করোনা সংক্রমিত জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের সরকারি প্রতিনিধি কৃষ্ণেন্দু বিশই, দাপট অব্যাহত মেদিনীপুর-খড়্গপুরে, সংক্রমণ বাড়ল গোয়ালতোড়, ডেবরাতেও

.

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১০ নভেম্বর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত তিনদিনে জেলায় মোট করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ২০১ জন (৭ নভেম্বর- ৮৯, ৮ নভেম্বর- মাত্র ২৪ জন এবং ৯ নভেম্বর- ৮৮ জন)। স্বাস্থ্য ভবনের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই, ২০১ জন সংক্রমিতের মধ্যে অধিকাংশই র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে পজিটিভ হয়েছেন। সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী (গতকাল রাতের), জেলায় মোট সংক্রমিতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৮৪৭। তবে, সুস্থতার হার প্রায় ৯২ শতাংশ। এই মুহূর্তে চিকিৎসাধীন আছেন ৯৩৪ জন। এখনো পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ২১৪ জনের। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন, ১৩৬৯৯ জন। এদিকে, গতকাল (৯ নভেম্বর) রাতের করোনা রিপোর্ট অনুযায়ী পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় যে ৮৮ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন, সেই তালিকায় আছেন, জেলার অন্যতম করোনা যোদ্ধা তথা শাসক দলের জনপ্রতিনিধি (পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ) কৃষ্ণেন্দু বিশই (৪০)। তিনি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের সরকারি প্রতিনিধিও। গতকাল র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে তাঁর রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে বলে জানা যায় স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, লকডাউনের প্রথম দিন থেকেই, করোনা সংক্রমিত পরিবার থেকে শুরু করে পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে ছিলেন তিনি। কনটেইনমেন্ট জোনে পৌঁছে গিয়ে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ থেকে শুরু করে, রান্না করা খাবার বিতরণ, সবকিছুতেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। গত কয়েকদিন ধরে, জ্বর ও সর্দি কাশিতে কাবু হয়েছিলেন তিনি। এরপরই, করোনা টেস্ট করালে রিপোর্ট পজেটিভ আসে। তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন, শুভানুধ্যায়ীরা।

thebengalpost.in
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে উদ্বোধন হল এইচডিইউ (HDU) ইউনিটের :

.
.

প্রসঙ্গত, গত তিনদিনে, মেদিনীপুর শহর ও শহরতলীতে করোনার দাপট অব্যাহত আছে। ২০১ জন সংক্রমিতের মধ্যে, মেদিনীপুর শহর ও শহরতলীতেই ৪৭ জন। গত ৭ নভেম্বর যে ২৭ জন জন সংক্রমিত হয়েছেন, তাঁরা যথাক্রমে ধর্মার একটি পরিবারের দম্পতি (৪০ ও ৩৪), বিধাননগরের একই পরিবারের দুই সদস্য সহ মোট ৩ জন, রাঙামাটির ৩ জন এবং নজরগঞ্জ (১), রামকৃষ্ণনগর (১), বিধাননগর (১), মিরবাজার (১), কুইকোটা (১), গোপগড়ের (১) বাসিন্দা। এছাড়াও, গুড়গুড়িপাল থানা এলাকার ৫ জন ও কোতোয়ালী থানা এলাকার আরো ৮ জন‌ করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। অপরদিকে, গত ৮ নভেম্বর, জেলার ২৪ জনের মধ্যে মেদিনীপুর শহরে যে ৬ জন‌ করোনা সংক্রমিত হয়েছেন, তাঁরা হলেন যথাক্রমে ধর্মা, আবাস, দারিবাঁধ, বটতলা, হবিবপুর ও যমুনবালীর বাসিন্দা। অন্যদিকে, গতকাল (৯ নভেম্বর) রাতে মেদিনীপুর শহর ও শহরতলীতে যে ১৪ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন, তাঁরা যথাক্রমে- রবীন্দ্রনগরের এক দম্পতি (৭০ ও ৬১), গোলকুঁয়ারচকের দুই ব্যক্তি (৫০ ও ৫৯), ধর্মার ২ জন এবং মহতাবপুর, বল্লভপুর, মাইকেল মধুসূদন নগর, কোতবাজার এর ১ জন করে বাসিন্দা। এছাড়াও, গুড়গুড়িপালে ২ জন এবং কোতোয়ালী থানা এলাকায় ১ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন।

thebengalpost.in
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে উদ্বোধন হল এইচডিইউ (HDU) ইউনিটের :

.

অপরদিকে, গত তিনদিনে খড়্গপুর শহর ও গ্রামীণে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন যথাক্রমে ১৯, ৪ ও ১১ (মোট ৩৪) জন। এর মধ্যে, একদিকে যেমন রেল এলাকায় বা রেলকর্মীরা করোনা সংক্রামিত হয়েছেন; ঠিক তেমনই মালঞ্চ, ইন্দা, মিরপুর, ঝপেটাপুর, ভগবানপুর, হিজলী প্রভৃতি এলাকায় একাধিক জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। অপরদিকে, গত তিনদিনে ডেবরা বালিচক, পিংলা, ডেবর সহ বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকজন করোনা সংক্রামিত হয়েছেন। গত ৭ নভেম্বর ৭ জন, ৮ নভেম্বর ১ জন এবং ৯ নভেম্বর ৮ জন‌ সহ মোট ১৬ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। অপরদিকে, সবংয়ে ১ জন (সিঁদুরমারি) এবং শালবনীতে ১ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। গোয়ালতোড়ের কিয়ামাচাতে গত ৭ নভেম্বর ১ জন এবং গতকাল, ৯ নভেম্বর গোয়ালতোড় থানার কিয়ামাচা, মধুপুর, পিংবনী, গাডরা, ছাতনী, বালিবাঁধ ও গোয়ালতোড় মিলিয়ে ৭ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। এছাড়াও, গত ৩ দিনে ঘাটাল মহকুমায় প্রায় ২৫ জন, গড়বেতা থানা এলাকায় ৬ জন এবং চন্দ্রকোনারোড এলাকায় ৮ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। বেলদা, কেশিয়াড়ি ও দাঁতন এলাকায় কয়েকজনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে গত তিনদিনে।

.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে