পুড়ে ছাই ৮০ কুইন্টাল ধান! পশ্চিম মেদিনীপুরের হতভাগ্য পরিবার এখন ‘মুখ্যমন্ত্রী’র মুখাপেক্ষী

thebengalpost.in
গড়বেতায় পুড়ে ছাই ৮০ কুইন্টাল ধান :
বিজ্ঞাপন

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৬ ডিসেম্বর: একেই কি বলে ‘বিনা মেঘে বজ্রপাত’? এই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা ৩ নং ব্লকের কুমারডিবি (উড়াসাই) গ্রামের আশেপাশে। ৮ বিঘা জমির প্রায় ৮০ কুইন্টাল ধান পুড়ে ছাই হয়ে গেল নিমেষে! দমকল এবং গ্রামবাসীদের প্রচেষ্টায় আগুন নেভানো গেলেও, খড়গাদার নীচে ‘তুষের আগুন’ এখনো ধিকধিক করে জ্বলছে বলে জানালেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রাজকুমার বিশ্বাস (৫২) ও তাঁর পরিবারের লোকজন। গ্রামবাসীরাও একই কথা বললেন। সারা রাত জেগেই কেটেছে পরিবারের। দুশ্চিন্তায় ঘুম আসেনি বলে নয়, ওই আগুন যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্যও সারা রাত মাথায় হাত দিয়ে ধ্বংস স্তূপ পাহারা দিয়েছেন রাজকুমার বাবু। আর, ঘরে তাঁর স্ত্রী সহ পরিবারের লোকজন এখনো কেঁদে ভাসাচ্ছেন। কষ্টের সমস্ত ফসল এভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে, কে জানত!

thebengalpost.in
গড়বেতায় পুড়ে ছাই ৮০ কুইন্টাল ধান :

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শনিবার দুপুরে (আড়াইটা-তিনটা নাগাদ) রাজকুমার বাবু যখন মাঠে কাজ করছিলেন, সেই সময় হঠাৎ খবর পান, তাঁর খড়গাদায় আগুন লেগে গেছে। যেখানে তাঁর খামার বা খড়ের গাদা, তা বসবাসের বাড়ি থেকেও কয়েক মিটার দূরে (নতুন হওয়া অসম্পূর্ণ বাড়ির সামনে)। স্বভাবতই, বাড়ির লোকজন ও গ্রামবাসীরা এসে আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগানোর আগেই দাউদাউ করে জ্বলে যায়, খড়ের গাদাগুলি। রাজকুমার বাবুও ছুটে আসেন মাঠ থেকে, সারা গ্রাম ছুটে আসে। সকলে মিলে আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান। দু’টি সাব-মার্সিবল পাম্প কাজে লাগানো হয়! ধীরে ধীরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ততক্ষণে পৌঁছে যায় মেদিনীপুর দমকল বাহিনী (বিকেল ৪ টা নাগাদ) এবং স্থানীয় পুলিশ কর্মীরাও। তবে, ৮ বিঘা জমির ৮০ কুইন্টাল ধান রক্ষা করা সম্ভব হয়নি! পুড়ে গেছে অর্ধেকের বেশি। আর, বাকিটাও জলের তলায়। স্থানীয়রা জানালেন, ওই ধানে অঙ্কুর হয়ে যাবে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল, সি.কে রোড পুলিশ পোস্টের কর্মীরাও। রাজকুমার বাবু সহ কেউই বলতে পারছেন না, আগুন কিভাবে লেগেছিল! কোনো বাচ্চা খেলতে গিয়ে আগুন লাগিয়েছিল, নাকি কেউ শত্রুতা করে লাগিয়ে দিয়েছিল, কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না কেউই। তবে, রাজকুমার বাবুর এই চরম ক্ষতির কথা মেনে নিচ্ছেন সকলেই। হতভাগ্য পরিবারের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে, সকলেই বলছেন, যেভাবে হোক ক্ষতিপূরণ ছাড়া ওই পরিবার বাঁচবে না!

thebengalpost.in
পুড়ে ছাই ৮০ কুইন্টাল ধান! পশ্চিম মেদিনীপুরের হতভাগ্য পরিবার এখন ‘মুখ্যমন্ত্রী’র মুখাপেক্ষী :

বিজ্ঞাপন

আজ (৬ ডিসেম্বর) সকালেও গিয়ে দেখা গেল, গৃহকর্তা (রাজকুমার বাবু) এদিক ওদিক দৌড়ে বেড়াচ্ছেন, যদি কিছু ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায় তার ব্যবস্থা করার জন্য। আর, গৃহকর্ত্রী কেঁদে ভাসাচ্ছেন! সকলকেই বলছেন, “কাল থেকে না খেয়ে দেয়ে আছি। আর হয়তো কোনোদিন খাওয়ার দাওয়ার জুটবে না! আমাদের সব শেষ হয়ে গেল।” ওনাদের দুই ছেলে (২০ ও ১৩) পুড়ে যাওয়া খড়ের গাদার সামনে বসে আছে। জেলার কৃষি কর্মাধ্যক্ষ রমাপ্রসাদ গিরি বললেন, “শস্য বীমা করা থাকলে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে।” কিন্তু, রাজকুমার বাবু জানালেন, “ধানের জন্য কোন শস্য বীমা করা হয়নি। লোন নিয়ে যে আলু লাগিয়েছি, তাতে অবশ্য বীমা করা আছে!” এই অবস্থায় পুরো পরিবারই এখন প্রশাসনের মুখাপেক্ষী! রাজকুমার বাবু বললেন, “শুনেছি আগামীকাল মেদিনীপুরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি যদি দয়া করে কিছু ব্যবস্থা করে যান! আপনাদের সকলকেই বলছি, দেখুন না যদি কিছু করা যায়।”

বিজ্ঞাপন

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে