দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৯ মে: করোনার মৃত্যু-ঝঞ্ঝা লন্ডভণ্ড করে দিচ্ছে কত পরিবারকে! গত ৪৮ ঘন্টাতেও জেলায় করোনা সংক্রমিত হয়ে প্রয়াত হয়েছেন ১৪ জন; শুধুমাত্র জেলার ৬ টি করোনা হাসপাতালে। এর বাইরেও একাধিক জন প্রয়াত হয়েছেন কলকাতা কিংবা শহরের বেসরকারি হাসপাতালে। মঙ্গলবার রাতে SUCI এর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা কমিটির সদস্য জগন্নাথ দাস করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে। ক্যালকাটা হার্ট ক্লিনিক এন্ড হসপিটালে চিকিৎসারত অবস্থায় গতকাল রাত্রি ৯ টা ১৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, ছাত্রাবস্থায় তিনি বাম নেতা শিবদাস ঘোষের চিন্তাধারায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সংগঠনের কাজ শুরু করেন এবং পরবর্তীকালে সবং ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ভয়ংকর বন্যা প্রতিরোধে নদী সংস্কারসহ বহু সমস্যা নিয়ে গণসংগ্রামের মধ্য দিয়ে এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ আন্দোলনের ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি একাধারে SUCI এর রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক ছিলেন। তাঁর প্রয়াণে দলীয় কর্মীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।


Whatsapp Group এ

অপরদিকে, গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার বিকেলে শহরের এক বেসরকারি হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হয়েছেন শহরের অত্যন্ত নামকরা একজন গৃহশিক্ষক। তিনি বায়োলজি বা জীববিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। সূত্রের খবর অনুযায়ী, সম্প্রতি তিনি করোনা আক্রান্ত হয়ে মেদিনীপুরের শহরের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তবে, কিছুদিন চিকিৎসার পর রিপোর্ট নেগেটিভও হয়ে যায়। তা সত্ত্বেও হঠাৎ করেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। মঙ্গলবার সকালে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, প্লাজমা ছাড়া রোগীকে বাঁচানো সম্ভব নয়! দুপুর থেকেই শহরের বিভিন্ন সমাজকর্মী প্লাজমা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কয়কেঘন্টার মধ্যে ১-২ জন ডোনারের সন্ধানও পাওয়া যায় বলে জানালেন শহরের একজন সুপরিচিত সমাজকর্মী ও শিক্ষক। তবে, ডোনার পৌঁছনোর সময় টুকুও পাওয়া যায়না। বিকেল ৪ টা নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মধ্যচল্লিশের ওই শিক্ষক! এই ঘটনায় ওই শিক্ষকের অসংখ্য গুণগ্রাহী, শুভানুধ্যায়ী ও ছাত্র-ছাত্রীরা শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছেন।









