মিলবে কি মুক্তি? হবে কি স্বপ্নপূরণ হাজার হাজার হবু শিক্ষকের? আগামীকাল জানাবে কলকাতা হাইকোর্ট

বিজ্ঞাপন

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, কলকাতা, ১০ ডিসেম্বর: বহু প্রতীক্ষিত আপার মামলার চূড়ান্ত রায়দান আগামীকাল (শুক্রবার) দুপুর ২ টোয়। বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্যের ৩৯ নং কোর্টে মূল মামলা WP 9597 / 2019 এর সাথে অন্যান্য সমস্ত মামলাগুলোর চূড়ান্ত রায়দান (Judgement) হতে চলেছে আগামীকাল। আর সেদিকেই তাকিয়ে আছেন প্রায় ২৫,০০০ ইন্টারভিউ দেওয়া চাকরিপ্রার্থী।

thebengalpost.in
কলকাতা হাইকোর্টের আগামীকালের মামলার লিস্ট :

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ২০১৪ সালে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ার পর, ২০১৫ সালে আপার প্রাইমারি বা উচ্চ প্রাথমিকের পরীক্ষা হয়। ২০১৬ সালে একইদিনে, প্রাইমারি টেট ও উচ্চ প্রাথমিক টেটের রেজাল্ট প্রকাশিত হয়। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দিলেও, স্কুল সার্ভিস কমিশনের অধীন আপার প্রাইমারি নিয়োগ অধরাই থেকে যায়! ২০১৮ সালে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই নানা মামলা দায়ের হয়।‌ এরপর ২০১৯ এ ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন শুরু হওয়ার পর থেকে মামলার পাহাড় জমতে শুরু করে। অভিযোগ করা হয়, কম নম্বর পেয়েও অনেকে ডাক পেয়েছেন, বেশি নম্বর ধারীরা বঞ্চিত হয়েছেন। এরপর, প্রায় ১ বছর ধরে চলে ভেরিফিকেশন ও ইন্টারভিউ পর্ব। কোর্টের নির্দেশে শর্তসাপেক্ষে মেরিট লিস্ট প্রকাশিত হয়, ২০১৯ এর ৪ ঠা অক্টোবর। কিন্তু, সেই মেরিট লিস্টে নানা দুর্নীতি ও গোলযোগের কারণে, মামলা চলতে থাকে, স্থগিতাদেশ ওঠেনা! অবশেষে, এই বছর (২০২০) পুজোর ঠিক আগে অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে শুনানি সমাপ্ত হয়। বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্য চূড়ান্ত রায়দানের জন্য মূল মামলাটি সংরক্ষিত করেন। বহু প্রতীক্ষিত সেই রায়দান আগামীকাল। হাজার হাজার হবু শিক্ষক ও তাঁদের পরিবারের স্বপ্ন, আকাঙ্খা সবকিছু জড়িয়ে আছে, এই রায়দানের সঙ্গে!

thebengalpost.in
গত ১ লা ডিসেম্বর চাকরি প্রার্থীদের বিক্ষোভের ঢেউ আছড়ে পড়েছিল তিলোত্তমার বুকে :

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি, ডিসেম্বরের ১ তারিখ থেকে ৩ তারিখ পর্যন্ত কলকাতার বুকে আপার প্রার্থীরা বিক্ষোভ ও অনশনে বসেন। সরকারের কাছে তারা দাবি রাখে, টেটের উত্তরপত্র রি-অ্যাসেসমেন্ট বা পুনর্মূল্যায়ন করার যুক্তি বাতিল করে, স্বচ্ছভাবে ২৫,০০০ থেকেই চাকরি দিতে হবে প্রার্থীকেই চাকরি দিতে হবে। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় তাঁদের বলেন, “কোর্ট যেমন রায়দান করবে, সেভাবেই নিয়োগ করা হবে, নির্দেশের দু’সপ্তাহের মধ্যে।” কিন্তু, আপার প্রার্থীরা শিক্ষামন্ত্রী’র এই জবাবে অসন্তুষ্ট হয়ে, আচার্য সদন (এস এস সি) এর সামনে ২ রা ডিসেম্বর রাতেও অনশনে বসে থাকেন। ওই দিন রাতেই পুলিশ জোর করে অনশন তুলে দেয় এবং শীতের রাতে জলকামানের ভয় দেখায়! আপার প্রার্থীরা ৩ রা ডিসেম্বর বাড়ি ফিরে এলেও, নতুন করে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়। এর মধ্যেই আজ (১০ ডিসেম্বর), কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়ে দেয় , আগামীকাল (১১ ডিসেম্বর) দুপুর ২ টোয় চূড়ান্ত রায়দান। সেদিকেই তাকিয়ে স্কুল সার্ভিস কমিশনের ২৫,০০০ শিক্ষক পদ প্রার্থী।

বিজ্ঞাপন

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে