দ্য বেঙ্গল পোস্ট সম্পাদকীয় প্রতিবেদন: গণতন্ত্রের প্রধান তিনটি স্তম্ভ- আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ এবং শাসন বিভাগ। আর, এই তিনটি স্তম্ভের মূল ভিত্তিই হল জনগণ। কারণ, গণতন্ত্র মানেই হল- জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা, জনগণের শাসন (Of the People, By the People, For the People)। আর, এই জনগণের সঙ্গে যে মাধ্যমের দ্বারা গণতন্ত্রের তিনটি স্তম্ভ সেতুবন্ধ স্থাপন করে (সোজা কথায়, সংযুক্ত থাকে), সেই মাধ্যমকেই বলা হয়, গণমাধ্যম বা মিডিয়া বা প্রেস (Media/Press)। শুধু, সংযোগ সাধন নয়, উপরোক্ত তিনটি বিভাগ বা স্তম্ভ’কে সঠিক ভাবে-সঠিক পথে পরিচালিত হতে দিকনির্দেশ বা সহায়তা করে বলেই, বহু কাল ধরে এই মাধ্যমে “গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ” (Fourth Piller Of Democracy) রূপে ভূষিত করা হয়। ‘উচ্চশিক্ষিতা’ জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপনার নিশ্চয়ই তা জানা আছে! আসলে, আপনি বা আপনারা হলেন সেই প্রজাতির, “অল্পদিনে অধিক অর্জনের ফলে যাঁরা আহ্লাদে আটখানা” হয়ে পড়েন। বিশ্ববরেণ্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বোধহয় আপনাদের কথা ভেবেই লিখে গিয়েছিলেন, “যাহার যোগ্যতা যত অল্প তাহার আড়ম্বর তত বেশি।”

তাই, নিজের অবস্থান থেকে সরে না এসে আপনি যথার্থ কাজ করেছেন! নাহলে, আপনাকে সঠিকভাবে সমীক্ষা করায় একটু অসুবিধা হত, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের সৈনিকদের। ইতিমধ্যে, “প্রেস ক্লাব, কলকাতা” ধিক্কার জানিয়েছে। একাধিক সংবাদমাধ্যম করেছে বয়কট। প্রস্তুত থাকুন, বাকিরাও ধাপে ধাপে সেই পথেই হাঁটবে। আর হ্যাঁ, ‘সর্বজ্ঞানী, সর্ববিদ্যা পটীয়সী’ জনপ্রতিনিধি, আপনি নিশ্চয়ই জানেন, আপনার দল বা দলের মুখপাত্র আপনার বক্তব্যে লজ্জিত! ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের জন্য এমনিতেই আপনি সর্বজনবিদিত। তার সাথে, গোষ্ঠী-কোন্দলে জর্জরিত জেলা সভানেত্রী হিসেবে আর বেশিদিন বোধহয় আপনাকে ‘হীনমন্যতায়’ ভুগতে হবেনা, আপনার প্রাপ্য আপনি খুব তাড়াতাড়িই পেয়ে যাবেন! আর হ্যাঁ, যাদের প্রতিনিধি হিসেবে আপনি ‘কোটি টাকার’ ফুটানি দেখাচ্ছেন, এই দু’পয়সার প্রেস ছাড়া তাদের কাছে পৌঁছে যাওয়ার অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস আপনার নিশ্চয়ই আছে! তাই এই “দু’পয়সার প্রেস” আপনাকে একটা প্রবাদ স্মরণ করিয়ে দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন বলে মনে করল, “পিপীড়ার ডানা ওঠে মরিবার তরে।”







