দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২২ জানুয়ারি : শীতের স্নিগ্ধতা গায়ে মেখে প্রকৃতি আর পরিবেশকে এই সময় বিশেষভাবে উপভোগ করে মানুষ। কিন্তু, সেই প্রকৃতি আর পরিবেশকেই যখন নিছক খেয়ালের বশবর্তী হয়ে নিধনে মেতে ওঠে কিছু মানুষ, তা নিঃসন্দেহে সুখকর হয়না সমগ্র বাস্তুতন্ত্রের ক্ষেত্রেই। কারণ, মানুষ আর প্রকৃতি পরস্পরের পরিপূরক এই সমগ্র পরিবেশে। শীতকালে এমনিতেই চারপাশের পরিবেশ শুষ্ক বা জলীয় বাষ্প হীন থাকে। ফলে, সামান্য অগ্নিসংযোগেই তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। মেদিনীপুর সদর ব্লক থেকে শুরু করে শালবনী ব্লক, জঙ্গল অধ্যুষিত পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন অরণ্যে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে চলেছে বিগত কয়েকদিন ধরেই। এই অগ্নিকাণ্ড ব্যাপক আকার ধারণ করে, ক্ষতি করছে ছোটোখাটো গাছপালা থেকে জঙ্গলের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পশু কিংবা কীট-পতঙ্গের! ধ্বংস হচ্ছে বাস্তুতন্ত্র। বনদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে, সাধারণ মানুষকে বারবার সচেতন করা সত্ত্বেও তাঁরা অজ্ঞানতা বা নিছক খামখেয়ালিপনার বশবর্তী হয়ে একই ভুল বারবার করছেন। ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশ এবং বাস্তুতন্ত্রের।


প্রসঙ্গত, বুধবার সকাল থেকে রাত্রি পর্যন্ত জ্বলেছে মেদিনীপুর সদর ব্লকের গোপগড় সংলগ্ন লোহাটিকরির জঙ্গল। বনদপ্তর, দমকল ও স্থানীয় মানুষের তৎপরতায় ধীরে ধীরে তা আয়ত্তে আনা হয়েছে। এরপর, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে শালবনী ব্লকের ভাদুতলা রেঞ্জের ভাদুতলা জঙ্গলে। ক্রমশ তা ভয়াবহ আকার ধারন করে। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বনদপ্তরের কর্মী ও আধিকারিকরা। খবর দেওয়া হয় মেদিনীপুর দমকল বাহিনীকেও। দ্রুত দমকলের একটি ইঞ্জিন এসে, প্রায় ঘন্টা দুয়েকের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ভাদুতলা রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার পাপন মোহান্ত জানান, “দমকলের সাফায্যে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বড় ক্ষতি হয়নি। এই সময় শুকনো পাতয় সামান্য আগুন লাগলেই দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ, আশেপাশের দোকানদার সকলকেই এই বিষয়ে সচেতন করা হয়, যাতে বিড়ি-সিগারেট বা জ্বলন্ত দিয়াশলাইয় জঙ্গলের দিকে না ছোঁড়া হয় বা কোনো কারণে যেন আগুন না লাগানো হয়। তা সত্ত্বেও এই ধরনের ঘটনা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক।”









