‘পথশ্রী’র পথে ফাটল পশ্চিম মেদিনীপুরে! খড়্গপুরে কাজ বন্ধ করল গ্রামবাসীরা, অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ্যের

thebengalpost.in
খড়্গপুর ১ নং ব্লকে পথশ্রীর এই রাস্তা ঘিরেই অভিযোগ গ্রামবাসীদের :
.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, খড়্গপুর, ২০ অক্টোবর: ‘পথশ্রী’র প্রকল্পে গ্রামের ভেতরে পাকা রাস্তার কাজ চলছে জোরকদমে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়্গপুর ১ নম্বর ব্লকের খেলাড় অঞ্চলের কালশীগেড়িয়া গ্রামেও দিনকয়েক আগে শুরু হয়েছে রাস্তা ঢালাইয়ের কাজ। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে, কালশীগেড়িয়া থেকে বনপাটনা পর্যন্ত রাস্তা ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। কিন্তু, রাস্তা বানানোর জন্য সঠিক পরিমাণে মালপত্র না দেওয়ার অভিযোগে কাজ বন্ধ করে দিলেন গ্রামবাসীরা। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, নিম্নমানের মালপত্র দিয়ে কাজ করার ফলে, যেটুকু রাস্তা তৈরি হয়েছে, তাতে ‘ফাটল’ ধরে যাচ্ছে! বারবার বলার পরেও সঠিক এবং উপযুক্ত পরিমাণে সামগ্রী না দেওয়ার কারণে রাস্তার কাজ বন্ধ করা হয়েছে।

thebengalpost.in
খড়্গপুর ১ নং ব্লকে পথশ্রীর এই রাস্তা ঘিরেই অভিযোগ গ্রামবাসীদের :

.
.

গ্রামবাসীরা জানালেন, মোটামুটি ৩ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হচ্ছে। প্রথম দিন ইঞ্জিনিয়ার এসে জানিয়ে গিয়েছিল, ২ বস্তা চিপস, ২ বস্তা বালির সঙ্গে ১ বস্তা সিমেন্ট দিয়ে, ৮ ইঞ্চির ঢালাই রাস্তা হবে, কিন্তু, এখন দেখা যাচ্ছে, ১ বস্তা সিমেন্টের সঙ্গে ৮-৯ বস্তা চিপস আর বালি দেওয়া হচ্ছে, ফলে রাস্তা শুরুর সাথে সাথেই ফেটে যাচ্ছে! এলাকাবাসী কার্তিক দোলুই বলেন, “দুটো গ্রাম মিলিয়ে রাস্তা তৈরি হচ্ছিল। ইঞ্জিনিয়ার বলে গিয়েছিলেন ৮ ইঞ্চির ঢালাই হবে এবং গুটি, বালি ও সিমেন্ট সঠিক পরিমাণে দিয়ে তৈরি হবে। কিন্তু, এখানে গুটি ও বালির ভাগ বেশি, সিমেন্টের ভাগ কম। অপরদিকে, ৪ ইঞ্চি ঢালাই করা হচ্ছে। সেই কারণে, কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। আমাদের দাবি ওয়ার্ক অর্ডার মেনে রাস্তার কাজ হোক।” আর এক গ্রামবাসী বঙ্কিম দিগাড় বলেন, “প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তা। আমাদের সঠিক মাপ জানানো হয়নি। কাজের ব্যাপারে আমরা বারবার বলছি ওয়ার্ক অর্ডার মেনে কাজ করুন। কিন্তু, বালি ও গুটির ভাগ বেশি দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। আমরা বহুবার প্রতিবাদ করেছি। তাতেও কিছু হয়নি। তাই আমরা বলেছি কন্ট্রাক্টর বা ঠিকাদার’কে ডাকার জন্য। কন্ট্রাক্টর এসে ওয়ার্ক অর্ডার দেখালে কাজ হবে। সুপারভাইজার’কে ফোন করা হলে তিনি বলেছেন, আমি কিছু করতে পারবনা! তাই, আমরা গ্রামবাসীরা মিলে কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি। রাস্তাটা গ্রামবাসীদের জন্যই হচ্ছে, তাই এই অন্যায় আমরা মেনে নেবনা।” এই বিষয়ে জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নির্মল ঘোষ জানিয়েছেন, “কালশীগেড়িয়া থেকে বনপাটনা পর্যন্ত যে কাজটি হচ্ছিল, গ্রামবাসীরা বন্ধ করে দিয়েছে বলে আমি খবর পেয়েছি। সমস্ত বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। আমি জেলা পরিষদের ইঞ্জিনিয়ার’কে বলেছি, যাতে তাড়াতাড়ি তদন্ত করে একটি রিপোর্ট দেন। যদি প্রকৃত অন্যায় হয়ে থাকে তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

.
.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে