মণিরাজ ঘোষ, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৪ মে: মেদিনীপুর শহরের উপকণ্ঠে, আবাস খাসজঙ্গল এলাকায় অবস্থিত আয়ুশ হাসপাতাল (Integrated Ayush Hospital) টি পুনরায় আজ (মঙ্গলবার) থেকে করোনা সেফ হোম হিসেবে পথচলা শুরু করল। করোনা’র প্রথম ঢেউয়ে এটিই ছিল জেলার প্রথম করোনা হাসপাতাল। যদিও, লেভেল ওয়ান হিসেবেই অর্থাৎ উপসর্গহীন বা স্বল্প উপসর্গযুক্তদেরই এই হাসপাতাল চিকিৎসা পরিষেবা দিয়েছে। এবারও, স্বল্প উপসর্গযুক্ত করোনা আক্রান্তদের জন্য পুনরায় চালু করা হল এই ‘সেফ হোম’ টি। আপাতত, এখানে ১০০ টি শয্যা আছে, প্রয়োজনে ১৫০ টি করা হবে বলে জানানো হয়েছে প্রশাসনের তরফে। সেন্ট্রাল পাইপ লাইনের মাধ্যমে অক্সিজেন ও ২৪ ঘন্টার চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হবে এই হাসপাতালে। আজ (মঙ্গলবার) প্রথম দিন, হাসপাতালের পরিকাঠামো সরেজমিনে খতিয়ে দেখলেন জেলাশাসক ডঃ রশ্মি কমল, অতিরিক্ত জেলাশাসক পীনাকী রঞ্জন প্রধান এবং জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী। জেলাশাসক বললেন, “এই কয়েকদিনে জেলায় সংক্রমণ একটু কমেছে। তা সত্ত্বেও, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও শালবনীর উপর থেকে চাপ কমাতেই এই সেফ হোম পুনরায় চালু করা হল। এখানে স্বল্প উপসর্গযুক্ত এবং কিছুটা স্থিতিশীল রোগীরা থাকবেন।” শালবনী করোনা হাসপাতাল এবং মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ থেকে যারা একটু সুস্থ বা স্থিতিশীল হয়ে যাবেন, তাদেরই স্টেপ ডাউন করে এখানে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।


Whatsapp Group এ

জেলায় অক্সিজেনের জোগান এবং শয্যা পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে বলে জানিয়েছেন জেলাশাসক ডঃ রশ্মি কমল। আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যেই মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে ১০০ শয্যার আরও একটি আইসোলেশন সেন্টার চালু হয়ে যাবে বলেও জানিয়েছেন জেলাশাসক। অপরদিকে, জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী জানিয়েছেন, “আজ থেকেই আয়ুশে রোগী ভর্তি নেওয়া হবে। গতকাল চালু করা হয়েছে ডেবরা সেফ হোম। স্বল্প উপসর্গযুক্ত করোনা সংক্রমিতদের এখানে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হবে। করোনার প্রথম ঢেউয়ের সময় যেভাবে পরিষেবা দেওয়া হয়েছিল এই হাসপাতালগুলোতে, সেভাবেই এই দ্বিতীয় ঢেউয়ে ফের একবার সেফ হোম হিসেবে চালু করা হল এই হাসপাতালগুলি। শালবনী-মেদিনীপুর মেডিক্যাল ছাড়াও খড়্গপুর, ঘাটাল, আয়ুশেও সেন্ট্রাল অক্সিজেন পাইপ লাইন সিস্টেম থাকছে। জেলায় প্রায় ৫০০ টি বেড চালু করে দেওয়া হল। আরও ১০০ টি (তাঁতিগেড়িয়ায় আয়ুশ স্যাটেলাইট) প্রয়োজন অনুযায়ী শুরু করা হবে।”


প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত চব্বিশ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ৩৬৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। সোমবারের তুলনায় (২৩০) সংক্রমণ বেশ অনেকটাই বাড়ল। এর অন্যতম কারণ অবশ্য, এদিন টেস্টের পরিমাণ বেড়েছে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে (RAT) পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে ২১৯ জনের, আরটি-পিসিআরে (RT-PCR) পজিটিভ এসেছে ১১০ জনের এবং ট্রুন্যাটে (TRUENAT) পজিটিভ এসেছে ৩৫ জনের। গত ৭ দিনে জেলায় মোট করোনা সংক্রমিত হলেন- ২৪৭৬ (৪৪৪, ৩৪৯, ৩৬৬, ৩৪৩, ৩৮০, ২৩০, ৩৬৪) জন।
***এলাকাভিত্তিক করোনা সংক্রমণের খবর পরবর্তী প্রতিবেদনে।








