দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৯ এপ্রিল: গত চব্বিশ ঘণ্টায় সারা দেশে ও রাজ্যে আরও বাড়ল করোনা সংক্রমণ! সোমবার সকালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বুলেটিন অনুযায়ী দেশে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২ লক্ষ ৭৩ হাজার ৮১০ জন। মৃত্যু হয়েছে ১৬১৯ জনের। দুটি পরিসংখ্যানই এখনও পর্যন্ত সর্বাধিক! অন্যদিকে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় রাজ্যেও ভয়াবহ সংক্রমণের ঢেউ আছড়ে পড়েছে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় সংক্রমিত হয়েছেন ৮৪১৯ জন। মৃত্যু হয়েছে ২৮ জনের। গত চব্বিশ ঘণ্টায় কলকাতা ও উত্তর চব্বিশ পরগণায় সংক্রমণ পরিস্থিতি আরও মারাত্নক আকার ধারণ করেছে। শুধু কলকাতাতেই সংক্রমিত হয়েছেন ২১৯৭ জন, মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। উত্তর ২৪ পরগণায় সংক্রমিত হয়েছেন ১৮৬০ জন, মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। দুই বর্ধমান, বীরভূম, মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদীয়ার অবস্থাও ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে! পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, দুই মেদিনীপুরেও বাড়ছে সংক্রমণ।


Whatsapp Group এ
অপরদিকে, সোমবার সকালে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, জেলায় নতুন করে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ৭১ জন। এর মধ্যে, রেলশহর খড়্গপুরে রেলের একাধিক কর্মী সহ ১৫ জন এবং খড়্গপুর গ্রামীণের (মাদপুর) ১ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। মেদিনীপুর শহরে নতুন করে ১১ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। ডেবরা’তে ফের ৮ (বালিচক, ট্যাবাগেড়িয়া, ডেবরা-২, হায়পাঠ, পানিগেড়িয়া, আষাড়ি, ঠাকুরচক) জন এবং শালবনী’তে ৩ (শালবনী বিআরবি, শালবনী, ভাদুতলা) জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। ঘাটাল মহকুমায় ফের ২২ জন (ঘাটাল ৬ দাসপুর ১১ চন্দ্রকোনা ৫) করোনার কবলে পড়েছেন। অপরদিকে, গড়বেতায় ২ জন, গোয়ালতোড়ে (পিংবনী) ১ জন, সবংয়ে (শীতলদা, বুড়াল) ১ জন এবং বেলদায় ১ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন গত চব্বিশ ঘণ্টায়। অপরদিকে, গত ৪৮ ঘন্টায় জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের হিসেবে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে নোভেল করোনা ভাইরাসের আক্রমণে। শনিবার রাত থেকে রবিবার বিকেলের মধ্যে যে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল, তার মধ্যে ঘাটাল মহকুমার ৪ জন ছিলেন। ১ জন ছিলেন খড়্গপুরের এবং অপর ১ জন ছিলেন শালবনী চকতারিনীর (তথ্য গ্রহণে সামান্য ভুল হওয়ায়, শালবনীর পরিবর্তে ঘাটাল করা হয়েছিল)। উল্লেখ্য যে, গতকাল বিকেল নাগাদ মৃত্যু হয় ৫৯ বছর বয়সী শালবনী চকতারিনীর এক প্রৌঢ়ার। তবে, তাঁর কিডনির সমস্যা ছিল বলে জানা গেছে। এদিকে, গতকাল সন্ধ্যা নাগাদ খড়্গপুরের যে ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে তাঁরও নানা কো-মর্বিডিটি ছিল বলে জানা গেছে।


অন্যদিকে, মেদিনীপুর শহরেও কো-মর্বিডিটির হাত ধরে দ্বিতীয় ঢেউয়ে প্রথম মৃত্যু’র ঘটনা ঘটল! অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে, মারণ ভাইরাসের কবলে মাত্র ৪৫ বছরেই স্ত্রী (৪৩) ও একমাত্র পুত্র (১৩) কে রেখে বিদায় নিলেন মেদিনীপুরের এক যুবক। পেশায় ঠিকাদার ওই যুবক শহরের মানিকপুর (বড়বাজার সংলগ্ন) এলাকার বাসিন্দা। গতকাল (১৮ এপ্রিল) সকালে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়! প্রসঙ্গত, তাঁর পরিবারের সকল সদস্যই করোনা আক্রান্ত হয়েছেন গত ৪ ঠা এপ্রিল। স্ত্রী, পুত্র ছাড়াও তাঁর ৭৩ বছর বয়সী বাবার রিপোর্ট পজিটিভ আসে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী। এরপর, তাঁর স্ত্রী’কে ভর্তি করা হয় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের করোনা বিভাগে (HDU-SARI Unit এ)। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, তিনি প্রায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন! কিন্তু, ওই যুবক নিজে (প্রয়াত ওই ঠিকাদার) এবং তাঁর বৃদ্ধ বাবা ভর্তি হয়েছিলেন কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে। দু’জনেরই শ্বাসকষ্টের সামান্য সমস্যা থাকায় তাঁরা কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি হননি বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে। কিন্তু, শেষরক্ষা হলনা! ৪৫ বছর বয়সী যুবক প্রাণ হারালেন মারণ ভাইরাসের নিষ্ঠুর আক্রমণে! সূত্রের খবর অনুযায়ী, তাঁর বাবা এখনও ওই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাঁরও শারীরিক অবস্থার বিশেষ উন্নতি হয়নি বলেই ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে। সবমিলিয়ে, অতিমারীর মারাত্মক আক্রমণে শহরের একটি পরিবারের এই মর্মান্তিক পরিণতিতে শোকের ছায়া পরিচিত মহলে!










