মণিরাজ ঘোষ, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১০ মে: “দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ”! এই বার্তা নিয়েই, করোনা মোকাবিলায় সোমবার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করেছিল শালবনী ব্লক প্রশাসন। বৈঠকে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল, পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিক থেকে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও কর্মাধ্যক্ষদের। এছাড়াও, পুলিশ প্রশাসন তথা ব্লক প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে, উপস্থিত হয়েছিলেন স্থানীয় কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধিরাও। বৈঠকে শালবনী ব্লক প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। একেবারে পঞ্চায়েত স্তর থেকে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এবং করোনা আক্রান্ত পরিবারগুলির পাশে থেকে সংক্রমণ এবং আতঙ্ক নির্মূল করাই যে লক্ষ্য, তা এই বৈঠকে স্থির হয়। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জঙ্গলমহলের এই প্রান্তিক এলাকায় এখনও অধিকাংশ মানুষ করোনার এই দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে সচেতন নন; তার সাথে আছে দারিদ্র্য ও অসহায়তা সহ নানা সমস্যা। ফলে, করোনা প্রতিরোধ করা প্রশাসনের কাছে গত বছরের মতোই নতুন এক চ্যালেঞ্জ রূপে উপস্থিত হয়েছে। সেজন্যই এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন, শালবনীর বিডিও প্রণব কুমার দাস এবং শালবনী থানার আইসি গোপাল বিশ্বাস।


Whatsapp Group এ

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, করোনার এই দ্বিতীয় ঢেউয়ে শালবনীর মতো জঙ্গল অধ্যুষিত এলাকাতেও ব্যাপক আকারে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে! প্রথম ঢেউয়ে যার আশেপাশেও ছিলনা শালবনী। দ্বিতীয় ঢেউয়ে শালবনীতে সংক্রমণের সূত্রপাত অবশ্য বি আর বি বা টাঁকশাল থেকে। এরপর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে সংক্রমণ। সম্প্রতি, একটি গ্রামে গোষ্ঠী সংক্রমণও দেখা দিয়েছে। গত তিন দিনে শালবনীতে সংক্রমিত হয়েছেন ৬৮ (৪০, ১৪, ১৪) জন। এই পরিস্থিতিতে, গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকের আয়োজন করে, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ও পঞ্চায়েত প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করে গ্রামগুলিতে কিভাবে সচেতনতা বাড়ানোর মধ্য দিয়ে সংক্রমণ প্রতিহত করা যায় এবং আক্রান্ত পরিবারগুলির পাশে থাকা যায়, তা নিয়েই আলোচনা হয় বলে জানিয়েছেন বিডিও প্রণব দাস। শালবনী থানার আই সি গোপাল বিশ্বাস জানিয়েছেন, “করোনা আক্রান্ত পরিবারের জন্য গ্রামের কমিউনিটি হলগুলিকে ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে পঞ্চায়েত প্রধানদের। কোনো পরিবারের যে সদস্য সংক্রমিত হবেন, তাঁর যদি স্বল্প উপসর্গ থাকে, তবে কমিউনিটি হলেই আইসোলেশনে রেখে, পরিবারের অন্য সদস্যদের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা যাবে। কারণ, জঙ্গলমহলের এই সমস্ত এলাকায় বেশিরভাগ পরিবারেরই একাধিক ঘর নেই, আইসোলেশনের জন্য। সেক্ষেত্রে বাড়ি থেকে যদি খাওয়ার পৌঁছে দেওয়া যায়, তবে কমিউনিটি হলে অনায়াসে থাকতে পারবেন কয়েকজন।” এছাড়াও, মাস্ক ব্যবহার সহ বিভিন্ন সচেতনতা মূলক প্রচার ও বার্তা দেওয়ার জন্য পঞ্চায়েত গুলির সাথে সাথে, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিকেও আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিডিও ও আইসি। এই বিষয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে শালবনী পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষ থেকেও। সভাপতি মিনু কোয়াড়ি জানান, “আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করব।” উপস্থিত ছিলেন কয়েকজন কর্মাধ্যক্ষ ও পঞ্চায়েত প্রধানও।


এছাড়াও, এদিনের এই বৈঠকে উপস্থিত থেকে, প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে করোনা মোকাবিলায় লড়াই করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধিরাও। উপস্থিত ছিলেন, ‘ছত্রছায়া’র প্রধান নুতন ঘোষ এবং ‘জঙ্গলমহল উত্তরণ ঐক্য’ এর জগন্নাথ পাত্র। সোমবার এই দুই সংস্থার পক্ষ থেকে মাস্ক বিতরণ ও সচেতনতার কর্মসূচির জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল শালবনীর কমলা গ্রামটিকে। যে গ্রামে গোষ্ঠী সংক্রমণের কারণে, ২৮ থেকে ৩০ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে এখনও পর্যন্ত। উপস্থিত ছিলেন জঙ্গলমহল উত্তরণ ঐক্য মঞ্চের সদস্য জগন্নাথ পাত্র, জয়ন্ত দাস, সুজন রয় এবং ছত্রছায়া গ্রুপের নুতন ঘোষ। নুতন বাবু বললেন, “ভয়াভহ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পরেও এই গ্রামে গিয়ে আমরা দেখলাম অনেকের মুখেই মাস্ক নেই! দারিদ্র্য এবং অসচেতন দুইই আছে। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করলাম।”









