পূর্ব মেদিনীপুরে পুড়ল পার্টি অফিস, পশ্চিম মেদিনীপুরে বিদ্রোহের আগুন

বিজ্ঞাপন

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৮ নভেম্বর: চব্বিশ ঘণ্টা তো দূরের কথা, বারো ঘন্টাও পেরোয়নি, শুভেন্দু অধিকারী মন্ত্রিত্ব ছেড়েছেন; এর মধ্যেই পূর্ব থেকে পশ্চিম, দুই মেদিনীপুরেই নানা অশান্তির মুখে তৃণমূল! পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরি তে একাধিক পার্টি অফিস পুড়ল তৃণমূলের। তৃণমূলের পতাকা ছিঁড়ে ফেলে লাগিয়ে দেওয়া হল বিজেপির পতাকা। অভিযোগের তীর বিজেপির দিকে। তবে, অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপি জানিয়েছে, এই এলাকা অধিকারীদের গড়। কাজেই, বিজেপি এসব কাজ করেনি, তৃণমূলেরই গোষ্ঠী কোন্দলর ফল! অপরদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরে বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠল শাসকদলের অন্দরে। শুভেন্দু অনুগামী দলের বর্ষীয়ান নেতা তথা জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি জহর পাল সরাসরি দলীয় নেতৃত্বকে আক্রমণ করলেন, “আমি দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। সেই আমি তো মরেই যেতাম, শুভেন্দু অধিকারী আমাকে সুস্থ করে এনেছে, নতুন জীবন দিয়েছে। আর এখনকার নবাবি করা তৃণমূল জেলা নেতৃত্ব, যাদের অনেককেই আমি বুঝিয়ে সুঝিয়ে দলে এনেছি, তারা আমার খোঁজটাও নেওয়ার চেষ্টা করেনি, বেঁচে আছি না মরে আছি!”

thebengalpost.in
খেজুরিতে তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস জ্বালিয়ে দেওয়া হল ও ভাঙচুর করা হল :

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গতকাল (২৭ নভেম্বর) দুপুর নাগাদ মন্ত্রিত্ব ছেড়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সন্ধ্যা নাগাদ, দলের তরফে ‘একপ্রকার’ সম্পর্ক ছিন্ন করার বার্তা দেওয়া হয়েছে! আর তার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই, রাতের অন্ধকারে খেজুরির পাটনা, কন্ঠীবাড়ি, আলিচকে অবস্থিত তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে আগুন লাগানো এবং ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠল দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। একইসাথে, সেইসব কার্যালয়ে রাতারাতি বিজেপি’র পতাকা লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠল! তবে, কে বা কারা এই কাজ করেছে এখনও তাদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করা যায়নি! অপরদিকে, খড়্গপুর পৌরসভার প্রাক্তন পৌরপ্রধান পুজোর ঠিক আগেই (১৫ অক্টোবর) করোনা সংক্রমিত হয়েছিলেন। তাঁর বিভিন্ন কো-মর্বিডিটি থাকায় অবস্থা রীতিমতো সংকটজনক হয়ে উঠেছিল। সেই সময় দলের তরফে তিনি ন্যূনতম সাহায্য পাননি বলে অভিযোগ করেছেন গতকাল।

thebengalpost.in
জহর পাল :

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায়, এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, “শুভেন্দু অধিকারী না থাকলে, ৭২ বছর বয়সে বেঁচে ফিরতে পারতাম না! উনিই কলকাতা থেকে আমাকে সুস্থ করে নিয়ে এসেছেন। আর, তারপরেও কোনো তৃণমূল নেতা খোঁজ টুকুও নেননি, জহর পাল বেঁচে আছেন, না মরে গেছেন! তাহলেই বুঝুন, দলটা এখন কিভাবে চলছে! আমি দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। প্রথম দিন থেকে নেত্রী আমাকে অনেক গুরুদায়িত্ব দিয়েছেন, তা আন্তরিক ভাবে পালন করার চেষ্টা করেছি। এখনকার জেলা সভাপতি কেও আমিই চার বছর ধরে বুঝিয়ে বুঝিয়ে কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে নিয়ে এসেছি। আর তাঁর আমলেই দলের ১ নং জেলা সহ-সভাপতি থেকে আট-দশ নম্বরে চলে গেছি। আমাকে পৌরপ্রধান থেকে সরানো হয়েছে, আমার পরিবারের প্রতিও কেউ কোনদিন ফিরেও তাকায়নি। আমি বালি থেকেও টাকা তুলতে যাইনি, বোল্ডার থেকেও টাকা তুলতে যাইনি আর মোরাম থেকেও টাকা তুলতে যাইনি। আমার একমাত্র নাতি জন্ম থেকে কানে শুনতে পায়না, কথা বলতে পারেনা। তাঁর চিকিৎসা করাতে পারিনি। আমার বউমাও এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। তবুও মুখ্যমন্ত্রীকে বারবার চিঠি লিখেও, বিধায়কদের বার বার জানিয়েও কোন সাহায্য পাইনি। কিন্তু, অধিকারী পরিবার পাশে দাঁড়িয়েছে। শিশির অধিকারী প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে তিন লক্ষ টাকা ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। তিনি নিজে পঞ্চাশ হাজার টাকা এবং শুভেন্দু অধিকারীর দেড় লক্ষ টাকা তুলে দিয়েছিলেন। সেই টাকায়, নাতির অপারেশন করিয়ে এনেছি। এখন সে কানে শুনতে পায়, তবে এখনও কথা বলতে পারে না! আরেকটা অপারেশন করাতে হবে। আজ অনেক দুঃখে এইসব কথা বলছি! কোনদিন এসব কথা বলিনি, দল ছাড়ার কথাও ভাবি নি। আজ‌ বলছি, অধিকারী পরিবার মানবিক, রাজনীতি করতে গেলে আগে মানবিক হতে হয়। তাই, অধিকারী পরিবারের সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক। সেই কংগ্রেস আমল থেকে তাঁদের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব। শুভেন্দু অধিকারী’র প্রতি পূর্ণ সমর্থন আছে। বাকিটা সময় হলেই বলব।”

বিজ্ঞাপন

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে