মহামারীর মধ্যেই কাজ হারালেন মেদিনীপুর-খড়্গপুরের ৬০০ কর্মী! বন্ধ হয়ে গেল বিদ্যাসাগর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে থাকা একটি কোম্পানি

thebengalpost.in
কোম্পানির সিদ্ধান্তে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন কর্মচারীরা :
.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৬ নভেম্বর: মহামারীর মধ্যেই নেমে এল ঘোর দুঃসংবাদ! জীবিকা হারিয়ে মেদিনীপুর-খড়্গপুর তথা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার প্রায় ৬০০ কর্মী এক অনিশ্চিত অন্ধকারের ডুব দিলেন। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে, খড়্গপুর গ্রামীণের চৌরঙ্গী মোড় লাগোয়া (রূপনারায়ণপুর) “বিদ্যাসাগর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে” অবস্থিত বিআরজি আরভিপিএল নামক একটি স্টিল কোম্পানি। আজ (৬ নভেম্বর), কোম্পানির প্রায় ৬০০ জন কর্মচারী সকাল ৮ টার সময় ডিউটিতে গিয়ে দেখেন, কোম্পানির কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়েছে এবং পুলিশ কর্মীরা কারখানার প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, গতকাল (৫ নভেম্বর) থেকেই কোম্পানি বা কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

thebengalpost.in
কোম্পানির জারি করা বিজ্ঞপ্তি :

.
.

বন্ধ হয়ে গেল, খড়্গপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের মধ্যে থাকা, স্টিল কোম্পানি রবিরন ভিনিময় প্রাইভেট লিমিটেড (আরভিপিএল- Rabirun Vinimay Pvt. Ltd.)। দীর্ঘ সময় ধরে লস বা ক্ষতি নিয়ে চলতে থাকায় এবং ব্যাঙ্কের লোন পরিশোধ করতে না পারায়, কোম্পানির বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ৫ ই মার্চ দ্য ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনাল (NCLT), কলকাতা বেঞ্চ কোম্পানির উদ্দেশ্যে অর্ডার দিয়েছিল, লিকুইডেটর (Liquidator) বা মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করে কোম্পানি বিক্রি করে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে। কিন্তু, তারপরই গত ২৩ শে মার্চ থেকে, বিশ্বজুড়ে মহামারির কারণে লকডাউন শুরু হওয়ায়, কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি, বরং কর্মচারীদের কথা ভেবে যথাসাধ্য সহায়তা করা হয়েছিল। কিন্তু, এই মুহূর্তে কোম্পানি পুনরায় লোকসানের মধ্য দিয়ে চলায় এবং কোম্পানি সঠিকভাবে চালানোর জন্য পর্যাপ্ত ফান্ড বা অর্থ না থাকায়, কোম্পানির সমস্ত কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, গত ৩ রা নভেম্বর। এমনটাই জানানো হয়েছে, কোম্পানির জারি করা নির্দেশিকাতে। গতকাল, ৫ নভেম্বর থেকে কোম্পানি সমস্ত কাজ বন্ধ করে দিল। কর্মচারী বা এমপ্লয়ীদের এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে, আজ জানিয়ে দিলো কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। একই সাথে, জেলা প্রশাসনকেও এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

thebengalpost.in
কোম্পানির সিদ্ধান্তে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন কর্মচারীরা :

.

এদিকে, আজ কোম্পানির কর্মচারীরা এই বিজ্ঞপ্তি দেখে ক্ষোভ ও হতাশায় ফেটে পড়েন! তাঁরা কোম্পানির বা কারখানার গেটের সামনেই অবস্থানে বসে পড়েন এবং অভিযোগ করেন, “দীর্ঘ ৭ বছর ধরে এই কোম্পানিকে পরিষেবা দেওয়ার পর, আজকের এই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া যায় না!” স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় ৬০০ জন কর্মী এর ফলে জীবিকাহীন হয়ে পড়লেন। এই বিষয়ে কোম্পানির বক্তব্য, মহামারীর আগেই এনসিএলটি বা ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ ছিল লোকসানের মধ্য দিয়ে চলা এই কোম্পানি বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে। তবে, মহামারীর সিচুয়েশনে কর্মচারীদের কথা ভেবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। যদিও এই মহামারীর পরিস্থিতি এখনও চলছে এবং ব্যবসাও ক্ষতির সম্মুখীন। ইতিমধ্যে, কোম্পানির কর্মচারীরা নানা দাবিতে বিক্ষোভ করছিল। সেই দাবি পূরণ করাও সম্ভব হয়নি কোম্পানির পক্ষে। তাই, ট্রাইব্যুনালের আইন বা নির্দেশ অনুযায়ী কোম্পানি তার সমস্ত কাজ বন্ধ করল বা ব্যবসা গুটিয়ে নিল। অপরদিকে, কর্মচারীদের বক্তব্য, বিগত ৭ বছর ধরে সামান্য বেতনে তাঁরা কাজ করে এসেছেন। মাত্র সাড়ে তিন হাজার টাকা বেতন দিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। ১২ ঘন্টা ডিউটিও করেছেন কোম্পানির কথা ভেবে। বর্তমানে, তাদের বেতন হয়েছে ৮০০০ টাকা, যা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন! তাই, নিয়মানুযায়ী সঠিক বেতন দেওয়ার দাবি করেছিলেন কয়েকদিন আগে। তবে, কোন বিক্ষোভ আন্দোলন করেননি! তারপর, তাঁদের কিছু না জানিয়ে, হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্ত তাঁরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। এই বিষয়ে, অবিলম্বে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁরা আলোচনায় বসতে চান বলেও জানিয়েছেন। যদিও এখনও পর্যন্ত কোম্পানির পক্ষ থেকে আলোচনার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেই জানা গেছে।

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে