দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, কলকাতা, ৬ মার্চ: প্রার্থী তালিকা ঘোষিত হয়েছে গতকাল। তরপর থেকেই দল ছাড়ার হিড়িক পড়ে গিয়েছে! এমনকি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের ‘ছায়াসঙ্গী’ সোনালী গুহও তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন। একইপথে শিবপুরের (বিদায়ী) বিধায়ক জটু লাহিড়ীও। অন্যদিকে, গতকাল তৃণমূল চেয়েছিলেন, নলহাটির বিধায়ক মইনুদ্দিন শামস। আজ তিনি নিজের পুরানো দল ফরওয়ার্ড ব্লকে যোগ দিতে চেয়ে দলীয় কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। তবে, বামেদের দলীয় অনুশাসন অনুযায়ী, আপাতত ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে মইনুদ্দিন শামস’কে। নির্বাচনের পর ভেবে দেখার কথা জানানো হয়েছে তাঁকে। এদিকে, তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিধায়ক বেচারাম মান্না আজ তাঁকে ফোন করেছিলেন বলে দাবি করলেন অধীর চৌধুরী। যদিও, তৃণমূল থেকে সিঙ্গুরের টিকিট পেয়েছেন বেচারাম এবং তাঁর স্ত্রী টিকিট পেয়েছেন হরিপাল থেকে। তা সত্ত্বেও তিনি বাম কংগ্রেস জোটের প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন বলে অধীর বাবুর মত। সিঙ্গুরে শিল্প কলকারখানা না হওয়ায়, সাধারণ সিঙ্গুর বাসী তৃণমূল কংগ্রেস তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর রুষ্ট হয়ে আছে, উপলব্ধি করেই হয়তো বেচারামের এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল!

প্রসঙ্গত, গতকাল দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের ২৯১ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছেন। প্রায় ১৬০ টি নতুন মুখ। ৫০ জন বিধায়ক অর্থাৎ জয়ী প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এরপরই, বিধায়ক কিংবা তাদের অনুগামীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম, মমতার একসময়ের ছায়াসঙ্গী সোনালী গুহ। গতকাল তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে জানিয়েছিলেন, “দিদি এটা কি করল! আমিতো ভাবতেই পারছিনা! আমাকে একাবার জানানোর প্রয়োজনও মনে করেননি দিদি। আমি এখনও ভাবতে পারছিনা, আমাকে দিদি বাদ দিয়ে দিয়েছে! মোহন নস্করকে দিদি চেনেনই না। আমি চাই দিদির শুভবুদ্ধি হোক!” আজ সোনালী যোগাযোগ করলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি মুকুল রায়ের সঙ্গে। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। তবে, প্রার্থী হতে চাননি সোনালী, চেয়েছেন শুধু সম্মানজনক পদ। একইভাবে, বিজেপিতে যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন বর্ষীয়ান বিধায়ক জটু লাহিড়ীও। এছাড়াও, দিকে দিকে ক্ষোভ বিক্ষোভের ছবি উঠে আসছে। এখনও বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন আরাবুল অনুগামীরা। সব দেখে শুনে বিজেপি’র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বললেন, “এই তো হবে খেলা শুরু!”







