দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১ ডিসেম্বর: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঐকান্তিক উদ্যোগে, প্রত্যেক রাজ্যবাসীর বাড়ির ‘দুয়ারে’ সরকারি পরিষেবা দিতেই অভিনব কর্মসূচি- “দুয়ারে সরকার”, আজ (১ ডিসেম্বর) থেকেই শুরু হল। বিধানসভা নির্বাচনের মুখে জনতার ক্ষোভ প্রশমনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের রীতিমতো মাস্টার স্ট্রোক এই “দুয়ারে সরকার”। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনহিতকর কর্মসূচি গুলি সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ। ইতিমধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রতিটি পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে, শুধু ‘স্বাস্থ্য সাথী’ নয়, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলি থেকে এখনও অধিকাংশ সাধারণ মানুষ বঞ্চিত বলে প্রায়শই অভিযোগ উঠে আসছে। শাসকদলের পরামর্শদাতা পিকে’র টিম’কে এজন্য বিভিন্ন জায়গাতে অপদস্থ হয়েছে সাধারণ মানুষের কাছে। ‘তফশিলি সংলাপ’ এর গাড়ি আটকে মানুষ বিক্ষোভ দেখিয়েছে। আর, এই ধরনের বিক্ষোভ প্রশমনেই, হয়তোবা ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোর বা পিকে’রই মস্তিষ্ক প্রসূত এই “দুয়ারে সরকার” কর্মসূচি! জেলাশাসকদের “জন অভিযোগ প্রতিবিধান শিবির” এর পর তাই, বিধানসভার ঠিক মুখে রাজ্য সরকারের এই “দুয়ারে সরকার” কর্মসূচি ভোট রাজনীতির ক্ষেত্রে ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হলেও, হয়ে যেতে পারে। স্বাস্থ্য সাথী, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, শিক্ষাশ্রী, ঐক্যশ্রী, খাদ্যসাথী, তপশিলি বন্ধু, কৃষক বন্ধু, জয় জোহার প্রভৃতি প্রকল্পগুলিতে এবার সরাসরি সাধারণ মানুষ নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। এবার থেকে আর বিভিন্ন অফিসে ছোটাছুটি করতে হবে না, প্রশাসনের আধিকারিকরাই এবার আপনার ‘দুয়ারে’ (পড়ুন, এলাকায়) ফর্ম নিয়ে পৌঁছে যাবেন। সেই প্রক্রিয়া আজ থেকেই শুরু হয়েছে। চলবে আগামী দু’মাস।

অন্যান্য জেলার সাথে সাথে, পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর, খড়্গপুর, ঘাটাল তিনটি মহকুমাতেই আজ থেকে শুরু হয়েছে ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচি। মেদিনীপুর সদর ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় এবং খড়্গপুর পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে, প্রশাসনের তরফে ক্যাম্প তৈরি করে মানুষকে এই পরিষেবা দেওয়া শুরু হয়েছে। ৩১ শে জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিটি এলাকায় চারবার (১৫ দিন ছাড়া) এই ক্যাম্প বা শিবির অনুষ্ঠিত হবে। এই কর্মসূচি সম্পর্কে খড়্গপুরের মহকুমাশাসক আজমুল হোসেন বললেন, “রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পগুলিতে যদি সাধারণ মানুষ এখনও পরিষেবা না পেয়ে থাকেন, বা প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত না হয়ে থাকেন তবে সরাসরি এই ক্যাম্প থেকে, নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে, ১৫ দিনের ব্যবধানে আমরা চারবার বসবো। যদি কোন সমস্যা থাকে, প্রশাসন সেই সমস্যার সমাধান করবে।” দুয়ারে সরকার অনুষ্ঠিত হয়েছে, শালবনী ব্লক, চন্দ্রকোনা ব্লক, গড়বেতা ব্লক, দাঁতন ব্লক থেকে শুরু করে প্রতিটি ব্লকের বিভিন্ন এলাকায়। আগামী ৩১ শে জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি।







