দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, কলকাতা, ২৩ জানুয়ারি: পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ (West Bengal Board of Primary Education) এর বিরুদ্ধে বারবার নানা অভিযোগে সরব হয়েছেন যোগ্যতাসম্পন্ন চাকরি প্রার্থীরা। এবার, টেট (২০১৪) পাস এবং সবরকম যোগ্যতা থাকা প্রার্থীরা বঞ্চনা ও প্রতারণার অভিযোগে সরব হয়েছেন! টেট পাস, প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত, স্নাতকে ৫০ শতাংশ নম্বর প্রাপ্ত এবং বয়স ৪০ এর মধ্যে থাকা সত্ত্বেও সেসমস্ত চাকরিপ্রার্থীরা ‘অ্যাপ্লিকেশন আই ডি’ (Application ID) না থাকার জন্য (নভেম্বর মাসের অনলাইন ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশনে অংশগ্রহণ করতে না পারায়) অনলাইনে আবেদন করতে পারেননি ৬ ই জানুয়ারি (২০২১)’র মধ্যে, পর্ষদের নির্দেশ মতো তাঁরা ৯ ও ১০ জানুয়ারি (২০২১) অফলাইনে আবেদন জমা করেও ইন্টারভিউতে ডাক পাননি বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে পর্ষদ একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, যোগ্যদের নাম বের করে দেওয়া (‘ওয়েবসাইটে তুলে দেওয়া হয়েছে’) হয়েছে! কিন্তু, ওই সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমেই ৯ ও ১০ জানুয়ারি দু’দিন অফলাইনে আবেদন জমা করার বিষয়ে পর্ষদ জানিয়েছিল। অথচ, তারপর থেকে পর্ষদ এই সংক্রান্ত কোনো বিজ্ঞপ্তি পর্ষদের ওয়েবসাইটে (wbbpe.org) জারি করেনি বলে আবেদনকারীরা জানিয়েছেন। এই বিষয়ে তাঁরা পর্ষদের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘প্রতারণা’র অভিযোগ এনেছেন! তাঁদের মতে, ৫ ই জানুয়ারি রাতে প্রায় ২০০ জনের নাম বের করলেও, তারপর আর কোনও নাম বের করা হয়নি, পর্ষদের ওয়েবসাইট থেকেই তা পরিষ্কার। যদি ওই সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া পর্ষদ কর্তার বক্তব্য সত্যি হয়, তবে পর্ষদ কর্তা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করেছেন!

প্রসঙ্গত, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ ২০১৪ টেট পাস এবং ট্রেনিং (ডিএলএড ও বিএড) থাকা প্রার্থীদের গত ২৫ শে নভেম্বর থেকে ১ লা ডিসেম্বর, এই ৭ দিনের মধ্যে অনলাইনে ডকুমেন্ট বা তথ্য জমা করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্ধারিত সাত দিনে যারা জমা করেছিলেন তাদের একটি Application ID দেওয়া হয়েছিল, যারা কোভিড বা অন্যান্য অসুস্থতা ও সার্ভার বা ইন্টারনেটের সমস্যা সহ বিভিন্ন কারণে ডকুমেন্ট জমা করতে পারেননি, তাঁরা এই Application ID পাননি। এরপর, ২৩ শে ডিসেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ যে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করে এবং ২৩ শে ডিসেম্বর থেকে ৬ ই জানুয়ারির মধ্যে আবেদন করার কথা বলে, সেখানে এই সমস্ত প্রার্থীদের মধ্যে যাদের Application ID ছিল তাঁরাই আবেদন করতে পেরেছিলেন, বাকিরা পারেননি। এরপরই, আন্দোলন শুরু করেন কিছু প্রার্থী। ২৮ শে ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারির মধ্যে যে সমস্ত প্রার্থীরা কোনোরকম বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই পর্ষদে ডকুমেন্ট জমা করে এসেছিলেন, তাদেরকে ৫ ই জানুয়ারি রাতে Application ID দেওয়া হয়। এই সংখ্যা টা ২১০ জনের কাছাকাছি। তাদের মধ্যে কিছুজন ৬ ই জানুয়ারি অনলাইনে আবেদন করতে পারলেও, কিছুজন পারেননা বিভিন্ন কারণে! আর, জেলার বিভিন্ন প্রান্তে থাকা যে সমস্ত টেট পাস চাকরিপ্রার্থী’রা এই আন্দোলনের খবরই পাননি, এরকম প্রায় হাজারখানেক প্রার্থীও ৬ ই জানুয়ারির মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে পারেননি। এই সমস্ত প্রার্থীরা একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ দেখান ৬ ই জানুয়ারি ও ৭ ই জানুয়ারি। ফের নড়েচড়ে বসে পর্ষদ। এই সমস্ত হাজারখানেক প্রার্থীকে ৯ ও ১০ জানুয়ারি, একটি সর্বভারতীয় পেপারে খবর দিয়ে ডাকা হয় এবং ডকুমেন্ট জমা করতে বলা হয়। এরপর, দু’দিনে প্রায় হাজারখানেক প্রার্থী তা জমা করেন, সন্ধ্যা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে। তবে, জমা দেওয়ার কোনও প্রামাণ্য নথি দেওয়া হয়না! এদিকে, ১৭ ই জানুয়ারি ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেলেও, এই প্রার্থীদের ডাকা হয়নি বা এখনও পর্যন্ত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে Application ID দেওয়া হয়নি। ফের, গত কয়েকদিন তারা পর্ষদে গেলে বলা হয় ওয়েবসাইটে নজর রাখার কথা। আর আজকের সর্বভারতীয় পেপারের খবর অনুযায়ী তাঁরা রীতিমতো দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন এবং পুনরায় আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন!







