শাহি সভায় ‘মধ্যমণি’ মেদিনীপুরের ভূমিপুত্রই! “তোলাবাজ ভাইপো হঠাও” স্লোগানে শেষের শুরু করলেন শুভেন্দু

বিজ্ঞাপন

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, মেদিনীপুর, ১৯ ডিসেম্বর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাথেই মঞ্চে উঠলেন। বসলেন তাঁর ডান পাশের চেয়ারে। তাঁকে বরণ করে নিলেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী। তিনি বক্তৃতা দিলেন, প্রধান বক্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ঠিক আগে। তাঁর নাম উচ্চারণ থেকে বক্তৃতা, মুহুর্মুহু করতালি আর আবেগ-উচ্ছ্বাসের স্রোত! হ্যাঁ, তিনিই ‘মধ্যমণি’, মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারী। প্রায় ১০ মাসের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে হাতে তুলে নিলেন পদ্ম-পতাকা। কপালে গেরুয়া তিলক, গলায় গেরুয়া উত্তরীয় পরে ঘোষণা করলেন- তাঁর এক মা জন্মদাত্রী গায়ত্রী অধিকারী, অন্য মা দেশমাতৃকা- ভারতমাতা! এছাড়া, তাঁর আর কোনও মা নেই। তিনি মাতব্বরী করতে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি’তে আসেননি! দলের একজন কর্মী হিসেবে, পতাকা লাগানো থেকে দেওয়াল লিখন সবকিছুই করতে প্রস্তুত। কারণ, তিনি ছাত্র-রাজনীতি থেকে উঠে এসেছেন। তিনি সিঁড়ি ভাঙতে উঠেছেন। আর বক্তৃতা শেষ করলেন নতুন স্লোগান দিয়ে, “তোলাবাজ ভাইপো হঠাও”! একবার নয়, তিন তিনবার উচ্চারণ করলেন এই স্লোগান। জনপ্লাবনে তখন আবেগ-উত্তেজনার বিপুল ঢেউ!

thebengalpost.in
শালবনীর কর্ণগড়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যাহ্নভোজন, সনাতন সিংয়ের বাড়িতে :

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নির্ধারিত সময়েই (দুপুর ঠিক ২ টোয়), ঐতিহাসিক কলেজ-কলেজিয়েট ময়দানের সভাস্থলে পৌঁছে যান প্রাক্তন পরিবহনমন্ত্রী তথা মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারী। তার আগেই অবশ্য পৌঁছে গিয়েছিলেন, ‘দাদার অনুগামী’ হিসেবে পরিচিত তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দ। পৌঁছে গিয়েছিলেন তাঁর হাত ধরে বিজেপি’তে আসা ১ জন সাংসদ, ৯ জন বিধায়ক, প্রাক্তন মন্ত্রী, প্রাক্তন সাংসদ, প্রাক্তন বিধায়ক, প্রাক্তন পৌরপ্রধান, জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, একাধিক কর্মাধ্যক্ষ, পঞ্চায়েত সমিতির একাধিক সভাপতি ও সদস্যরা। শুভেন্দু অধিকারী মাঠে প্রবেশ করা থেকেই তীব্র উৎসাহ-উত্তেজনা তাঁকে কেন্দ্র করে। বিজেপি নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে তাঁর অসংখ্য অনুগামী এবং সংবাদমাধ্যম তাঁর কাছে যাওয়ার জন্য আকূল! তখন তিনি মূল মঞ্চের পিছনে টেন্টে অপেক্ষা করছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জন্য। মেদিনীপুরের হবিবপুরে সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তখন শালবনী ব্লকের কর্ণগড়ে অবস্থিত মহামায়ার মন্দির দর্শন ও কৃষক পরিবারে মধ্যাহ্নভোজনের জন্য কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছেন। ঠিক আড়াইটা নাগাদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পৌঁছলেন ঐতিহাসিক কলেজ-কলেজিয়েট ময়দানে। সঙ্গে রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়, কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মুকুল রায় প্রমুখ। ততক্ষণে বক্তৃতায় ঝড় তোলা হয়ে গেছে, ভারতী ঘোষ, লকেট চট্টোপাধ্যায়, রাহুল সিনহা দের। মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারী’কে সঙ্গে নিয়ে মঞ্চে উঠলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তুমুল করতালি’তে ফেটে পড়ল মেদিনীপুর কলেজ-কলেজিয়েট ময়দান!

thebengalpost.in
ঐতিহাসিক কলেজ-কলেজিয়েট ময়দান :

বিজ্ঞাপন

রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও মুকুল রায়ের পর বক্তৃতা দিতে উঠেই শহীদ ক্ষুদিরাম বসু, পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বীরাঙ্গনা মাতঙ্গিনী হাজরা, স্বাধীনতা সংগ্রামী সতীশচন্দ্র সামন্তের মেদিনীপুর’কে প্রণাম জানিয়ে বক্তৃতা শুরু করেন শুভেন্দু। তাঁকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলা তৃণমূল নেতৃত্ব’কে স্মরণ করিয়ে দিলেন, ১৯৯৮-‘৯৯ সালের কথা। বললেন, “অটল বিহারী বাজপেয়ীর আশীর্বাদ ছাড়া সেই সময় বাড়ি থেকে বের হতে পারতেন না! ভুলে গেছেন এনডিএ’র সঙ্গে জোটের কথা? তৃণমূল কর্মী হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছি, বলেছি বিজেপি হঠাও! আজ আমি একজন নিষ্ঠাবান বিজেপি কর্মী। তোলাবাজ সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এসেছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আমার বড় দাদা। আমাকে সুযোগ দিয়েছেন। মুকুল দা আমাকে আত্মসম্মানের কথা বলে বারবার ডাক দিয়েছেন। কোভিড আক্রান্ত হয়েছিলাম যখন ২১ বছরের সহযোদ্ধারা খোঁজ নেয়নি, অমিত জী দু’বার ফোন করেছিলেন। একজন সাধারণ বিজেপি কর্মী হিসেবে কাল থেকেই আপনাদের সাথে হাত হাত মিলিয়ে লড়াইয়ের ময়দানে নামব।” আর বক্তৃতা শেষ করেন, “তোলাবাজ ভাইপো হঠাও” স্লোগান তিন-তিনবার উচ্চারণ করে। তাঁর বক্তৃতার এই শেষ অংশই যে একুশের লড়াই ‘শুরু’র প্রতিধ্বনি হতে চলেছে তা বলাই বাহুল্য!

thebengalpost.in
ঐতিহাসিক কলেজ-কলেজিয়েট ময়দানে বিজেপি’র সভা :

thebengalpost.in
দাদার অনুগামীরা :

বিজ্ঞাপন

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে