মহাকাশ বিজ্ঞান এবং ভোজ্য গবাদিপশুর মানোন্নয়ন সম্পর্কিত গবেষণা এবার গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে, ভূমিপুত্রের সঙ্গে জুড়ল মেদিনীপুরের নামও

বিজ্ঞাপন

দ্য বেঙ্গল পোস্ট বিশেষ প্রতিবেদন, মণিরাজ ঘোষ, ২৭ ডিসেম্বর: বারেবারে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে, মালদার গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় (University of Gour Banga) এর নাম! এবার, সেই গৌড়বঙ্গ’ই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে উল্লেখযোগ্য স্থান অর্জন করতে চলেছে। সৌজন্যে, মালদার ‘ভূমিপুত্র’ মহাকাশ বিজ্ঞানী সন্দীপ কুমার চক্রবর্তী। আর, তাঁর সাথে জুড়ে আছে পশ্চিম মেদিনীপুরের নামও। কলকাতা কেন্দ্রিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজিক্স’ (Indian Centre for Space Physics) এর অধির্কতা বিজ্ঞানী সন্দীপ কুমার চক্রবর্তী। তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা মালদাতেই। তাঁর মহাকাশ গবেষণা সংস্থা’র একটি শাখা মালদায় অবস্থিত এবং অপরটি পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুরে অবস্থিত। এই সংস্থার সঙ্গেই, গত ১৮ ই ডিসেম্বর গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মৌ স্বাক্ষরিত হয়েছে। উত্তরবঙ্গের মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ উজ্জ্বল হয়েই থাকবে বলে মনে করছেন, ওই সংস্থা’র অধিকর্তা সন্দীপ কুমার চক্রবর্তী এবং গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক চঞ্চল চৌধুরী। অপর ‘মৌ’ টি স্বাক্ষরিত হয়েছে, হায়দ্রাবাদের ‘আর আর অ্যানিমাল হেলথকেয়ার’ (RR Animal Healthcare, সংক্ষেপে RRAHC) এর সঙ্গে। মনুষ্য ভোজ্য গবাদিপশু ও প্রাণী, যেমন- গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস, মুরগী, মাছ প্রভৃতি’র স্বাস্থ্য বিষয়ক মানোন্নয়ন নিয়ে যৌথভাবে গবেষণা করবে আর আর এইচ এ এবং ইউজিবি (University of Gour Banga)।

thebengalpost.in
গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় :

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় তাদের প্রথম সমাবর্তনে বিজ্ঞানী সন্দীপ কুমার চক্রবর্তী’কে সাম্মানিক ‘ডক্টর অফ সায়েন্স’ (DSC) উপাধিতে ভূষিত করেছে। স্বাভাবিকভাবেই, নিজের ‘জন্মভূমি’ এই এলাকা এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক। এই মুহূর্তে, ভারতবর্ষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্যোতির্বিজ্ঞানীও তিনি। সম্প্রতি, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণাকারী দল, তাঁকে ভারতবর্ষের সবচেয়ে বড় জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী রূপে ভূষিত করেছে। বিজ্ঞানী, চক্রবর্তী প্রতিষ্ঠিত আইসিএসপি এর হাতে পূর্ব ভারতের সবথেকে শক্তিশালী টেলিস্কোপ-টি তুলে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচ্চ শিক্ষা দফতর। বিজ্ঞানী চক্রবর্তী জানিয়েছেন, “পূর্ব ভারতের সবথেকে শক্তিশালী টেলিস্কোপ’টি একমাত্র আমাদের সংস্থার হাতেই আছে। এর ব্যাস ২৪ ইঞ্চি। দাম প্রায় ১ কোটি টাকা। আমাদের মেদিনীপুরের শাখায় এটি বসানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, আমাদের সংস্থার হাতে ১০০ ফুটের বেলুন আছে, যার মধ্যে ৬ কেজি ওজনের যন্ত্রপাতি বসিয়ে, মহাকাশের ৪০-৪২ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত পাঠিয়ে, বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।” গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তথা পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ডঃ চঞ্চল চৌধুরী জানিয়েছেন, “আমরা এই সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে পেরে গর্বিত। ওনাদের পরিকাঠামো তথা উন্নত মানের যন্ত্রপাতি সহ নানা প্রযুক্তি ও উপকরণ ব্যবহার করে, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকারীরা পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করবে। শুধু, বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সমগ্র উত্তরবঙ্গের মহাকাশ গবেষণা এবং জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞান (Astrophysics) এর ফলে সমৃদ্ধ হবে।” সংস্থা’র অধিকর্তা বিজ্ঞানী চক্রবর্তী জানিয়েছেন, “ইতিমধ্যে গৌড়বঙ্গ থেকে ৩ জন এই বিষয়ক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, আরও বেশি সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী এগিয়ে আসবে বলে আমরা আশাবাদী। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫ জন ছাত্র-ছাত্রী ইতিমধ্যে এই গবেষণায় সফল হয়েছে।”

thebengalpost.in
ICSP- Indian Centre for Space Physics (Garia, Kolkata) :

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার তথা দেহবিজ্ঞানের (Physiology) অধ্যাপক বিপ্লব গিরি জানিয়েছেন, “গবাদিপশু ও প্রাণী, মাছ প্রভৃতি অর্থকরী উপাদানগুলির স্বাস্থ্যের মানোন্নয়ন ঘটিয়ে, সেগুলিকে আরও বেশি করে বিদেশে রপ্তানিযোগ্য করে তোলার উদ্দেশ্যে হায়দরাবাদের আর আর এইচ এ- সংস্থা’র সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলার বা ছাত্র-ছাত্রীরা গবেষণা করবে। ফার্মিং ও পোল্ট্রি বিষয়ক গবেষণা এর ফলে আরও উন্নত হবে উত্তরবঙ্গে।” বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও নিবন্ধক (রেজিস্ট্রার) দু’জনেই জানিয়েছেন, এই দুই চুক্তি বা মৌ- এর ফলে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মানোন্নয়নের সাথে সাথে, সমগ্র উত্তরবঙ্গের শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রও সমৃদ্ধ হবে।

বিজ্ঞাপন

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে