দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২০ নভেম্বর: সূর্য ষষ্ঠী থেকে ‘ছট’ (বা ছঠ)। পণ্ডিতদের মতে, ষষ্ঠী নামের অপভ্রংশ হল, ছট বা ছঠ। ছট পূজা (বা ছঠ পূজা) প্রধানত হিন্দু বর্ষপঞ্জীর কার্তিক মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে উদযাপিত একটি প্রাচীন হিন্দু পার্বণ। সূর্য এবং তাঁর পত্নী ঊষা দেবী (ছটি মাইয়া)’র উপাসনায় পালিত একটি অনুপম লৌকিক উৎসব। মূলত, পূর্ব ভারতের বিহার, ঝাড়খণ্ড, পূর্ব উত্তরপ্রদেশ এবং নেপালের তরাই অঞ্চলে উদযাপিত হয়ে থাকে। কিন্তু, কালক্রমে যেকোনো ‘উৎসব’ ই ধীরে ধীরে সর্বজনীন কিংবা বিশ্বজনীন হয়। তা সে বাঙালির ‘দুর্গোৎসব’ ই হোক, খ্রিস্টানদের ‘বড়দিন’ কিংবা শিখদের ‘গুরুপূর্ণিমা’। তাই, বর্তমানে কেবল হিন্দিভাষী নয়, আপামর হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছেই ‘ছট’ও হয়ে উঠেছে অন্যতম পালনীয় উৎসব। করোনা আবহের মধ্যেও, প্রশাসন বা আদালতের ‘গণ্ডী’ অতিক্রম করে তাই উৎসবে মেতে উঠলেন আপামর রাজ্যবাসী। নদীর তীরে বা কোনো বড় জলাশয়ে ছটি মাইয়ার আরাধনায় মেতে ওঠেন বাড়ির মহিলারা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আজ (২০ নভেম্বর), দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম সহ রাজ্যের সর্বত্র মহানন্দে পালিত হল ছটপূজা।


Whatsapp Group এ


পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ক্ষেত্রে মূলত খড়্গপুরের হিন্দিভাষী বা অবাঙালিরা এই উৎসব সাড়ম্বরে পালন করে থাকেন। প্রশাসনিক নজরবন্দী’র মধ্যে এবারও তাঁরা উচ্ছ্বাসের সঙ্গেই পালন করলেন ‘ছট পূজা’। একইরকম উৎসাহের সঙ্গে এবার ছট পূজা মহা উদ্দীপনার সাথে পালিত হল, শহর মেদিনীপুর থেকে জঙ্গলমহলের শালবনীতেও। মেদিনীপুর ও খড়্গপুর শহরের ক্ষেত্রে মূলত কংসাবতী নদী’কে কেন্দ্র করে ছট পূজা বা সূর্য ও ঊষার আরাধনায় মেতে ওঠেন অবাঙালি হিন্দু মহিলারা। করোনা আবহের মধ্যে এবার প্রশাসনের নজরদারিতে কংসাবতী নদীর বিভিন্ন পাড়ে ছট উৎসব পালিত হল দুই শহরেই। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন, কাজেই এই উৎসবকেও পুরোদস্তুর ব্যবহার করলেন শাসক ও বিরোধীরা। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৃণমূল সভাপতি অজিত মাইতি থেকে শুরু করে বিধায়ক প্রদীপ সরকার, মেদিনীপুর পৌরপ্রশাসক মণ্ডলীর সদস্য নির্মাল্য চক্রবর্তী প্রমুখ সকলেই হিন্দিভাষীদের এই অনুষ্ঠানে যোগদান করলেন, শুভেচ্ছা জানালেন। পিছিয়ে থাকলেন না, বিরোধী দল বিজেপি ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন গুলিও।











