দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, মেদিনীপুর, ২২ নভেম্বর: বিপ্লব, ঐতিহ্য, আদর্শ ও সংস্কৃতির শহর মেদিনীপুর ফের প্রমাণ করল, “মানুষ মানুষের জন্য….!” শহরের এক গৃহবধূ এবং দু’জন সমাজকর্মের মানবিক উদ্যোগে পাশে দাঁড়ালো পুলিশ প্রশাসনও। শহরের ফুটপাত থেকে উদ্ধার করা হল এক ভবঘুরে মহিলাকে। হয়তোবা শীতের রাতে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকেও পরিত্রাণ করা হল! গত, বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মানসিক ভারসাম্যহীন, ভবঘুরে এই মহিলাকে উদ্ধার করা হয়, শহরের বার্জটাউন এলাকা থেকে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই মেদিনীপুর শহরের বার্জটাউন মাঠের এক ধারে বসে ছিলেন মানসিক ভারসাম্যহীন এক ভবঘুরে মহিলা। শীতের দিনে এই কাতর দৃশ্য নজরে এলে, স্থানীয় গৃহবধূ শকুন্তলা সরকারের মন খারাপ হয়ে যায়! তিনি তাঁকে খেতে দেওয়ার পাশাপাশি, তাঁকে উদ্ধারের জন্য হেল্পলাইন নং “১০০” তে ফোন করেন। তাতে বিশেষ সুবিধা না হওয়ায়, বিষয়টি তিনি সমাজকর্মী ফাকরুদ্দিন মল্লিক ও সমাজকর্মী সুদীপ কুমার খাঁড়াকে জানান। ফাকরুদ্দিন মল্লিক বিষয়টি মেসেজ করে থানার পুলিশ আধিকারিকদের জানান এবং এবিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেন। অন্যদিকে, সুদীপবাবু শকুন্তলা সরকারকে মেদিনীপুর কোতয়ালী থানার ফোন নং দেন দিয়ে সরাসরি থানায় ফোন করতে বলেন। পাশাপাশি, সুদীপবাবু মেদিনীপুর পুরসভার আধিকারিক কৌশিক রানা ও পুরসভার এনইউএলএম-এর ম্যানেজার দেবজিৎ সাঁতরাকে বিষটি জানান।

এছাড়াও, সুদীপবাবু শিক্ষক অরিন্দম দাসের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মী সুমন সিংহকেও বিষয়টি জানান। পাশাপাশি, সুদীপবাবু দেবজিৎ বাবুর যোগাযোগ নং শকুন্তলা সরকারকে দেন। শকুন্তলা সরকার ফোনে সরাসরি কোতয়ালী থানায় যোগাযোগের পাশাপাশি ফোনে পুরসভার এনইউএলএম-এর ম্যানেজার দেবজিৎ সাঁতরার সাথে যোগাযোগ করেন। দেবজিৎ সাঁতরাবাবুও কোতোয়ালি থানা ও মহিলা পুলিশ থানাতে বিষয়টি জানান এবং এবিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন। শেষমেষ সকলের সম্মিলিত চেষ্টার ফলস্বরূপ সন্ধ্যা সাতটা চল্লিশ মিনিট নাগাদ পুলিশ সেই ভবঘুরে মহিলাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এই কাজে সহযোগিতা করার জন্য শকুন্তলা সরকার সমাজকর্মীবৃন্দ, পুলিশ-প্রশাসন,পৌর আধিকারিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। উল্লেখ্য শকুন্তলা সরকার “ইচ্ছেডানা” নামে একটি সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন।








