“জীবন যায় যাবে, দিদির সঙ্গে দেখা করেই ফিরব”, মুখ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎপ্রার্থী বিজেপির হাতে অত্যাচারিত পরিবার

বিজ্ঞাপন

মণিরাজ ঘোষ, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৬ ডিসেম্বর: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেদিনীপুর শহরে পৌঁছেছেন রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা নাগাদ। এই মুহূর্তে মেদিনীপুর সার্কিট হাউসে অবস্থান করছেন তিনি। সার্কিট হাউসের বাইরে কড়া নিরাপত্তা-বলয়। কোভিড পরিস্থিতির মধ্যে, প্রখর এই সুরক্ষা বেষ্টনী ভেদ করে ভেতরে যাওয়ার উপায় নেই, নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে সংবাদ মাধ্যমেরও! এই পরিস্থিতিতেই সন্ধ্যা ৭.৩০ টা নাগাদ তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পৌঁছলেন নারায়ণগড় ব্লকের কুশবসান গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত জৈতা গ্রামের (গৈতা পোস্ট) মদন দাস। সঙ্গে তাঁর স্ত্রী মাতঙ্গিনী দাস, ভাই সূর্যকান্ত দাস এবং ছেলে ও মেয়ে। গত ২২ জুলাই, তৃণমূল করার অপরাধে বিজেপির লোকেরা তাঁর স্ত্রী’র হাত কেটে দেয় বলে অভিযোগ। দলীয় নেতৃত্বের চেষ্টায়, পিজি থেকে বেঁচে ফিরলেও একপ্রকার পঙ্গুত্ব নিয়ে বেঁচে আছেন মাতঙ্গিনী দেবী! চিকিৎসা খরচ থেকে শুরু করে নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে, দলীয় সমর্থক মদন বাবু প্রিয় দিদির কাছে এসেছেন করুণ আর্তি নিয়ে।

thebengalpost.in
মেদিনীপুর সার্কিট হাউসের সামনে :

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মদন বাবু ও তাঁর পরিবারের কাছ থেকে জানা গেল, গত ২২ জুলাই (২০২০) তৃণমূল কর্মী সূর্যকান্ত দাস (মদন বাবুর ভাই) বাইকে করে ফিরছিলেন। সেইসময় রাস্তায় তাঁকে ঘিরে ধরেন, বিজেপির লোকেরা। বেধড়ক মারপিট শুরু করেন। খবর পেয়ে, মদন বাবু, তাঁর স্ত্রী মাতঙ্গিনী দেবী সহ পরিবারের অন্যান্যরা পৌঁছন। এরপরই বচসা চরম আকার ধারণ করে। বিজেপির লোকেরা ধারালো কোনো অস্ত্র দিয়ে, মাতঙ্গিনী দেবী’র হাতে কোপ বসান। রক্তাক্ত এবং কাঁধ থেকে প্রায় ঝুলে পড়া হাত নিয়ে তাঁরা মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে পৌঁছন। সেখান থেকে রেফার করা হয় কলকাতায়। দলীয় নেতৃত্বের সহযোগিতায় যোগাযোগ করা হয়, যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তিনি পিজি’তে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেন। জটিল অপারেশন হয়। প্রায় মাসখানেক পর সুস্থ হয়ে ফিরলেও, ওই হাত প্রায় ‘অকেজো’ এবং প্লাস্টার করা অবস্থায় আছে। আজ (৬ ডিসেম্বর), সার্কিট হাউসের সামনে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে কাঁদতে কাঁদতে মদন বাবু বললেন, “আমরা দিনমজুর পরিবারের লোক। দলের তরফে প্রথমে সাহায্য পেয়েছি। ফিরে আসার পর, আজ চার মাস চিকিৎসা খরচ থেকে শুরু করে, নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে আছি। এতদিন ধরে দল করছি, শেষ পর্যন্ত যদি দলের সাহায্য না পাই, মরে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই! তাই প্রাণ যায় যাবে, দিদির সঙ্গে দেখা করেই ফিরবো। যদি দিদি কিছু ব্যবস্থা করে দেন, আমাদের পরিবারের জন্য!” রাত্রি সাড়ে ন’টা পর্যন্ত দিদির দেখা মেলেনি! ওখানেই তাঁরা রাত কাটাবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

thebengalpost.in
বিজেপির হাতে অত্যাচারিত পরিবার :

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে