দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৩ মে: অনলাইন ক্লাসে তফশিলি (SC-ST) শিক্ষার্থীদের প্রতি “কুৎসিত” ও “অবমাননাকর” মন্তব্য করে সারা দেশ জুড়ে সমালোচিত হয়েছিলেন আইআইটি খড়্গপুর (IIT Kharagpur) এর কলা ও সমাজ বিজ্ঞানের অধ্যাপিকা সীমা সিং। তদন্ত শুরু করেছিল আইআইটি খড়্গপুর (IIT Kharagpur) কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক তদন্তে, গত ১০ ই মে ওই অধ্যাপিকাকে সাময়িক সময়ের জন্য সাসপেন্ড বা বরখাস্ত করেছিল খড়্গপুর আইআইটি কর্তৃপক্ষ। এবার, ওই অধ্যাপিকার বিরুদ্ধে সুয়োমটো বা স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হল খড়্গপুর টাউন থানায়। তফশিলি জাতি ও উপজাতি নিপীড়ন বিরোধী আইন’ ১৯৮৯ অনুযায়ী এই মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানা গেছে পুলিশ সূত্রে। কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় এসটি কমিশনের নির্দেশে রাজ্য সরকার এই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করে বলে জানা গেছে। এরপরই, সুয়োমটো মামলা রুজু করা হয় অভিযুক্ত অধ্যাপিকার বিরুদ্ধে।


Whatsapp Group এ

প্রসঙ্গত, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে (সূত্রের খবর অনুযায়ী, ১৬ ই এপ্রিল ও ২৩ শে এপ্রিলের অনলাইন ক্লাসে) তফশিলী সম্প্রদায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য যে প্রশিক্ষণের ক্লাস চলছিল, সেখানেই কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে কুৎসিত ও অবমাননাকর মন্তব্য করেন ওই অধ্যাপিকা। অনলাইন ক্লাসের ওই ভিডিও নিমেষে ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল। চাপের মুখে তদন্ত কমিটি গঠন করে আইআইটি খড়্গপুর কর্তৃপক্ষ। এদিকে, তফশিলি জনজাতি কমিশনও বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে। গত ২৯ শে এপ্রিল তাঁদের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারের মুখ্যসচিব এবং মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়। প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়ার পর, খড়্গপুর টাউন থানাকে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। সেইমতো, গত ২১ শে মে, শুক্রবার খড়্গপুর টাউন থানায় তফশিলি জাতি ও উপজাতি নিপীড়ন বিরোধী আইন’ ১৯৮৯ অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানা গেছে।


উল্লেখ্য যে, কলা ও সমাজ বিজ্ঞানের অধ্যাপিকা সীমা সিং তফশিলী সম্প্রদায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতি ক্লাসে পড়ুয়াদের লক্ষ্য করে বলেন, “ইউ ব্লাডি….গো টু হেল ( You Bloody Ba__rd…go to hell)!” আর, এই ক্লাসের ইউটিউব ভিডিও নিমেষে ভাইরাল হয় এবং দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। বর্তমান থেকে প্রাক্তন, অধ্যাপক থেকে শিক্ষাবিদ সকলেই এর কড়া সমালোচনা করেন! তবে, ওই অধ্যাপিকা সপরিবারে করোনা সংক্রমিত হওয়ায়, সেই সময় তাঁর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পড়ুয়াদের কাছ থেকে জানা গিয়েছিল, ওই অধ্যাপিকার মনে হয়েছিল যে জাতীয় সঙ্গীত (National Anthem) চলার সময় কিছু পড়ুয়া উঠে দাঁড়ায়নি! তাই অধ্যাপিকা সীমা সিং ওই শব্দটি “প্রয়োগ” করেছেন ওই ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে। ভিডিওতে স্পষ্ট হয়েছিল, অধ্যাপিকা রীতিমতো ‘সজাগ’ হয়েই ওই মন্তব্য করেছিলেন, কারণ তাঁকে স্পষ্ট ভাষায় হুমকি দিতে শোনা গিয়েছিল “তোমরা যে কোনও জায়গায় অভিযোগ জানাতে পার…কেন্দ্রীয় নারী-শিশুকল্যাণ কিংবা এস-এসটি-মাইনরটি (সংখ্যালঘু) উন্নয়ন মন্ত্রক। আমার কিছু যায় আসে না, আমি আমার সিদ্ধান্তে অনড়!” এক্ষেত্রে হয়তো ওই অধ্যাপিকা, জাতীয় সঙ্গীতের সময় উঠে দাঁড়ানোর কথা বলতে চেয়েছেন। যদিও পড়ুয়াদের দাবি ছিল, তাঁরা সকলেই উঠে দাঁড়িয়েছিলেন। এরপরই, দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছিল। সম্প্রতি, ১০ ই মে ওই অধ্যাপিকাকে সাময়িক সময়ের জন্য সাসপেন্ড করে আইআইটি খড়্গপুর কর্তৃপক্ষ। রেজিস্ট্রার তমাল নাথ জানিয়েছিলেন, “তদন্তকারী কমিটির প্রাথমিক রিপোর্ট পাওয়ার পর সাসপেন্ড করা হয়েছে। প্রক্রিয়া অনুসারে পরবর্তী তদন্ত হবে (The IIT Kharagpur Registrar Tamal Nath said, “Seema Singh has been suspended after getting the report of the fact-finding committee. She will resume only after further orders are issued. The inquiry will follow after this suspension as per the procedures.”)।” সেই সাসপেনশন এখনও চলছে। আর, তার মধ্যেই তফসিলি জাতি-উপজাতিদের উপর অত্যাচার বা নিপীড়ন প্রতিরোধ আইনে ওই অধ্যাপিকার বিরুদ্ধে সুয়োমটো মামলা দায়ের করা হল খড়্গপুর টাউন থানায়।








