিল ৪ হাজারের আশেপাশে; এই প্রতিবেদন লেখা অবধি ৮ ই মে তা ৪ হাজার অতিক্রম করে গেছে! এই ভয়াবহ তথ্য ও পরিসংখ্যান বলছে, শুধু মে মাসেই ভারতবর্ষে করোনা সংক্রমিত হতে চলেছেন ১ কোটি ২০ লক্ষের বেশি মানুষ,‌ আর, এই এক মাসে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে চলেছেন, ১ লক্ষ ২০ হাজার মানুষ। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, করোনা’র এই দ্বিতীয় ঢেউয়ে আর শুধু প্রৌঢ়-প্রৌঢ়া বা কো-মর্বিডিটি থাকা ব্যক্তিরা নন, হাজার হাজার যুবক-যুবতীরাও মৃত্যুবরণ করছেন। আর, এই অবস্থাতেই ১৩০ কোটির দেশ ভারতবর্ষে অক্সিজেন সঙ্কট, করোনার জীবনদায়ী‌ ওষুধের অভাব এবং ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত যোগানের অভাব দেশবাসীকে প্রতিমুহূর্তে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর মধ্যেই, দেশের একদল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, কয়েকদিনের মধ্যেই দেশে প্রবেশ করতে চলেছে করোনা’র তৃতীয় ঢেউ! যা, দ্বিতীয় ঢেউ বা সেকেন্ড ওয়েভের থেকেও বিপজ্জনক!

thebengalpost.in
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের শুক্রবারের বুলেটিন :

মোবাইলে খবর পেতে জয়েন করুন
Whatsapp Group এ

ভারতের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আগেই জানিয়েছিলেন, করোনা ভাইরাসের ডবল মিউট্যান্টের কারণেই এদেশে সংক্রমণ এতটা বেলাগাম হচ্ছে। মানুষের শরীরে ঢুকে তা আরও শক্তি বাড়াচ্ছে। এই নতুন শক্তিশালী (নিউ ভ্যারিয়েন্ট) ডবল মিউট্যান্ট ভাইরাসকেই ইন্ডিয়ান স্ট্রেইন বলা হচ্ছে। এর ফলেই দেশে সংক্রমণ ও মৃত্যু’র হার চরমে পৌঁছচ্ছে! প্রথম ঢেউয়ে যেহেতু বিদেশ থেকে আগত ভাইরাস সরাসরি মানুষের শরীরে প্রবেশ করছিল, ফলে এই অপেক্ষাকৃত দুর্বল বিদেশি ভাইরাস ভারতীয়দের সেভাবে কাবু করতে পারেনি! সঙ্গে সঠিক সময়ে ‘লকডাউন’ করে ভাইরাসের সংক্রমণ অনেকটাই রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল উন্নয়নশীল দেশ ভারতের পক্ষে! ফলে, ২০২০ সালে একদিনে সর্বাধিক মানুষ সংক্রমিত হয়েছিলেন গত ১৭ ই সেপ্টেম্বর (২০২০), ৯৮ হাজার ৭৯৫ জন। আর এই মুহূর্তে তা ৪ লক্ষ ১৪ হাজার ১৮৮। ২০২০ সালে একদিনে সর্বাধিক মৃত্যু হয়েছিল ২০০০ এর আশেপাশে। কিন্তু, বর্তমানে দ্বিতীয় ঢেউ আসার পর প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিন হাজার-চার হাজার জন মারা যাচ্ছেন। কেন্দ্র সরকারের কোভিড ট্র্যাকার অনুযায়ী, গত চব্বিশ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৪০০০ এর অধিক মানুষের। আর, শুক্রবারের বুলেটিন অনুযায়ী মৃত্যু হয়েছিল ৩৯১৫ জনের। উন্নয়নশীল দেশ ভারতবর্ষ তাই অর্থনীতিকে সচল রাখতে গিয়ে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ’কে গুরুত্ব দেয়নি! এ নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই। সঙ্গে, ভ্যাকসিন নিয়ে ছিল অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস। কিন্তু, মার্চের শুরু ডবল মিউট্যান্ট করোনা ভাইরাসের ইন্ডিয়ান স্ট্রেইন খেলা দেখাতে শুরু করল! লাখ লাখ মানুষ প্রতিদিন করোনা আক্রান্ত হতে শুরু করলেন, শয়ে শয়ে মানুষ মৃত্যুবরণ করছেন প্রতিদিন। শক্তিশালী এই ভাইরাস আরও বেশি সংক্রামক ও আরও বেশি মারণ ক্ষমতা নিয়ে হাজির হওয়ায় এবং আগাম কোনও ‌প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গড়ে না তোলায়, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা একপ্রকার পর্যদুস্ত হল!

thebengalpost.in
কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান উপদেষ্টা ডঃ কে. বিজয় রাঘবন :

অন্যদিকে, এখনও পর্যন্ত দেশের মাত্র ১২-১৩ শতাংশ মানুষ (শুক্রবারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৬ কোটি ৫০ লক্ষ মানুষ) করোনা ভ্যাকসিন পেয়েছেন। তার মধ্যে আবার দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ৬-৭ শতাংশ মানুষ।‌ ফলে, ভ্যাকসিন দিয়ে ভাইরাস আটকানোর ভাবনা এখন অলীক কল্পনা মাত্র! তার উপর এই ধরনের ভ্যাকসিনগুলি দ্বিতীয় বা তৃতীয় ডেউ রুখতে কতখানি সক্ষম, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এর মধ্যেই, দেশের প্রধান বিজ্ঞান উপদেষ্টা ডঃ কে বিজয় রাঘবন জানিয়েছেন, “করোনার তৃতীয় ঢেউ অনিবার্য। কিন্তু, কখন আছড়ে পড়তে পারে এই ঢেউ, তা স্পষ্ট নয়।” তিনি তৃতীয় ঢেউয়ের মোকাবিলার জন্য কেন্দ্র, রাজ্য ও জেলা প্রশাসনগুলিকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি এও ‌বলেছেন, “ভ্যাকসিনও উন্নত করতে হবে।” এ নিয়ে দেশকে সতর্ক করেছে সুপ্রিম কোর্টও। কারণ, তৃতীয় ঢেউ‌ শিশুদের উপরও প্রভাব বিস্তার করবে বলে সকল বিশেষজ্ঞরাই জানিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট সেই বিষয়টিও তুলে ধরেছে। অপরদিকে, একদল চিকিৎসক ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, চেন্নাইতে করোনা ভাইরাসের নতুন আর একটি স্ট্রেইনের খোঁজ পাওয়া গেছে। এটি আরও বেশি মারাত্মক ও মারণ-ক্ষমতা সম্পন্ন বলে বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন। এই ট্রিপিল মিউট্যান্ট ভাইরাসই তৃতীয় ঢেউ রূপে আছড়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে! আর, এই ভাইরাসকে রুখতে এখন আর শুধু ভ্যাকসিনেশন নয়, প্রথম পর্বের (২০২০) মতোই, ফের একবার কড়া লকডাউন প্রয়োজন বলে মনে করছেন দেশের অধিকাংশ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তবে, অর্থনীতিকে যথাসম্ভব সচল রেখে, কিভাবে এই তৃতীয় ঢেউ সামলাতে সক্ষম হয় ভারত সরকার, সেদিকেই তাকিয়ে আপামর দেশবাসী।

আরও পড়ুন -   দৈনিক সংক্রমণে 'বিশ্বরেকর্ড' ভারতের! সংক্রমিত ৪ লক্ষ, সুস্থ ৩ লক্ষ; গুজরাটের কোভিড হাসপাতালে ভয়াবহ আগুনে মৃত ১৮ জন