দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদক, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২১ জানুয়ারি: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনী ব্লকে অবস্থিত, রাণী শিরোমণির কর্ণগড় মন্দির ও গড়’টিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে পর্যটনস্থল। দ্বিতীয় চুয়াড় বিদ্রোহের নেত্রী তথা মেদিনীপুরের ‘মহীয়সী’ রাণী শিরোমণির নামে বিখ্যাত সুপ্রাচীন এই ‘গড়’ টি সংস্কার করে নবরূপে সজ্জিত করার কাজ প্রায় সম্পূর্ণ হওয়ার পথে। আগামী ২৬ শে জানুয়ারি এই কর্ণগড় পর্যটন কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হতে পারে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনের তরফে। আজ (২১ জানুয়ারি), অখিল ভারত ক্ষত্রিয় সমাজের তরফে এক প্রতিনিধিদল পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান এই কর্ণগড় এবং মহামায়া মন্দির সংস্কার এবং পুনর্নির্মাণ (Reconstruction) করার জন্য। তাঁদের বক্তব্য, শেষ ক্ষত্রিয় রানী শিরোমণির ভূমিকা প্রশংসিত হচ্ছে এটা ক্ষত্রিয় সমাজের জন্য গর্বের। রানী শিরোমণি স্বর্গীয় রাজা অজিত সিংহের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন। তিনি বীরত্বের সাথে ইংরেজ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেন, ইতিহাসে যা দ্বিতীয় চুয়াড় বিদ্রোহ (১৭৯৮-‘৯৯) নামে খ্যাত।

অখিল ভারতীয় ক্ষতিয় সমাজের পক্ষ থেকে আজ দাবি করা হয়, “এই গড়ের নামকরণ প্রথম রাজা লক্ষন সিংহ এর নামে করা হোক। গড়কে কেন্দ্র করে নবনির্মিত কটেজগুলি বাকি পাঁচ রাজা শ্যাম সিংহ, ছটু রায়, রঘুনাথ রায়, রাম সিংহ, যশোবন্ত সিংহ, অজিত সিংহের নামে এবং মূল কটেজটি রাণী শিরোমণির নামে করা হোক। এই গড়ের পদ্মপুকুর টি রাজার প্রথম স্ত্রী (রাণী)র নামে করার আবেদন জানাই।” প্রসঙ্গত, অপুত্রক শেষ রাজা অজিত সিংহের দ্বিতীয় স্ত্রী রাণী শিরোমণি শেষ পর্যন্ত এই গড় রক্ষা করেছিলেন। রাণী শিরোমণির এই গড় সংস্কার ও বীরত্বের সেই ইতিহাসকে সম্মান জানানোর জন্য, পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক ডঃ রশ্মি কমল, শালবনীর বিডিও সঞ্জয় মালাকার সহ পশ্চিমবঙ্গ সরকার এর প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন, অখিল ভারত ক্ষত্রিয় সমাজের প্রতিনিধিদল। এই দলে ছিলেন, তন্ময় সিংহ, সন্দীপ সিংহ, শুভাশিস সিংহ প্রমুখ। তাঁরা একটি লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে এই গড়ের প্রয়াত রাজাদের এবং সমস্ত বীর রাজপুত ক্ষত্রিয় যোদ্ধাদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করার জন্য সরকারকে অনুরোধ জানান। একইসাথে, অখিল ভারত ক্ষত্রিয় সমাজ স্থির করেছে, পরবর্তীতে রাজ্যজুড়ে সুনির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হবে এই ইতিহাসকে সংরক্ষণ করার জন্য।







