মণিরাজ ঘোষ, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৯ মেদিনীপুর: করোনা ভ্যাকসিন নেওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহ ও সচেতনতার অভাব লক্ষ্য করা গিয়েছিল, একাংশ পুলিশকর্মী, সরকারি আধিকারিক সহ প্রথম সারির করোনা যোদ্ধাদের মধ্যে। ভ্যাকসিন নেননি সংবাদমাধ্যমের সকল প্রতিনিধিরাও। অনেকের মনের মধ্যেই রয়েছে ভ্যাকসিন-ভীতি বা আতঙ্ক! তাই, গতকাল পর্যন্ত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ভ্যাকসিন নিয়েছিলেন মাত্র ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ করোনা যোদ্ধা। এর মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মী বা স্বাস্থ্যযোদ্ধাদের হারই সর্বাধিক বলে জানা গেছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে। প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি স্বাস্থ্যকর্মী ইতিমধ্যে করোনা ভ্যাকসিন’কোভিশিল্ড’ নিয়েছেন বলে জানা যায়। এই পরিস্থিতিতে, প্রথম সারির করোনা যোদ্ধাদের ভ্যাকসিনেশনে উৎসাহিত করতে আজ ভ্যাকসিন নিলেন স্বয়ং পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক ডঃ রশ্মি কমল। এছাড়াও, ভ্যাকসিন নিয়েছেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কার) তুষার সিংলা সহ একাধিক আমলা ও আধিকারিক বৃন্দ। আর এর ফলও মিললো হাতেনাতে! একদিনে ভ্যাকসিন নিলেন জেলার ১২০০ জন Front Line Warrior বা প্রথম সারির করোনা যোদ্ধা। এই পরিসংখ্যান যে একপ্রকার রেকর্ড, তা উচ্ছ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর।

মেদিনীপুর শহরের শরৎপল্লীতে অবস্থিত জেলা স্বাস্থ্য ভবন সংলগ্ন পৌর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আজ ভ্যাকসিন নিলেন স্বয়ং জেলাশাসক ডঃ রশ্মি কমল। ভ্যাকসিন নেওয়ার পর তিনি জানালেন, “ভ্যাকসিন নিয়ে অহেতুক ভীতির কোনও কারণ নেই। এখনও পর্যন্ত জেলায় ভ্যাকসিন নেওয়ার পর কেউই অসুস্থ হননি। সকলেই সম্পূর্ণভাবে সুস্থ আছেন। প্রথম সারির করোনা যোদ্ধাদের সকলেরই উচিত ভ্যাকসিন নিয়ে নেওয়া। আমরাও আজ ভ্যাকসিন নিলাম এবং সম্পূর্ণ সুস্থ আছি।” এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিমাই চন্দ্র মন্ডল, উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী সহ স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিক বৃন্দ। উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী জানালেন, “মাননীয়া জেলাশাসক স্বয়ং আজ ভ্যাকসিন নিলেন। এছাড়াও অতিরিক্ত জেলাশাসক’রাও ভ্যাকসিন নিয়েছেন। তাঁদের দেখে উৎসাহিত হয়ে, অন্যান্য আধিকারিক সহ প্রথম সারির ১২০০ জন করোনা যোদ্ধা আজ ভ্যাকসিন নিলেন! প্রত্যেকেই সুস্থ আছেন। জেলায় এখনও পর্যন্ত একজনের শরীরেও নূন্যতম জটিলতা দেখা দেয়নি, ভ্যাকসিনেশনের কারণে।” প্রসঙ্গত, জেলার স্বাস্থ্যযোদ্ধা হিসেবে প্রথম দিনই ভ্যাকসিন নিয়েছিলেন, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক, উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক, মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ প্রমুখ।








