দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৪ এপ্রিল: ক্রমেই যেন ফিরছে ২০২০ ‘ র করোনার সব বীভৎস স্মৃতি গুলি! ইতিমধ্যে, সারাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে করোনা আক্রান্তদের আত্মহত্যার খবর আসতে শুরু করেছে! এবার, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনী করোনা হাসপাতালেও ঘটল সেই একই ঘটনা। আর, ফিরল ২০২০’র ২১ শে আগস্টের সেই ভয়াবহ স্মৃতি! বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৪ এপ্রিল) গভীর রাতে (রাত্রি ২-.২.৩০ টা নাগাদ) করোনা আক্রান্ত চিত্তরঞ্জন বেরা (৫৬) হাসপাতালের চার তলার ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্য করেন! তবে, তাঁকে রাত্রি ১ টা – দেড়টা থেকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না বলে জানা গেছে। তন্নতন্ন করে খুঁজে না পেয়ে শালবনী থানার আশ্রয় নেয় কর্তৃপক্ষ। আজ ভোররাতে ওই ব্যক্তির মৃতদেহ হাসপাতালের পেছনের দিক থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এরপরই, হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে। ইতিমধ্যে, ঘাটাল মহকুমার দাসপুরে তাঁর বাড়িতে খবর দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে।


Whatsapp Group এ
এই ঘটনায় জেলা স্বাস্থ্য ভবন এবং হাসপাতালের তরফে এখনও অবধি মুখ খোলা হয়নি, তবে বিভিন্ন সূত্র ধরে জানা গেছে ওই ব্যক্তি গত ২-৩ দিন আগে শালবনী করোনা হাসপাতালে করোনা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও, মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন বলে জানা গেছে। বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫০ উর্ধ্বদের ক্ষেত্রে এটিও কোভিডের অন্যতম লক্ষণ। তাঁর ছেলে অভিষেক বেরা’র সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও, জানা গেছে, আক্রান্তের পরিবার পরোক্ষে স্বীকার করেছে, করোনা পরীক্ষার ফলাফল আসার আগে স্থানীয় চিকিৎসকদের কাছে কিছু ওষুধ পত্র সেবনের পর ঈষৎ অন্যমনস্ক বা ভাবলেশহীন হয়ে পড়েছিলেন! তারপর, রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর তাঁকে শালবনী করোনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে, হাসপাতালের কয়েকজন কর্মী জানিয়েছেন, “উনি প্রায়ই নিজের শয্যা ছেড়ে এদিক ওদিক চলে যাওয়ার চেষ্টা করতেন। প্রতিবারই ধরে আনা হয়েছে। কিন্তু, গতকাল গভীর রাতে ডিউটিতে থাকা কর্মীদের নজর এড়িয়ে কিভাবে ছাদে চলে যান, কেউ টের পায়নি! রাত্রি ২ টো থেকে তাঁকে খোঁজা হয় সর্বত্র, কিন্তু পাওয়া যায়নি। অবশেষে পুলিশ এসে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে।”


এই ঘটনায় উঠছে নজরদারির অভিযোগ। চিকিৎসক, নার্স ছাড়াও কোম্পানির অধীন ১৫০ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মী আছেন, করোনা যোদ্ধা ৬ জন এবং আরও ৫ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মী রোগী সহায়তা কেন্দ্রের দায়িত্বে আছেন, তা সত্বেও ৬০ জন (গতকাল ৫৯ জন ভর্তি ছিলেন বলে জানা গেছে, আজ সকালের জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের হিসেবে ৫১ জন ভর্তি আছেন) রোগীকে কেন পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া গেলনা সেই অভিযোগ তোলা হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে! প্রসঙ্গত, গত ২১ শে আগস্ট (২০২০), হাসপাতালের ছোট্ট একটি কেবিনে ঢুকে বছর ৫৫’র গোপাল ঘোড়ই (সুলতানপুর, খড়্গপুর গ্রামীণ) আত্মহত্য করেছিলেন গলায় নিজের গামছার ফাঁস লাগিয়ে। তিনিও অবসাদগ্রস্ত হয়ে এই কাজ করেছিলেন বলে জানা গেছে। তৎকালীন রাজ্যের কোভিড ওএসডি (Officer On Special Duty) ডাঃ গোপাল কৃষ্ণ ঢালি মেদিনীপুরে এসে স্বীকার করেছিলেন, “কোভিড আক্রান্তরা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন। তাঁদের সাহস দেওয়া ও পাশে থাকা প্রয়োজন।” স্বভাবতই এই ঘটনার পর প্রতিটি হাসপাতালে আবারও একজন করে কাউন্সিলর বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিযুক্ত করার দাবিও উঠছে। শালবনীর এক সমাজকর্মী সন্দীপ সিংহ বললেন, “হাসপাতালের পরিকাঠামো এবং কর্মী এই মুহূর্তে যথেষ্ট। তাই অবিলম্বে ২০০ জনকে সুচিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ করুক প্রশাসন।” এই ঘটনায় জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ শ্যামপদ পাত্র বললেন, “অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ও হৃদয় বিদারক ঘটনা। প্রতিটি ক্ষেত্রে আরও যত্নবান হওয়া প্রয়োজন।”









