“এই সময়ে ভয় পেলে চলবেনা, রোগীর আরো কাছে যেতে হবে”, জেলার করোনা হাসপাতাল পরিদর্শন করে বার্তা দিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্তা

.

মণিরাজ ঘোষ, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৭ নভেম্বর: “ভয় পেলে চলবেনা, রোগীর আরো কাছে যেতে হবে, সমস্ত ধরনের প্রোটেকশন নিয়ে হলেও খুব কাছ থেকে রোগীকে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। করোনা নিয়েই এখনো বেশ কিছুদিন থাকতে হবে, সুতরাং এই সময়ে করোনা সংক্রমিত রোগীদের যদি সঠিক চিকিৎসা পরিষেবা না দেওয়া হয়, তাহলে সেটা একেবারেই ঠিক হবেনা!” আজ (১৭ নভেম্বর), মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্বাস্থ্য বিষয়ক একটি মিটিং করার পর, উপস্থিত সাংবাদিকদের জেলার করোনা পরিষেবা নিয়ে এই বার্তাই দিলেন, রাজ্যের উচ্চপদস্থ স্বাস্থ্যকর্তা তথা করোনা সংক্রান্ত বিভাগের ওএসডি (Officer on Special Duty) ডাঃ গোপাল কৃষ্ণ ঢালি। তিনি বলেন, জেলার করোনা চিকিৎসা পরিষেবা এই মুহূর্তে যথেষ্ট ভালো, তবে আরও ভালো ও ত্রুটিমুক্ত করতে হবে, ‘যেটা করা সম্ভব’। আজকে দুই মেদিনীপুরে ও ঝাড়গ্রাম জেলার করোনা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে, উপস্থিত হয়েছিলেন ডাঃ ঢালি। পূর্ব মেদিনীপুরের বড়মা হাসপাতাল পরিদর্শন করে তিনি দুপুর দেড়টা নাগাদ পৌঁছন, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার লেভেল ফোর করোনা হাসপাতাল শালবনীতে। এরপরই তিনি পৌঁছে যান, মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। সেখানেই, জেলার স্বাস্থ্য কর্তা ও মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, সুপার ও চিকিৎসকদের নিয়ে ঘণ্টাখানেকের একটি বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি।

thebengalpost.in
শালবনী করোনা হাসপাতাল পরিদর্শনে রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্তা :

.
.
thebengalpost.in
বিজ্ঞাপন :

জেলার লেভেল ফোর করোনা হাসপাতাল পরিদর্শন করে, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন OSD ডাঃ গোপাল কৃষ্ণ ঢালি। শালবনী করোনা হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা সম্পর্কে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি জানান, “আগের থেকে অনেকটাই ভালো। তবে, আরও ভালো করতে হবে। যেটা না করার কিছু নেই। করা সম্ভব। সেই বিষয়ে চিকিৎসকদের সাথে কথা হয়েছে। ওনারা আমাকে আশ্বস্ত করেছেন।” তিনি এও বলেন, “আমি নিজে যদি জেলায় জেলায় দৌড়ে গিয়ে সরাসরি করোনা রোগীর সাথে কথা বলতে পারি, সিসিইউ’র ভেতরে গিয়ে চিকিৎসা পরিষেবা খুঁটিয়ে দেখতে পারি, তাহলে চিকিৎসকেদেরও ভয় পেলে চলবে না, রোগীর আরও কাছে পৌঁছে গিয়ে দেখতে হবে, তাঁর সমস্যা কোথায়, কতটুকু অক্সিজেন লাগবে, সিটি স্ক্যানের প্রয়োজন কিনা। চিকিৎসা করতে করতেই নিত্য নতুন আবিষ্কার করতে পারবেন জুনিয়র চিকিৎসকেরা। বড়মা করোনা হাসপাতালে আজ এরকম একটি অভিজ্ঞতা হয়েছে আমাদের। জুনিয়র চিকিৎসকেরা যাতে আরও উৎসাহিত হয়ে চিকিৎসা পরিষেবায় অংশগ্রহণ করতে পারে, সেজন্যই বার বার ছুটে আসছি।” প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এর আগে ডাঃ ঢালি গত ২২ শে আগস্টও মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে এসে বৈঠক করেছিলেন। এবার মেডিক্যালে এইচডিইউ ইউনিট উদ্বোধন হওয়াতেও তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। জেলার মৃত্যুর হার ধাপে ধাপে কমছে বলেও জানান তিনি। এদিন, রাজ্য স্বাস্থ্য কর্তার সঙ্গে পরিদর্শন ও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিমাই চন্দ্র মন্ডল, উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী এবং মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ পঞ্চানন কুন্ডু, ডিস্ট্রিক্ট ক্লিনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর ডাঃ কৃপাসিন্ধু গাঁতাইত, মেডিক্যাল কলেজের সুপার ডাঃ তন্ময় কান্তি পাঁজা প্রমুখ।

thebengalpost.in
সাংবাদিকদের মুখোমুখি ডাঃ গোপাল কৃষ্ণ ঢালি :

.
.

জেলা থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশ প্রতি মুহূর্তের খবরের আপডেট পেতে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক বুক পেজ এবং যুক্ত হোন Whatsapp Group টিতে