“ভারতের সংবিধান ও আমরা” : ৭২ তম প্রজাতন্ত্র দিবসের সন্ধিক্ষণে ড. বিবেকানন্দ চক্রবর্তী’র বিশেষ প্রতিবেদন

ড. বিবেকানন্দ চক্রবর্তী (রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, মেদিনীপুর টাউন স্কুল এবং রবীন্দ্র গবেষক), ২৬ শে জানুয়ারি: ভারতবর্ষ স্বাধীনতা লাভ করে ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট। স্বাধীনতা লাভের পরেও দেশের প্রধান হিসেবে বহাল ছিলেন, ষষ্ঠ জর্জ ও গভর্ণর জেনারেল লর্ড লুই মাউন্টব্যাটেন। কারণ, স্বাধীন দেশ পরিচালনার সংবিধান তখনো তৈরি হয়নি। ১৯৪৭ সালের ২৮ আগস্ট সংবিধান রচনার জন্য একটি খসড়া-কমিটি গঠন করা হয়, যার চেয়ারম্যান ছিলেন ড. ভীমরাও রামজি আম্বেদকর। ১৯৪৭ সালের ৪ নভেম্বর খসড়া-কমিটি সংবিধানের একটি খসড়া তৈরি করে গণপরিষদে জমা দেয়। ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি স্বাক্ষরিত হয় সেই সংবিধান। ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি সকাল ১০টা ১৮মিনিট থেকে ভারতবর্ষের সংবিধান কার্যকরী হয়।

thebengalpost.in
স্বাধীন ভারত :

[ আরও পড়ুন -   আদিবাসী কন্যার 'ভালোবাসায়' আপ্লুত অমিত, নেতাদের 'অনৈক্যে' ক্ষুব্ধ! রাতের বৈঠকে শোভন-বৈশাখীর উপস্থিতি নতুন মাত্রা যোগ করল ]

প্রজাতন্ত্র দিবস ও সংবিধান বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
১. আমাদের সংবিধান পুরোটাই হাতে লেখা, একটি হিন্দি ভাষায় লেখা, আরেকটি ইংরেজি ভাষায় লেখা। এই মূল দু’কপি সংবিধান সংসদে সংরক্ষিত।
২. এই সংবিধান রচনা করতে সময় লেগেছিল ২ বছর ১১ মাস ১৮ দিন।
৩. সংবিধান রচনায় কাজ করেন ৩০৮ জন সদস্য।
৪. এই সংবিধান পৃথিবীর বৃহত্তম, যার মধ্যে ২২ টি অংশ ও ৪৪৮ টি নিবন্ধ রয়েছে।
৫. চুড়ান্তভাবে এই সংবিধান গৃহীত হওয়ার আগে গণপরিষদে খসড়া সংবিধান নিয়ে আলোচনার জন্য ১৬৬ বার অধিবেশন ডাকা হয়।
৬. ১৯৫০ সালে সংবিধান রচনার পর ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ স্বাধীন ভারতবর্ষের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
৭. প্রতি বছর প্রজাতন্ত্র দিবসের ভাষণটি ভারতবর্ষের রাষ্ট্রপতি প্রদান করেন।

thebengalpost.in
সংবিধান প্রণেতা বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকর :

আমার কথা: দেশের আপামর জনসাধারণকে শাসন করার জন্য রাজনৈতিক ব্যবস্থার মূল কাঠামোর ভিত্তি স্থাপন করে দেশের এই সংবিধান। রাষ্ট্রের তিন প্রধান অঙ্গ: আইনসভা, প্রশাসন ও বিচার ব্যবস্থা, সংবিধান অনুযায়ী গঠিত হয়। সংবিধান এদের ক্ষমতা নির্দিষ্ট করে, দায়িত্ব স্থির করে এবং পারস্পরিক ও জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করে। গণতন্ত্রে সার্বভৌমত্ব জনগণের উপর ন্যস্ত হয় যার আদর্শ রূপ হল জনগণের স্বশাসন। জাতি ও রাষ্ট্রের বিস্তৃত পরিধি, ক্রমবর্ধমান প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র সম্ভব হয় না। প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে জনগণ তাঁদের অধিকার প্রয়োগ করেন। যুক্তরাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক কাঠামোয় সংবিধান, রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গের সীমানা ও ক্ষমতা নির্ধারণ করে দেয়। দেশের সংবিধানকে তাই মৌলিক আইন বলা যায়, যা রাজনৈতিক পরিকাঠামোর ভিত্তি নির্মাণ করে। রাষ্ট্রের ও রাজ্যের সমস্ত আইন ও প্রশাসনিক কার্যাবলী এই সংবিধানের মৌলিক নির্দেশাবলী মেনে করতে হয় নতুবা ভারতীয় সংবিধান কে অমান্য বা অগ্রাহ্য করা হয়। যেহেতু, ভারতবর্ষে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র, যেহেতু ভারতবর্ষের জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ দেশের প্রশাসন ও আইন কে নিয়ন্ত্রন করেন তাই নির্বাচন স্বচ্ছ, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। আর সবথেকে বেশি প্রয়োজন, জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ যেন সংবিধান মেনে চলেন। ৭২ তম প্রজাতন্ত্র দিবসের শুভ সন্ধিক্ষণে এই বিষয়গুলির উপর সত্যিই গুরুত্ব আরোপের প্রয়োজন।

thebengalpost.in
লেখক ও রবীন্দ্র গবেষক তথা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. বিবেকানন্দ চক্রবর্তী :

[ আরও পড়ুন -   রিহা চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার মামলা দায়ের করল ইডি ]