দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১২ জানুয়ারি: মেদিনীপুর খড়গপুর উন্নয়ন পর্ষদের (MKDA- Midnapore Kharagpur Development Authority) চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন কেশপুর বিধানসভার বিধায়িকা শিউলি সাহা। সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাপরিষদে অবস্থিত MKDA এর দপ্তরে শিউলি সাহার হাতে দায়িত্বভার তুলে দেন জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এর আগে তিনি MKDA র একজন সদস্য ছিলেন। MKDA চেয়ারম্যান ছিলেন প্রয়াত মেদিনীপুরের বিধায়ক মৃগেন্দ্রনাথ মাইতি। তাঁর প্রয়াণের পর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়, কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহাকে। কয়েক সপ্তাহ আগেই ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, সোমবার দায়িত্ব নিয়ে সেই মুখ্যমন্ত্রী’র প্রতি একরাশ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শিউলি দেবী জানালেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার উপর ভরসা রাখার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।”

এদিকে, বিধায়ক পদ ছাড়াও, দলের জেলা কো-অর্ডিনেটর, মহিলা শাখার সভানেত্রী প্রভৃতি একাধিক পদে আছেন শিউলি। তার সঙ্গে যুক্ত হল, MKDA র চেয়ারম্যানের দায়িত্ব। সর্বোপরি, তিনি মেদিনীপুর-খড়্গপুর এলাকার বাসিন্দা বা ভোটারও নন। তা নিয়ে দলেরই বিভিন্ন মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে সোজাসাপ্টা ভাষায় শিউলি সাহা জবাব দিলেন, “আমাদের দলনেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীই আমাদের অনুপ্রেরণা। তিনি একাধারে সবরকমের দায়িত্ব সামলে চলেছেন। তাঁকে দেখেই তো শেখা। আমরা কাজ করতে জানি। কোনও অসুবিধা হবেনা।” দায়িত্ব নেওয়ার পর শিউলি দেবী এও জানান, “সামনেই বিধানসভা নির্বাচন, যদিও কয়েকমাস সময় আছে, তার মধ্যেই MKDA এর অধীনে যেসব উন্নয়নের কাজ চলছে, তা যাতে থেমে না যায়, তার জন্যই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আমার উপর ভরসা রেখে আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন। সেই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার চেষ্টা করব।”

অপরদিক, আজ (মঙ্গলবার) সকালেই নতুন ধাক্কা দেওয়া হল কাঁথি’র অধিকারী পরিবারকে। দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের (DSDA) চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল, কাঁথি’র সাংসদ শিশির অধিকারী’কে। তার বদলে দায়িত্ব দেওয়া হল রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরি’কে। অনেকেই এই পরিবর্তন’কে স্বাভাবিক বলে মনে করেছেন, কারণ দুই সন্তানের বিজেপি’তে গমণের পর, দলের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে শিশির অধিকারীর। দলের বিরুদ্ধে তিনি ক্ষোভ প্রকাশও করেছেন। এবার, পরবর্তী সিদ্ধান্ত শিশির বাবু কি নেন, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। এখনও তিনি দলের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সভাপতি’র দায়িত্বে আছেন। সেই দায়িত্ব নিজে থেকেই ছাড়েন নাকি দল তাঁকে অব্যাহতি দেয়, সেটা এখন লাখ টাকার প্রশ্ন না হলেও, পরবর্তী প্রশ্ন তো বটেই!








